1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
চাল বিক্রেতা থেকে চনপাড়ার ‘ডন’ বজলু - বাংলা টাইমস
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

চাল বিক্রেতা থেকে চনপাড়ার ‘ডন’ বজলু

বিশেষ প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২১ নভেম্বর, ২০২২
  • ৪৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তির ‘ডন’ বজলুর রহমান ওরফে বজলু মেম্বার র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। আর নড়েচড়ে বসেছে তার শেল্টারদাতা রূপগঞ্জের প্রভাবশালী সরকার দলীয় এক রাজনৈতিক নেতা। তিনি এখন বজলুর সংশ্লিষ্টাতা থেকে নিজেকে আড়াল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। যদিও তার সাথে বজলুর অনেক ছবি প্রকাশ পেয়ে গেছে গণমাধ্যমে।

 

১৫ বছর আগে মাথায় করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কেজি দরে চাল বিক্রি করতেন চনপাড়া বস্তির মাদক কারবারীদের আলোচিত ‘ডন’ বজলুর রহমান বজলু। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে রাজনীতির ডালে চড়ে বদলে যায় তার শ্রমিক জীবন। মাদককে পুঁজি করে রাজনীতির পিঠে চড়ে বজলু এখন বাড়ি, গাড়িসহ কয়েক কোটি টাকার মালিক তিনি। হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৯ নম্বর ওয়ার্ডের (চনপাড়া এলাকা) মেম্বার। কিন্তু রূপগঞ্জের প্রভাবশালী এক রাজনৈতিকের শেল্টারে থেকেও শেষ রক্ষা হলো না তার। অস্ত্র-মাদকসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বজলু ৬ দিনের রিমান্ডে রয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের ওই প্রভাবশালীর সাথে রূপগঞ্জে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন কর্মসুচিতে তাকে দেখা যেতো বজলুকে।

বুয়েট শিক্ষার্থী ফারদিন হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে চনপাড়া তথা বজলুর মাদক সম্রাজ্যের তথ্য গণমাধ্যমে একে একে উঠে আসতে থাকে। এর জেরে বজলুকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১। সম্প্রতি বজলুর নির্দেশে র্যাবের মাদক বিরোধীঅভিযানেও বাধা দিয়েছিল তা সাঙ্গোপাঙ্গোরা।

জানা যায়, স্বাধীনতার পর পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠা চনপাড়া বস্তিতে বসবাস শুরু করে বজলুর বাবা-মা। একে একে বস্তিতেই জন্ম নেয় তারা পাঁচ ভাই দুই বোন। বস্তিতে সে সময় তার বাবা বাড়ি বাড়ি ধান ভেঙে চাল বানিয়ে বিক্রি করতেন। বাবার সঙ্গে বজলুসহ অন্য ভাইয়েরাও একই কাজ করতেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বস্তির একজন প্রবীণ বাসিন্দা জানান, বজলুর বাবা মারা যাওয়ার পর এবং ক্রমেই বাড়ি বাড়ি চাউল বিক্রির ব্যবসা লোকসান হওয়ায় তাঁত শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করে বজলু। কয়েক কয়েক মাস শ্রমিক হিসেবে কাজ করার পর এক সময় সেই পেশাও ছাড়ে বজলু। তবে আর কোনো পেশায় স্থানীয়রা বজলুকে প্রকাশ্যে না দেখলেও দিনে দিনে বজলুর আর্থিক উন্নতি দেখছিল। এতে এলাকায় অনেকে বজলুর ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়ার দৃশ্য দেখে অবাক হতে থাকে।

অভাবী বজলুর এখন রয়েছে টাকার পাহাড়। চনপাড়ায় বাজার এলাকার একটি তিনতলা, একটি চারতলা, একটি দোতলা এবং আরেকটি গলিতে একটি চারতলা বাড়ির মালিক তিনি। এই বাড়ির চারতলায় একটি ক্লাব বানিয়েছেন। গোপন বৈঠক হয় সেখানে। এ ছাড়া একাধিক টিনের বাড়ি ও প্লট রয়েছে তাঁর। চনপাড়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি স্কুলের জায়গা দখল করে বাড়ি এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সমিতির জায়গা দখল করে বানিয়েছেন অফিস। চাঁদার দাবিতে সেখানে মানুষকে ডেকে মারধর করা এবং বনিবনা না হলে মাদক মামলায় জেলে পাঠানোর বিস্তর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। চনপাড়ার বাইরেও তাঁর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। ডেমরার সারুলিয়ার পশ্চিম টেংরার খাল পাড়ে দুটি একতলা এবং একটি তিনতলা ভবনেরও মালিক তিনি।

কয়েক বছরে মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে চনপাড়া। রাজধানী লাগোয়া চনপাড়া গ্রামে স্থলপথে ঢোকার একমাত্র পথ ডেমরা থেকে বালু সেতু। বালু সেতু পার হলেই চনপাড়া মোড়। চনপাড়াকে নয়টি ওয়ার্ডে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের অসংখ্য অলিগলি। বাড়িঘর একটার সাথে অন্যটা লাগোয়া। চনপাড়ার দুইদিকে শীতলক্ষ্যা নদী এবং একদিকে বালু নদ। পার্শ্ববর্তী ডেমরা, নোয়াপাড়া ও মুড়াপাড়া থেকে নদীপথে চনপাড়ায় ঢোকা যায়। চনপাড়ায় প্রবেশের জন্য তিনটি খেয়াঘাট রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের ভাষ্য, বেশিরভাগ মাদকের চালান চনপাড়ায় নদীপথে ঢোকে। স্থলপথেও অভিনব কায়দায় মাদকের ছোট-বড় চালান আনা হয়। অস্ত্রের কেনা-বেচাও চলে এখানে। চনপাড়ার ভেতরে অর্ধশতাধিক চিহ্নিত মাদেকর স্পট রয়েছে। মাদকের এইসব স্পট নিয়ন্ত্রণকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাশেদুল ইসলাম শাহীন ওরফে সিটি শাহীন, জয়নাল আবেদীন, রাজু আহম্মেদ ওরফে রাজা, শাহাবউদ্দিন, শমসের, রোকসানা, মোস্তফা, রায়হান, ফালান, শাওন, আনোয়ার, স্বপন, ফালান, আসাদুল, শাহ্ আলম, তার বোন শাহিদা, বিল্লাল, রওশানা, রহিমন, নাসির, শাহীন।

একসময় চনপাড়ায় সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার ওরফে কুট্টির নিয়ন্ত্রণ ছিল। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালের নভেম্বরে বিউটির স্বামী এমএ হাসান ওরফে হাসান মুহুরি খুন হন। দুই বছরের মাথায় ২০১৯ সালের জুনে খুন হন বিউটিও। বিউটি ও বিউটির স্বামী হত্যা মামলার আসামি জয়নাল, শাহীন, রাজা, আনোয়ারকে আসামি করা হয়। বিউটি মারা যাওয়ার পর চনপাড়া মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে নেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান বজলুর রহমান। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ প্রায় ডজনখানেক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। যদিও মাদক ব্যবসা ও অপরাধীদের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ সবসময়ই অস্বীকার করে আসছেন বজলুর।

চনপাড়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয় পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিকের সাথে। চনপাড়ায় শুরু থেকে আছেন এমন একাধিক ব্যক্তি নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদকে বলেন, সত্তরের দশকের শেষের দিকে দু’টি স্পটে গাঁজা বিক্রি ও সেবন হতো। শুক্কুর ও আলী নামে দুই ব্যক্তি এই স্পট দু’টি নিয়ন্ত্রণ করতেন। আশির দশকের শুরুর দিকে মাদকের বিস্তৃতি বাড়তে থাকে। তবে ২০১১ সালের পর থেকে মাদক পুরো চনপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাঁজাসহ সবধরনের মাদক এখানে বিক্রি হয়। এক পাঁচ বছরে পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ রূপ নিয়েছে। হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে যেকোন প্রকার মাদক। শুধু মাদকই নয় অপরাধীরা আশ্রয়স্থল হিসেবেও বেছে নেয় চনপাড়াকে। গত দুই দশকে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে চনপাড়ায় খুন হয়েছেন পুলিশের এক সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন। এই সময়ে থানায় কেবল চনপাড়ার মাদক ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মামলা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই দুই-তিনটা মামলা হয় বলেও জেলা পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান। যদিও অভিযোগ রয়েছে চনপাড়ার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোয়ারা পায় পুলিশও।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়াজি বলেন, ‘গত দশ বছরে ভয়ানকভাবে চনপাড়ায় মাদকের বিস্তার বেড়েছে। প্রতিটি অলি-গলিতে মাদকের কেনাবেচা চলে। কয়েকজন ব্যক্তিই এইসবের নিয়ন্ত্রক। তাদের শেল্টার দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এলাকার শিক্ষিত ছেলেমেয়ে এই কারণে মাদকসেবন ও বিক্রির সাথে জড়িয়ে পড়ছে। উপাসনালয়ের সামনেও মাদক বিক্রি চলে। এসব নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা নিত্যদিনের।’

প্রশাসনিকভাবে কড়াকড়ি থাকলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব অভিমত তার। তিনি বলেন, ‘মাদক ও সন্ত্রাসীদের অভয়ারন্য হিসেবে রূপ নিয়ে চনপাড়া। এই গ্রামের পুরোনো বাসিন্দাদের অনেকেই তাদের ছেলেমেয়েকে গ্রামের বাইরে রাখেন। গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।’

চনপাড়ার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মার্কেটের সামনে কথা মো. আশরাফুলের সাথে। চনপাড়ার পরিবেশের কারণে পরিবারের লোকজনের সাথে থাকতে পারেন না বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানে চাকুরি করা এই তরুণ। তিনি বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি এইখানে তাতে এখানে থাকা যায় না। মাদকের বিক্রি চলে প্রকাশ্যে। সেবন তো কথাই নেই। আমার বাবা-মা এইখানে থাকেন। আমি চাকরি করি রাজধানীতে, সেখানেই থাকি। মাঝেমধ্যে বাবা-মার সাথে দেখা করতে আসি। সুযোগ পেলে তাদেরও নিয়ে এই এলাকা ছেড়ে দিতাম।’

তবে চনপাড়ার মাদক বিক্রি কিংবা অপরাধ কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ কোন ব্যক্তি প্রকাশ্যে মুখে খোলেন না। স্থানীয় সাংবাদিকরা বলছেন, চনপাড়ায় কোন ঘটনা ঘটলে তার জন্য সংবাদ সংগ্রহে গেলেও মাদক ব্যবসায়ীদের রোষানলে পড়তে হয়।

চনপাড়ায় অপরাধীদের দৌরাত্ম এমন যে, অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও একাধিকবার হামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে। কোন শীর্ষ সন্ত্রাসী বা অপরাধী লুকিয়ে থাকার জন্যও এই বস্তিকে বেছে নেন। এমনকি এই বস্তির অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে এমনই এক ঘটনা ঘটে চনপাড়ায়। ওই রাতে র‌্যাব-১ এর একটি দল মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় চনপাড়ায়।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সূত্রমতে, ওইদিন শাহীনকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালায় র‌্যাব। শাহীনকে গ্রেপ্তার করতে না পারলেও তার সহযোগী অপর মাদক ব্যবসায়ী রাজু আহম্মেদ ওরফে রাজা। ওই অভিযানের পর ‘অভিযানে বাধা দিয়ে হামলার’ অভিযোগে র‌্যাব রূপগঞ্জ থানা পৃথক তিনটি মামলাও করে। একটি মামলায় ইউপি সদস্য বজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হলেও রহস্যজনকভাবে তিন মামলার কোনটাতেই শাহীনের নাম ছিল না। গত ৯ নভেম্বর দুপুরে র‌্যাবের সাথে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ শাহীন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। যদিও পরবর্তীতে মামলায় র‌্যাব উল্লেখ করেছে, ‘র‌্যাবের নয় মাদক ব্যবসায়ীদেরই কারও গুলিতে শাহীন মারা গেছে।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘শতাধিক ব্যক্তি চনপাড়ায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। শুধু তাই নয়, বিভিন্ন অপরাধীদের আশ্রয়স্থল এই চনপাড়া। প্রতিমাসেই মাদক সংশ্লিষ্ট দুই-তিনটা মামলা হয়, কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়। কিন্তু মাদক ব্যবসায়ীদের নেটওয়ার্ক এতটাই বিস্তৃত যে কাউকে ধরতে যাওয়ার আগেই তারা খবর পেয়ে যায়। আবার ভৌগলিক কারণে চনপাড়ায় ‘ব্লকরেইড’ দিয়ে অভিযান চালানো সম্ভব হয়ে ওঠে না। বস্তির তিনদিকেই পানি।’

ওই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বস্তির অলিগলি ও ঘরবাড়ি মিলিয়ে এতটাই ঘিঞ্জি এলাকা যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চালালে পালানোর সুযোগ অনেক। অনেক সময় মুহুর্তেই আসামি ছাড়ানোর জন্য ঘরবাড়ি থেকে শতাধিক নারী-পুরুষ বেরিয়ে আসে আমাদের উপর হামলা চালায়। তারপরও নিয়মিত পুলিশের টহল থাকে চনপাড়ায়। চনপাড়ায় মাদক ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কাজ করছি আমরা।’

চনপাড়ার মাদকের বিস্তৃতি রোধ করতে জেলা পুলিশ প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান জেলা পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল। তবে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গেলে প্রায়সময় প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয় বলে জানালেন জেলা পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তাও।

তিনি বলেন, ‘মূলত চনপাড়া একটি বস্তি এলাকা। ভেতরে অলিগলি ও বাড়িঘরগুলো খুবই ঘিঞ্জি। প্রায়সময় অভিযান চালানোর খবর টের পেয়ে কোন না কোন ঘরে পালিয়ে থাকে কিংবা কোন গলি দিয়ে বেরিয়ে পালিয়ে যায়। এমনও হয় বস্তির লোকজন এসে পুলিশকে ঘেরাও করে রাখে আসামিকে নিতে দেয় না। প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান চালাই। আসামি গ্রেপ্তার হয়, জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও মাদক ব্যবসা চালায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারপরও মাদক নির্মূলে জেলা পুলিশ, প্রশাসন সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাই। মাদক ব্যবসার সাথে যুক্ত লোকজন এই পেশা পরিবর্তন না করলে পুলিশের একার তাগিদে সমূলে উৎপাটন সম্ভব না। তবে আমাদের কার্যক্রম সবসময় অব্যাহত আছে।’

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ২৭ সেপ্টেম্বর র্যা ব চনপাড়া বস্তিতে অভিযান চালাতে যায়। সে সময় বজলুরসহ তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গ র্যা বের ওপর হামলা চালায়। হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। এ ছাড়া চনপাড়ায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে তাঁর সংশ্নিষ্টতার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখছে র‌্যাব।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট