1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
বেগম রোকেয়ার বাস্তভিটা ধংসের দ্বারপ্রান্তে - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন

বেগম রোকেয়ার বাস্তভিটা ধংসের দ্বারপ্রান্তে

রংপুর প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৭৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা নিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্তাদের শুরু হয় দৌড়ঝাপ কার্ড ছাপানো আর ধংস হয়ে যাওয়া বাস্তভিটায় অস্থায়ী স্মৃতি সৌধে পুস্প স্তবক অর্পন। একমাস আগে থেকে চলে ধোয়া মোচা রং করা আর পরিস্কার করার কাজ। অনুষ্ঠিত হয় সপ্তাহব্যাপি আলোচনা সভা সেমিনার আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। চলে বড় বড় বক্তৃতা দেবার প্রতিযোগীতা। মাসব্যাপি হয় মেলার আয়োজন। রোকেয়ার স্মৃতিকে আরো জাগরুক করার জন্য দেয়া হয় নানান প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন নেই। বরং ধংস হতে বসেছে রোকেয়ার বাস্তভিটা। আর স্মৃতিকেন্দ্রটি সকল কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলেও কোন উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।

 

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম নেয়া নারী জাগনের অগ্রদূত মহীয়সী বেগম রোকেয়ার স্মৃতিকে ধরে রাখা, সুবিধা বঞ্চিত নারীদের পুর্নবাসন এবং রোকেয়ার জীবন আর রচিত গ্রন্থ নিয়ে গবেষনা করার জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যেগে পায়রাবন্দে নির্মান করা হয় দৃষ্টিনন্দন বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র। ২০০১ সালে শেখ হাসিনা এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর স্মৃতি কেন্দ্রটির সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কর্মকর্তা কর্মচারীরা দীর্ঘ ১৪ বছর কোন বেতন ভাতা পায়নি। ফলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতরভাবে দিন কাটিয়েছে।

অবশেষে ২০২০ সাল থেকে আবারো চালু করা হয়েছে স্মৃতি কেন্দ্রটি। তবে শুধু সপ্তাহে দুএকদিন গান শেখানো আর লাইব্রেরীতে স্বল্প সংখ্যক বই ছাড়া আর কোন কার্যক্রম নেই। দুৃস্থ নারীদের সেলাই প্রশিক্ষন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম বেগম রোকেয়াকে নিয়ে গবেষনা করা এসবের কিছুই বালাই নেই। শুধু তাই নয় স্মৃতি কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ পরিচালক ফারুখ আহাম্মেকে বাংলা একাডেমিতে পেষনে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে তার পরিবর্তে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হলেও তা ছিলো কাগজ কলমে তাকেও ঢাকায় কাজ করানো হচ্ছে। বর্তমানে একজন সহকারী ও পিয়ন ছাড়া আর কেউ নেই।

অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মুল্যবান জিনিষ পত্র। একই অবস্থা বেগম রোকেয়ার বাস্তভিটা আজ অবধি সেখানে কোন স্মৃতি সৌধ নির্মান করা হয়নি। অযতেœ অবহেলায় বাস্তভিটা এখন ধংসের দ্বার প্রান্তে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বেগম রোকেয়ূার ধংস হয়ে যাওয়া বাসত ভিটা আর বন্ধ স্মৃতি কেন্দ্র দেখে তীব্র ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা থেকে বেগম রোকেয়ার বাস্তভিটা আর স্মৃতি কেন্দ্র দেখতে আসা মমতাজ বেগম তার দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে এসে বেহাল অবস্থা থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন এভাবে বেগম রোকেয়ার স্মৃতি চিহ্ন ধংস হওয়া দেখে দায়িত্বশীলরা কি চোখ বন্ধ করে রাখে?। কেন স্মৃতি স্তম্ভ নির্মান করা হলোনা দীর্ঘ দুই যুগেও কেনইবা স্মৃতি কেন্দ্রটির সকল কার্যক্রম বন্ধ এসব দেখে হতাশা প্রকাশ করলেন তিনি।

ঝিনাইদহ থেকে আসা কবি সাহিত্যিক অফতাব হোসেন বললেন পায়রাবন্দ এর বেগম রোকেয়ার বাস্ত ভিটা আর স্মৃতি কেন্দ্র সহ স্থাপনা রক্ষনা বেক্ষন করা গেলে এটা একটা পর্যটন স্পট হতে পারতো কিন্তু আমরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসে হতবাক হলাম।

একই কথা বললেন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী সামসি আরা আর মামদুর রহমান।

রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাবিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং রোকেয়া গবেষক অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড, শ্বাশত ভট্টাচার্য বললেন নারী জাগরনের অগ্রদুত মহীয়সী বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহন করেছিলেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে। ক্ষনজন্মা রোকেয়া নারী জাতির জন্য যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তার কারনেই নারীরা এখন শিক্ষা দীক্ষা রাজনীতি ব্যবসা সহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়েছে। পুরুষদের সাথে তাল মিলিয়ে প্রতিযোগীতা করে নিজেদের যোগ্যতা প্রমান করছে। তার পরেও আরো অনেক দুর যেতে হবে বললেন তারা। সেই সাথে রোকেয়াকে নিয়ে আরো গবেষনা করা রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার উপর আলাদা একটা বিষয় সন্নিবেশিত করা জরুরী হয়ে পড়েছে।

রোকেয়া গবেষক ও বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ পায়রাবন্দের সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত উদ্যেগে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি স্থাপন করা হলেও কোন উদ্যেগ নেই বরং নষ্ট হতে বসেছে স্থাপনা। একই ভাবে বেগম রোকেয়ার বাস্তভিটাও ধংস হয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ পারে সকল সমস্যার সমাধান দিতে এমনটাই মনে করেন তিনি।

বাংলাএকাডেমির তত্বাবধানে রয়েছে বর্তমান স্মৃতি কেন্দ্র সহ বাস্তভিটা এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপ পরিচালক ফারুখ আহাম্মেদ জানালেন, আমার মূল দায়িত্ব হলো স্মৃতি কেন্দ্রের দেখভাল করা কিন্তু বাংলা একাডেমি কতৃপক্ষ জরুরী প্রয়োজনে ঢাকায় তাকে পেষনে নিয়ে এসেছেন। তিনি জানান অনেক ভালো ভালো কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে অচিরেই সুফল পাওয়া যাবে বলে আশাবাদ তার।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট