1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
অপরাধীদের অভয়ারণ্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:১৪ অপরাহ্ন

অপরাধীদের অভয়ারণ্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

অপরাধীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। ৩৩ টি ক্যাম্পে ৩২ টি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপের অপতৎপরতা দিন দিন বেড়েই চলছে। প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার মধ্যে সশস্ত্র জঙ্গিগোষ্ঠীর সংখ্যা পাঁচ হাজারের অধিক, আর তাদের নিরস্ত্র সমর্থক রয়েছে লক্ষাধিক। এমনটা তথ্য নিশ্চিত করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা নেতা।

 

উখিয়া ও টেকনাফে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্পের একটি বড় অংশ খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, অস্ত্র, মাদক পাচার, চোরাচালানসহ নানা অপরাধে জড়িত। অপরাধের আখড়ায় পরিণত রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ড্রোন ক্যামেরা এবং ওয়াচ টাওয়ারের মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।এত কিছুর পরও গত পাঁচ বছর পাঁচ মাসে ১৩৬ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে। মামলা হয়েছে ৫ হাজার ২২৯টি।

জানা যায়, ২০১৮ সালে মে মাসে দেশব্যাপী শুরু মাদকবিরোধী অভিযানে কক্সবাজারে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ২৭৯ জন প্রাণ হারিয়েছে। এদের মধ্যে রোহিঙ্গা ১০৯ জন। নিহত রোহিঙ্গাদের মধ্যে তিনজন নারীও ছিলেন।

রোহিঙ্গারা শুধু নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি নয়, রোহিঙ্গাদের হামলায় এ পর্যন্ত ১১ বাংলাদেশিও নিহত হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণের শিকারও হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো উখিয়া এবং টেকনাফে এখন রোহিঙ্গারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। বাংলাদেশিরা সেখানে এখন সংখ্যালঘু। সে কারণেই শরণার্থী ক্যাম্পের পরিস্থিতি কতদিন নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকবে তা নিয়ে উদ্বেগ উৎকন্ঠায় স্থানীয়রা। তাই প্রত্যাবাসন বিলম্ব হলে ক্যাম্পের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততোই খারাপ হবে বলে ধারণা করছেন কক্সবাজারের সচেতন মহল। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শরণার্থী শিবিরে সংঘাত, ডাকাতি, ধর্ষণ, অপহরণ, খুন যেন স্বাভাবিক চিত্র। রোহিঙ্গারা নিজেরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য এবং স্থানীয়দের ওপর ও হামলা করছে প্রতিনিয়ত।

রোহিঙ্গা বিষয়ক জাতীয় টাস্কফোর্সের তথ্যমতে, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার উপস্থিতি ছিল। কিন্তু ক্যাম্পগুলোয় প্রতি বছর ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা শিশু জন্মগ্রহণ করছে। সে হিসেবে পাঁচ বছর পাঁচ মাসে ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম হয়েছে ২ লাখ ৫০ হাজারের মতো। এ নিয়ে মোট রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখের বেশি।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭২ জন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। ২০২২ সাল পর্যন্ত নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ৯ লাখ।, যদি ও বা এ সংখ্যা ১৪ লাখের বেশী।কারণ এ সাড়ে পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা। এর আগে ২০১৬ সালের অক্টোবরে রাখাইন প্রদেশ থেকে পালিয়ে আসেন কমপক্ষে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা।

এদিকে ১৫ জানুয়ারী (রবিবার) সকাল ১১টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কেন্দ্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি সহ অন্যান্য সদস্যরা।

জানা গেছে, ওই বৈঠকে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে করণীয় নিয়ে বিশেষ আলোকপাত হয়। সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন,রোহিঙ্গাদের অপরাধ কঠোর হাতে দমন করা হবে। কোন রকমের বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবেনা।

এপিবিএন-১৪ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি সৈয়দ হারুন উর রশিদ বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পের চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারের পাশাপাশি চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে। অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গে সম্পৃক্তদের গ্রেফতারের আওতায় আনা হয়।

তিনি আরও বলেন, পারিবারিক সহিংসতা ছাড়াও মাদক, অস্ত্র, ছিনতাই, অপহরণ ও খুনের মতো ঘটনা বেশি হয় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। অপরাধ করার পর কেউ কেউ জিরো পয়েন্টে থাকা ক্যাম্পে অবস্থান নেয়। এতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তবে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে যৌথভাবে কাজ করছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মায়ানমার জান্তাবাহিনী চায়না রোহিঙ্গারা ঐক্যবদ্ধ থাকুক। কারণ রোহিঙ্গারা একত্রিত থাকলে প্রত্যাবাসনের পথ সুগম হয়। অন্যদিকে রোহিঙ্গা গনহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে গাম্বিয়ার করা মামলাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করাই হচ্ছে মায়ানমার সরকারের মূখ্য উদ্দেশ্য। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র, মাদক ও অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে অস্তিরতা তৈরি করতে পারলেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মায়ানমার সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপ মুক্ত হতে চায়।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও সাবেক মিশন প্রধান মেজর (অবঃ) এমদাদুল ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গারা সংঘবদ্ধ থাকলে মায়ানমার কে চরম বেকায়দায় পড়তে হয়, বিশ্ব পরিমন্ডলে।তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত নির্মোহ ভাবে।

কক্সবাজার জেলার পিপি অ্যাডভোকেট ফরিদুল আলম বলেন, বিগত যে কোনো সময়ের চেয়ে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মামলার হার বেড়েছে। কক্সবাজারের বিভিন্ন আদালতে ২ হাজারের মতো মামলা চলমান। এর বেশির ভাগই মাদক, হত্যাচেষ্টা, হত্যা, চাঁদাবাজি, চোরাচালান ও অপহরণের মতো ঘটনার। চলমান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া চলছে।

কক্সবাজারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানের মুখে ২০১৭ সালে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটা অংশ ২০১৮ সালের শুরু থেকে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে। এর পর থেকে গত পাঁচ বছরের অধিক সময়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে একে একে ১৩৬ টির মতো খুনের ঘটনা ঘটে।

এছাড়া মাদক, অস্ত্র, ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত, অপহরণ, হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, মানব পাচার, সোনা চোরাচালানসহ ১৪ ধরনের অপরাধের অভিযোগে ৫ হাজার ২২৯টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামি কয়েক হাজার রোহিঙ্গা।

সবশেষ সাত মাসে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে খুন হন ৩১ জন। খুনের শিকার হওয়া রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই বিভিন্ন ব্লকের মাঝি ও জিম্মাদার। এ খুনগুলোর জন্য মিয়ানমারভিত্তিক সংগঠন আরসাকে অভিযুক্ত করা হয়।

জানা যায়, ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে রোহিঙ্গাদের শীর্ষ নেতা ও তাদের অধিকার আদায়ের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের চেয়ারম্যান মুহিব উল্লাহকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসাকে দায়ী করে আসছিল। এরপর ২২ অক্টোবর ১৮ নম্বর ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় সশস্ত্র হামলা চালিয়ে গুলি করে ছয়জন ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

এসব বড় ঘটনার পরেও একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটলেও তা ঠেকানো যাচ্ছে না। এমনকি রোহিঙ্গা শিবিরে রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মির (আরসা) উপস্থিতির বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এলেও এতো দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সরকারের পক্ষ থেকে তা অস্বীকার করা হয়।

সর্বশেষ ১৩ জুন পুলিশের দেয়া রোহিঙ্গা নেতা মুহিব উল্লাহ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থী শিবিরে আরসা সদস্যদের উপস্থিতি স্বীকার করে পুলিশ।

ওই তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, মুহিব উল্লাহকে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনীর নির্দেশে হত্যা করা হয়। মুহিব উল্লাহ আরসা প্রধানের চেয়ে জনপ্রিয় নেতা হয়ে যাচ্ছিলেন বিধায় তাঁকে হত্যা করে আরসার সদস্যরা। মুহিব উল্লাহর সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটসের কারণে আরসার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ক্যাম্পের ভেতরে দিনের বেলায় এক রকম চিত্র থাকলেও রাতের বেলায় চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন। দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল থাকলেও রাতে অরক্ষিত থাকে রোহিঙ্গা ক্যাম্প। তাই রাতের আঁঁধার নামার সাথে সাথেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র পদচারণা শুরু হয় বলেও জানান ১২ নং ক্যাম্পের শরণার্থী রবি আলম।

ক্যাম্পের ভেতর বাইরে ৩২টি সংঘবদ্ধ সশস্ত্র দলের খবর জানিয়েছে একটি সূত্র। তবে আরসা বা হারাকা আল ইয়াকিন, আরএসও, ইসলামী মাহাজ ছাড়া ও নবী হোসেন গ্রুপ হাকিম বাহিনী,মুন্না গ্রুপ ছালামত বাহিনীসহ বিভিন্ন সংগঠনের নামে এক ধরনের তৎপরতার খবর পাওয়া যায় ক্যাম্প সমূহে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ক্যাম্পগুলোতে ১৪ লাখের বেশি আশ্রিত মিয়ানমারের নাগরিক বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার কারণে বিপুল পরিমাণ বনভূমি ও পরিবেশ নষ্ট হয়েছে। তারা গাছ কাটার মাধ্যমে বনভূমি হ্রাস এবং এলাকার পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, প্রতি বছর ৪৫ হাজারের বেশি শিশুর জন্মগ্রহণ করছে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।

ইতোমধ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে সরকারের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধাসহ ৩০ হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে আশ্রয় দিয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট