1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলা - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০২:২২ অপরাহ্ন

দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলা

রুবেল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৩১৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলা সীমান্তে বসেছে ‘পাথর কালি মেলাথ। বৃটিশ আমল থেকে প্রচলিত এ মেলাকে ঘিরে এপার-ওপার দুই বাংলার মানুষের যেন মিলন মেলা । মেলাকে ঘিরে কোন বাধা ছাড়াই সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে স্বজনদের সাথে কুশলবিনিময় করতে পারছেন দুই বাংলার বসবাসরত মানুষরা।

 

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ২টার পর থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার জগদল সীমান্তের ৩৭৩ ও ধর্মগড় ইউনিয়নের ৩৭৪ এবং হরিপুর উপজেলার ৩৬৮ থেকে ৩৭১ পিলারের কাছে নাগরভিটা নদীর তীরে বসে দুই বাংলার হাজারো মানুষের মিলনমেলা।

মেলাকে ঘিরে বাংলাদেশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, রংপুর ও বগুড়া এবং অপরদিকে ভারতের কোচবিহার, আসাম, দার্জিলিং, শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাইসাইকেল, অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, মিনিবাসযোগে হাজারো মানুষ সীমান্তে হাজির হয়। এরপর চলে প্রতীক্ষার প্রহর।

স্থানীয়রা জানান, ভোর থেকে দুই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষেরা এসে জড়ো হয় সীমান্তে। দীর্ঘদিন বিচ্ছিন্ন থাকা মানুষজন একে অপরের সঙ্গে মিলিত হওয়ার এ সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি। সারা বছর দুই বাংলার মানুষ অপেক্ষা করে এই দিনটির জন্য। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আগে থেকেই জানিয়ে দেন স্বজনরা। কে কোথায় দেখা করবেন। এই মিলনমেলায় দুই বাংলার লাখো মানুষ মিলিত হয়ে সেরে নেন স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও কুশল বিনিময়।

দিনাজপুর থেকে আসা আরিফ বলেন, আমার বোন ও তার জামাইয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্য এসেছি। গতবার এসেছিলাম দেখা করতে পারিনি। এবারে দেখা হয়েছে। শীতের কম্বল পাঠালাম কাঁটাতারের ওপর দিয়ে। বোনের পরিবারের সবাইকে দেখে বেশ ভালো লাগল। বোনের জন্য পিঠা নিয়ে আসা বৃদ্ধা সাহেলা বেগম বলেন, আমার মেয়ের বিয়ে দিছি ওই দেশের ছেলেকে দিয়ে। মেয়ে ও জামাই পিঠা চাইছে ফোন দিয়ে। তাই আজকে পিঠা বানাই নিয়ে আসছি। নাতির দ্বারা কাঁটাতার দিয়ে পিঠা দিলাম। খুব শান্তি পাইলাম।

রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কাশেম বলেন, ১৯৭৪ সালের পর উপজেলার সীমান্ত এলাকা পাক-ভারত বিভক্তির আগে ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অধীনে ছিল। এ কারণে দেশ ভাগের পর আত্মীয়-স্বজনরা দুই দেশে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সারা বছর কেউ কারো সঙ্গে দেখা করতে না পারায় এ দিনটির জন্য অপেক্ষা করে। আজ সেই দিন, এই দিনে ভারত এবং বাংলাদেশের দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলা ঘটে।

হরিপুর উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম শরিফুল হক বলেন, এ দিনকে ঘিরে দুই দেশের মানুষের আলাদা উৎসাহ ও উদ্দীপনা কাজ করে। আজকেও দুই দেশের মানুষের মিলনমেলা ঘটেছে। তারা উভয়ে তাদের আত্মীয়-স্বজনদের খুব কাছ থেকে দেখেছেন। যদিও কাঁটাতারের বেড়া ছিল। তবু ভালোবাসা ছিল বেশ প্রখর। সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে অনেক দিন ধরে এই মিলনমেলা চলে আসছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট