1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
'ওসি প্রদীপের পদক পাওয়ার লোভে আত্মসমর্পনের সাজানো নাটক' - বাংলা টাইমস
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন

‘ওসি প্রদীপের পদক পাওয়ার লোভে আত্মসমর্পনের সাজানো নাটক’

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২২
  • ৬১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের টেকনাফে প্রথম দফায় আত্মসমর্পনকারি ১০১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা পুলিশের ২টি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে ইয়াবা মামলায় প্রত্যককে ১ বছর ৬ মাসের কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্র মামলায় সকলকে খালাসের আদেশ দিয়েছেন বিজ্ঞ আদালত। বুধবার (২৩ নভেম্বর) দুপুর ১ টা ৫০ মিনিটের দিকে এ রায় ঘোষণা করেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল।

 

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) ফরিদুল আলম রায়ে সন্তুষ্ট জানিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম জানান, ইয়াবা কারবারিদের বিরুদ্ধে এই রায়ের মাধ্যমে মাদক নির্মূলে সমাজে একটি বার্তা যাবে। দুপুর ১২ টা ৫০ মিনিটের দিকে বিচারক রায় পাঠ শুরু করেন। রায় পাঠ শেষে ১০১ জনকে ইয়াবা মামলায় ১ বছর ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেছেন। এতে ২০ হাজার টাকা জরিমানা অবশ্যই প্রদান করার নিদের্শ দেন আদালত। একই সঙ্গে পুলিশের দায়ের করা অস্ত্র মামলায় সকলকে খালাসের আদেশ দিয়েছেন। রায় ঘোষণাকালে ১৭ জন আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও অনুপস্থিত ছিলেন ৮৪ জন। তিনি আরও জানান, মামলাটির সকল বিচারিক কার্যক্রম গত ১৫ নভেম্বর শেষ হয় বলে একই আদালতের পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম ফরিদ জানিয়েছেন।

আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এসএম আব্বাস উদ্দিন এ তথ্য জানিয়ে বলেন, গত ১৫ নভেম্বর বিজ্ঞ বিচারক মামলা ২টির যুক্তিতর্ক শেষে রায় ঘোষণার জন্য গেল বুধবার দিন ধার্য করেন। একইদিন এ মামলা ২ টিতে হাজিরা দেয়া ১৭ জন আসামির হাজিরা আবেদন না মঞ্জুর করে তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। একইসাথে মামলার অবশিষ্ট ৮৪ জন আসামির জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

এদিকে, এজলাস থেকে বেরিয়ে আসামী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, আত্মসমর্পনটি ছিলো তৎকালীন টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপের পদক পাওয়ার লোভে সাজানো নাটক। আত্মসমর্পনের জন্য ১০২ জনকে আগে থেকেই পুলিশ লাইনে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে বন্দী রাখা হয়। তিনি আরও বলেন, প্রমাণ না হওয়া স্বত্বেও সমাজে যেনো ভুল বার্তা না ছড়ায়, তাই আদালত আসামীদের নামমাত্র শাস্তি দিয়েছে জানিয়ে জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী আরও বলেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন কিনা সেই বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ১০২ জন ইয়াবাকারবারি আত্মসমর্পণ করে। আত্মসমর্পণকৃত ১০২ জন আসামির মধ্যে একজন কারাগারে মৃত্যুবরণ করে। কক্সবাজারের তৎকালীন পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রধান অতিথি, তৎকালীন আইজিপি ড. জাবেদ পাটোয়ারী, কক্সবাজারের ৪ জন সংসদ সদস্য, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘদিন প্রতিশ্রুতির পর বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে এ আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান করা হয়।

কিন্তু আত্মসমর্পণের পর তাদের কাছ থেকে ৩ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা এবং ৩০টি দেশীয় তৈরি অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে মর্মে উল্লেখ করে আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে ওসি (তদন্ত) এবিএমএস দোহা বাদী হয়ে পৃথক ২ টি মামলা দায়ের করেন। ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্র সমূহ টেকনাফের মহেশখালীয়া পাড়াস্থ’ বীচ হ্যাচারি নামক একটি পরিত্যক্ত হ্যাচারি থেকে উদ্ধার করা হয় বলে মামলা ২ টির এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

আত্মসমর্পণের আগের রাতে এসব ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বলে এজাহারে বর্ণনা দেওয়া হয়েছে। সারেন্ডারকারিদের মুক্তি পেতে রাষ্ট্র সব ধরনের আইনি সহায়তা দেবে বলে সারেন্ডারের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের আশ্বস্ত করেছিল। এ ২টি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ২১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং আসামিদের পক্ষে সাক্ষীদের জেরা করা হয়। মামলায় আলামত প্রদর্শন, রাসায়নিক পরীক্ষা ফলাফল যাচাই, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়।

আসামিদের পক্ষে আদালতে ২ জন সাফাই সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। তারা হলেন, টেকনাফের বাহারছরা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আজিজ উদ্দিন এবং টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়ার মৃত মমতাজ উদ্দিনের পুত্র গিয়াস উদ্দিন ভুলু।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা ২টি পরিচালনা করেন পিপি এডভোকেট ফরিদুল আলম ফরিদ। আসামিদের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সাবেক পিপি এডভোকেট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, এডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, এডভোকেট মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, এডভোকেট সলিমুল মোস্তফা, এডভোকেট আমিন উদ্দিন প্রমুখ।

এদিকে, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির আপন ৪ ভাই (আব্দুল আমিন, আব্দুর শুক্কুর, শফিকুল ইসলাম, ফয়সাল রহমান), ভাগিনা সাহেদ রহমান নিপু, চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলম। আরও রয়েছেন, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ ও তার বড় ভাই আব্দুর রহমান, বর্তমান জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আহমেদের ছেলে দিদার মিয়া, টেকনাফ পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল বশর নুরশাদ, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের এনাম মেম্বারসহ অনেকে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট