1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
বিএনপির সমাবেশ ঘিরে আলোচনায় বহিস্কৃত সাক্কু-নিজাম - বাংলা টাইমস
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে আলোচনায় বহিস্কৃত সাক্কু-নিজাম

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২
  • ৩৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কুমিল্লায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ ঘিরে ফের আলোচনায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রতীকে প্রার্থী হওয়া মনিরুল হক সাক্কু ও নিজাম উদ্দিন কায়সার। দল থেকে বহিস্কৃত হলেও নিজ নিজ অনুসারীদের নিয়ে লিফলেট বিতরণসহ ব্যানার-ফেস্টুন টানিয়ে প্রচারণায় সক্রিয় হয়ে ওঠেছেন তারা। উভয়েই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবর আবেদন পাঠিয়েছেন বলে জানা গেছে। সমাবেশের আগে বা সমাবেশের দিন তাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে নগরজুড়ে।

 

তবে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু জানান, এদের বিষয়ে অবস্থান সুস্পষ্ট। যেহেতু দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে, তাই কোন অবস্থাতেই গণসমাবেশ মঞ্চে বা দলীয় প্লাটফরমে তারা আসতে পারবেন না। কোন মেসেজ আসলে আয়োজকরা জানবেন। মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটির দুইবারের মেয়র। অপর দিকে নিজাম উদ্দিন কায়সার স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) ও কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছিলেন। এছাড়াও নিজাম কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের শ্যালক।

জানা যায়, গত ১৫ জুন তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি দলীয়ভাবে নির্বাচন থেকে বিরত থাকলেও সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু টেবিল ঘড়ি এবং নিজাম উদ্দিন কায়সার ঘোড়া প্রতিকে অংশ নেন। এতে উভয়কে কেন্দ্র থেকে বহিস্কার করা হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত মেয়র নির্বাচিত হন। তবে দল থেকে বহিস্কার হলেও সাক্কু ও নিজাম বিএনপির সাথেই থাকার ঘোষণা দিয়ে দলীয় কর্মকান্ড চালিয়ে যেতে থাকেন। এদিকে আগামী ২৬ নভেম্বর বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সম্মেলন সফল কলতে বিএনপি এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি সাংগঠনিক সভা করেছে। এসব সভায় নিজাম উদ্দিন কায়সার তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে অংশ নেন। তবে মনিরুল হক সাক্কু এসব প্রস্তুতি সভায় না আসলেও দলীয় সমর্থকদের নিয়ে আলাদাভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন। নগরীর টাউন হল মাঠে সমাবেশস্থল ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছবিসহ ব্যানার-ফেস্টুন সাটানো হয়।

বহিস্কার হওয়ার মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, ‘আমাদের বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার হবে এমন কথা অনেকেই বলছেন, চুড়ান্ত বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ভালো বলতে পারবেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবরে বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার চেয়ে আবেদন করেছি। স্থানীয় জনগণের চাপে এবং ভালোবাসায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি আরও বলেন, দল আমাকে ছেড়ে দিলেও আমি তো দল ছেড়ে যাইনি, দল বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার না করলেও বিএনপির নীতি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য কোন দলে যাওয়ারও সম্ভাবনা নাই। কর্মী সমর্থকদের নিয়ে মহাসমাবেশ সফল করতে মাঠে আছি, মাঠে থাকবো।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ‘দশটি বছর এ সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব ছিলাম। নগরবাসীর সুখে-দুঃখে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। নির্বাচনের ৩ মাস আগে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করেছি। দল নির্বাচন করুক বা না করুক জনগণের দিকে চেয়ে নির্বাচন অংশগ্রহণের জন্য তৃণমূল নেতারা অনুরোধ করেন। নগরবাসীর ভালোবাসার কারণে আমি নির্বাচন করেছি। যে কারণে আমি বহিস্কৃত হয়েছি। আমি কোন পদ বা স্টেজে লালায়িত না। আমি জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করি। গণসমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতা যারা আসবেন, আমি সাধারণ কর্মী হিসেবে মাঠে থেকে তাদের কথা শুনব। শেকল দিয়ে বেঁধেও আমাকে মঞ্চে নিতে পারবে না বা বললেও আমি যাব না। আমি বিএনপিতে ছিলাম, এখনো আছি, আমরণ থাকবো। কেন এবং কোন প্রেক্ষাপটে সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ছিলাম এর ব্যখা দিয়ে গত মাসে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরাবরে আবেদনে বিন্তারিত উল্লেখ করেছি। আশা করি বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই তিনি দেখবেন।’

কুমিল্লা মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, ‘তারা দলীয় শৃংখলা ভঙ্গ করেছেন, তাদেরকে ফেরত নেয়া হয়েছে- এমনটি এখনো ঘটেনি। আমি যেটুকু জানি বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে হাইকমান্ড এখনো কোন চিন্তা করছে না। প্রচারণার মাধ্যমে তারা মাঠে আছেন, এটা কৌশল হিসেবে তারা জানান দিচ্ছেন। তিনি বলেন, দল পরিচালনা করছেন আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান। কে কোথায় কি করছেন তিনি সবকিছু অবগত। সংগঠনের নিয়ম-শৃংখলার ক্ষেত্রে তিনি কোন ছাড় দেন না। তিনি অনেক বিচক্ষন। তিনি ভেবে চিন্তে তাদের বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিবেন।’

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাজী আমিন-উর রশীদ ইয়াছিন বলেন, ‘দল তাদেরকে বৈধভাবে বহিস্কার করেছে। দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য কাউকে অনুমতি দেয়নি। দলের কমান্ডের বাইরে গিয়ে তারা নিজেরা নিজেরা নির্বাচন করেছে। যেহেতু তারা দলের বাইরে গিয়েছে, দল তাদেরকে বহিস্কার করেছে। দল একশত পার্সেন্ট ঠিক।’
সাক্কু ও নিজামের দলে ফেরার বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া বলেন, ‘বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করা না করার বিষয়টি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেখছেন, এখানে আমার মন্তব্য করার এখনো সময় আসেনি। তিনি (তারেক রহমান) যা ভালো মনে করবেন তাই করবেন।’

বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ‘এটা নিয়ে আমার বক্তব্য সুস্পষ্ট। তারা আজীবনের জন্য বহিস্কার। কিন্তু কেউ যদি দাঁড়িয়ে বলে আমি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বা বিএনপির জন্য কাজ করতে চাই। এতে আমার বাঁধা দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তারা মঞ্চ বা প্লাটফরমে আসতে পারবে না। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যেহেতু তারা নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, দল এখনো তাদেরকে গ্রহণ করেনি।’

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট