1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
নুইয়ে পড়ছে পাকা ধান গাছের শীষ - বাংলা টাইমস
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

নুইয়ে পড়ছে পাকা ধান গাছের শীষ

ত্রিপুরারী দেবনাথ তিপু, হবিগঞ্জ
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২
  • ৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাকা ধান গাছের শীষ নুইয়ে পড়ছে। পাকা ধানের গন্ধে কৃষকদের মনে এখন বেশ প্রফুল্লতা। অল্প কিছুদিনের মধ্যে পুরোদমে পাকা ধান কাটাতে হাতে কাচি নিয়ে মাঠে ব্যস্ত সময় পার করবে কৃষকরা। যদিও এরই মধ্যে কোন কোন এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়ে গেছে।

 

এ বছর পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়াতে উপজেলায় আমন ধানের চাষে কৃষকের বাড়তি সেচ লেগেছে। ফলে খরচ বেড়েছে। কৃষকরা অন্যদিকে মাঠ থেকে নতুন ধান বাড়িতে তোলার জন্য আঙ্গিনা পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন কৃষাণীরা।স্থানীয় বাজারে ধানের দামও ভালো রয়েছে। কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর উপজেলার ১১ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশি।

সরেজমিনে গিয়ে ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে পাকা আমন ধান। ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। কেউ ধান কাটছেন, কেউ বা আঁটি বাঁধছেন।

উপজেলার আলাকপুর গ্রামের কৃষক মোঃ ফরুক মিয়া বলেন, এ বছর ৩ বিঘা জমিতে ব্রি-৪৯ জাতের আমন ধানের চারা রোপণ করেছিলাম। ফলন পেয়েছি প্রায় ৫০ মণ। ফলন প্রত্যাশার চেয়ে ভালো হয়েছে। এ বছর ধানের উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাজারে নতুন ধানের দাম বেশ ভালো। আশা করছি, ধানের দাম আরও বাড়বে।

একই গ্রামের কৃষক মোঃ নানু মিয়া জানান, আগে আমন ধান কাটা ও মাড়াই মূলত অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি সময়ে শুরু হতো, কিন্তু এখন তা এগিয়ে এসেছে। এখন কৃষকেরা আগাম জাত ও হাইব্রিড ধান চাষে ঝুঁকছে। এতে কম সময়ে অধিক ফলন হচ্ছে। পাশাপাশি একই জমিতে অন্য ফসল চাষের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে উৎপাদন ও আয় দুটোই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলার বিভিন্ন কৃষকরা জানান, এই ধানের রোগবালাই খুব কম। ফলন আশার চেয়ে বেশি হয়েছে। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসের শেষ দিকে আমন ধান কাটা হয়। এবার মাস দেড়েক আগেই এই ধান পাকতে শুরু করেছে। সব খরচ বাদ দিয়ে এবার লাভবান হবেন বলে আশা করছেন কৃষকরা।

মাধবপুর পৌরসভার বাজার এলাকার ধান ব্যবসায়ী সহিদ মিয়া বলেন, বাজারে নতুন ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১৫০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গত বছর একই ধান ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছিল।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আমন ধানের ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছি, এখনও দিচ্ছি। এ বছর ব্রি-৪৯, ব্রি-৮৭, ব্রি-৭৫, বিনা-১৭, বিনা-৭ ও ধানী গোল্ড জাতের ধানের আবাদ বেশি হয়েছে। সব জাতের ধানেরই ফলন ভালো হয়েছে।

মাধবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আল মামুন হাসান বাংলা টাইমসকে বলেন, এ বছর উপজেলায় রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আমন ধান চাষ হয়েছে। ফলনও হয়েছে বাম্পার। আমরা আগাম ও স্বল্পমেয়াদী ধানের জাত আবাদের জন্য কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছি। এতে একদিকে ধানের উৎপাদন যেমন বেড়েছে, অন্যদিকে বোনাস ফসল হিসাবে সরিষা বা আলু চাষ করার সুযোগ পাচ্ছেন তারা।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট