1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
পোড়া রোগী বাড়ছে রামেকে - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:৪৫ অপরাহ্ন

পোড়া রোগী বাড়ছে রামেকে

রাজশাহী ব্যুরো
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৬ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৩৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে আগুনে পোড়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তিব্র শীতে আগুনের সংস্পর্শে এসে শরীরে উষ্ণতা ছড়াতে গিয়েই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটছে। কেউ আবার গরম পানিতে গোসল দিতে গিয়ে ঝঁলসে যাচ্ছে। এভাবেই অসাবধানতার ফলে দুর্ঘটনার শিকার হয়ে প্রতিদিনই রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে রোগী ভর্তি হচ্ছে। শীত মৌসুমে বেড়েছে রোগীও। ভর্তি রোগীদের একটি বড় অংশই গভীর পোড়া নিয়ে আসছেন। যাদেরকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।

 

বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকরা বলছেন, শীত আসলেই পোড়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এবার সংখ্যাটা একটু বেশিই মনে হচ্ছে। যে রোগীরা আসছেন তাদের অধিকাংশই একটু সচেতন হলে দুর্ঘটনা এড়াতে পারতেন। আবার দুর্ঘটনার শিকার হয়ে হাসপাতালে না এসে বাইরে হাতুড়ে ডাক্তারদের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার ফলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের জন্য বরাদ্দ ৫০টি শয্যার বিপরীতে ২৪টি ব্যবহার করা হচ্ছে। সবগুলো বেডেই রোগী আছে। দিন শনিবার এই ইউনিটে ৪০ জন রোগী ভর্তি ছিলেন।

এই ইউনিটে একটু পরপর রোগীর চিৎকার আর আর্তনাদ ভেসে আসছে। কখনো পরিবারের প্রিয় মানুষটিকে হারিয়ে স্বজনদের আহাজারিও নিত্যই ঘটছে বলে জানাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সূর্যরিকণ এলাকার বাসিন্দা মোসা. বেগম। তার বয়স ৬০ বছর। সংসারের কাজ শেষে চুলায় আগুন পোহাতে গিয়ে আগুন লেগে শরীরের অর্ধেক পুড়ে গেছে।

তার নাতনী মিরিআরা খাতুন জানান, তার নানী গৃহিণী। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে আগুন পোহাতে গিয়ে পুড়ে গেছেন। গত ৪ জানুয়ারি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়েছে। মুখমন্ডলসহ কোমরের নিচে সবকিছু পুড়ে গেছে।

আরেকজন রোগী শিশু আল আমিন। তার বয়স মাত্র ২ বছর। তাদের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর। বাবা কৃষি কাজের পাশাপাশি শীত মৌসুমে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করেন। গুড় তৈরির সময় গরম রস পড়ে আল আমিনের দুই হাত ও দুই পা পুড়ে গেছে। তার বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, সকালের দিকে গরম চুলায় ছেলের মা রস জাল দিচ্ছেলো। ছেলে পাশে খেলাধুলা করছিলো। হঠাৎই গরম রসে পড়ে যায়। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। তার শরীরের প্রায় ১৪ শতাংশ পুড়ে গেছে।

রামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান ডা. আফরোজা নাজনীন বাংলা টাইমসকে বলেন, শীত মৌসুমে অগ্নিদগ্ধ রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে। একারণে পরিস্থিতি সামাল দেয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। গত ১৫ দিনে প্রচুর রোগী ভর্তি হয়েছে। হাসপাতালেই মারা গেছে ৫ জন। যারা সবাই আগুন পোহাতে গিয়ে পুড়ে যায়।

তিনি জানান, গত নভেম্বর মাসে হাসপাতালে পোড়া রোগী ভর্তি হয়েছে ৭৯ জন। এরমধ্যে দুই জন হাসপাতালে মারা গেছে। ডিসেম্বরে ১১৪ জন রোগী পোড়া রোগীর মধ্যে ৪ জন মারা গেছে। এছাড়া জানুয়ারি মাসের গত ১৫ দিনে ৫৬ জন পোড়া রোগী ভর্তি হয়েছে।

রোগীদের অসাবধানতার কারণে অধিকাংশ রোগী অগ্নিদগ্ধ হয়েছে উল্যেখ করে তিনি বলেন, হাসপাতালের মৃত্যু সংখ্যাটা প্রকৃত মৃত্যুর চিত্র তুলে ধরে না। কারণ হাসপাতালে ৩০ শতাংশ বা এর বেশি বার্নের রোগী আসলে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। অনেক রোগীই ঢাকায় রেফার্ড করতে হয়। অনেক রোগীর স্বজন বুঝেই যান, তার রোগী বাঁচবে না। তখন বাসায় নিয়ে চলে যায়। আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পথেও অনেক রোগী মারা যায়। এছাড়া ঢাকায় যে সকল রোগী রেফার্ড করা হয়, সেখানে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার হার নেহাতই কম। তাই সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই। শীতকালে পোড়া রোগী ও মৃতের সংখ্যা বেড়ে যায়। কিন্তু একটু সচেতন হলেই অনাকাক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো যেতে পারে। বিশেষ করে গরম পানি হাঁড়িতে না বহন করে বালতি বহন করলে দগ্ধ হওয়ার আশঙ্কা কম। সবচেয়ে বেশি সমস্যা দেখা যায় গ্রামে। আগুন পোহানো ও শিশুদের চড়ুইভাতিতে আগুন জ্বালিয়ে রান্না করতে গিয়ে অনেক দুর্ঘটনা ঘটছে। এক্ষেত্রে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি পরিবারিক নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। গরম পানি, চা, রস বা চুলার কাছে কোনোভাবে শিশুদের না নেওয়ার পরামর্শও দেন এই চিকিৎসক।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী বাংলা টাইমসকে জানান, শীতের সময়ে বার্নে রোগী বেড়ে যায়। তখন চিকিৎসা দিতে বেশ বেগ পেতেও হয়। তবে বার্ন ইউনিটের দোতলা ভবনকে চারতলা করা হবে। টাকাও বরাদ্দ হয়েছে। চারতলা হয়ে গেলে সেখানেই ওটি এবং আইসিইউ হবে। আর চিকিৎসক ও লোকবল সংকট তো আমাদের আছেই। সেটা মন্ত্রণালয়ে জানানোও হয়েছে। তবে সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চটা দিয়েই কাজ করা হচ্ছে।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট