1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
দুর্নীতির তদন্ত বন্ধ রাখতে অভিযোগ ছিঁড়ে ফেলার কথা এমপির! - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৫৮ অপরাহ্ন

দুর্নীতির তদন্ত বন্ধ রাখতে অভিযোগ ছিঁড়ে ফেলার কথা এমপির!

বিশেষ প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২৩
  • ৫১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুল ইসলামের দায়িত্বপালনকালে এডিবির কাজের দুর্নীতির অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে ছিঁড়ে ফেলার চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন একই আসনের (কুমিল্লা-৭) এমপি ডা: প্রাণ গোপাল দত্ত। এ সংক্রান্তে প্রায় এক মিনিটের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত দলীয় নেতারা বিষয়টি স্বীকার করলেও ওই এমপি দাবি করেছেন তাঁর বক্তব্য ‘এডিট’ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

 

দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি চান্দিনায় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন শেষে বিকালে উপজেলা সদরের পশ্চিম বাজারে হাজী আলী ম্যানশনে সাবেক পৌর মেয়র মফিজুল ইসলামের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে যান এমপি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। এ সময় তাঁর সাথে বেশ কিছু দলীয় নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও’র শুরুতে এমপি প্রাণ গোপালকে বলতে শুনা যায়, ‘এ আসন আমি কাউকে দেব না, আমি পারি না আওয়ামী লীগের অফিসের তালা ভেঙ্গে তোমাদের নিয়ে অফিস দখলে নিতে? এসময় সেখানে উপস্থিত এক আওয়ামীলীগ নেতা ওই এমপিকে বলেন, ‘আপনি মেয়র সাহেবকে (মফিজুল ইসলাম) ওপেন করতে পারেন না?’ জবাবে ওই এমপি বলেন, ‘এখানে ওপেন ক্লোজ বড় কথা না, বড় কথা হচ্ছে, আমি বলতে পারি আমার দ্বারা তার কোন ক্ষতি হবে না, বরং আরও অনেক উপকার করে ফেলেছি।’

সাবেক ওই মেয়রের এডিবির কাজের দুদকে অভিযোগের প্রসঙ্গে টেনে এমপি বলেন, ‘এডিবির কাজের বিষয়ে তদন্ত গিয়েছিল, বহু লোকে লিখছে, তোমার (মফিজ) ঘরের লোক লিখছে, সেই জিনিসপত্র (অভিযোগ) ছিঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে, অসুবিধার কি আছে।’ এমন বক্তব্যের পর গত দুইদিন ধরে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে।

এ সময় ওই কার্যালয়ে উপস্থিত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বলেন, ‘দাদা (এমপি) সরল বিশ্বাসে অনেক কথার ফাঁকে মেয়রকে দলীয় লোক হিসেবে সকল সহায়তার কথা বলতে গিয়ে হয়তো অসাবধানতাবশত ‘অভিযোগ ছিড়ে’ ফেলার কথা বলেছেন, এ আসন কাউকে দেবেন না বলেছেন, একজন এমপি হিসেবে এসব কথা বলা হয়তো উচিত হয়নি, কিন্ত এখন তা ছড়িয়ে দিয়ে দলেরই ভাবমূর্তি নষ্ট করা হচ্ছে।’

এ বিষয়ে চান্দিনা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, দাদা (এমপি) যখন কথা বলেন অনেকেই ভিডিও করেন, আমরা তো বাঁধা দিতে পারিনি। তিনি আরও বলেন, মেয়র থাকাকালনী সময়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে একটি রাস্তার কাজ নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধের জেরে কিছু লোক দুদকে অভিযোগ করেছিল। ওইদিন দাদা (এমপি) এ বিষয়ে আমাকে সহযোগিতার কথা বলেছেন। তবে ছিঁড়ে ফেলেছেন কি-না বিষয়টি আমার জানা নেই। জনগণের জন্য আমি কাজ করেছি, কোন দুর্নীতি করিনি। প্রমাণ হলে দায়ভার মাথা পেতে নেব।

ওই সভায় উপস্থিত উপজেলার বাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম ভূইয়া বলেন, ‘যে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে, তা তিনি দেখেছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য হয়তো কেউ ভিডিও করে ছড়িয়ে দিয়েছেন, তবে এটা ঠিক হয়নি।

তিনি আরও বলেন, চান্দিনা উপজেলায় আওয়ামীলীগে ৩টি ভাগ রয়েছে। দুই ভাগ সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এর ছেলে মুনতাকিম আশরাফ টিটুর পক্ষে এবং অপর এক ভাগ দাদার (এমপি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত) লোক। সাবেক মেয়রকে খুশী করার জন্য হয়তো এটা বলতে পারেন। আবার বাড়িয়েও বলতে পারেন।’

এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি আলী আকবর মাসুম বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে আগামীদিনে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে। ঠিক তেমনিভাবে জনপ্রতিনিধিদের প্রতি সাধারণ মানুষের যে আস্থা ও বিশ্বাস, তা ক্ষুন্ন হবে। একজন সংসদ সদস্য ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি প্রকাশ্যে জনসমক্ষে এমন কথা বলেন, তাহলে শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে না, অপরদিকে তার উপরেও একটি বড় ধরণের অভিযোগ দাঁড় করায়। আর এটি যদি যথার্থ অর্থেই সত্যি হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে বলতে হবে- তিনি এ কাজটি করতে পারেন না। আর এটা করা নিঃসন্দেহে তারা এখতিয়ারের বাইরে এবং তার আইনানুগ যে অবস্থান, তার বাইরে তাকে সেটা সমর্থন করে না।’

তবে এ বিষয়ে সোমবার সকাল ১১টায় এমপি ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত সাংবাদিকদের বলেন ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি তিনি দেখেছেন, এটা এডিট করে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ২০২১ সালের ৩০ জুলাই কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে আওয়ামী লীগের এমপি মো. আলী আশরাফ এর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হয়। পরে একই আসনে আশরাফ পুত্র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ টিটু দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তবে মনোনয়ন লাভ করেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। পরে ওই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বিনা ভোটেই তিনি নৌকার প্রতিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট