1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
পুলিশের সাথে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতা নিহত - বাংলা টাইমস
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন

পুলিশের সাথে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষ, ছাত্রদল নেতা নিহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২২
  • ৬০৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে মোঃ রফিকুল ইসলাম নয়ন- (২২) নামে এক ছাত্রদল নেতা নেতা নিহত হয়েছেন।এবং ৬ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। শনিবার ( ১৯ নভেম্বর) বিকেলে বাঞ্ছারামপুর থানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত রফিকুল ইসলাম নয়ন উপজেলার সোনারামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ও একই ইউনিয়নের চরশিবপুর গ্রামের রহমত উল্লাহর ছেলে।

 

উপজেলা বিএনপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৬ নভেম্বর কুমিল্লায় অনুষ্ঠিতব্য বিএনপির মহাসমাবেশকে সফল করতে শনিবার বিকেলে সাড়ে তিনটার সময় বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সদরে প্রচারপত্র বিলি করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। প্রচারপত্র বিলিশেষে বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিএনপি নেতা ভিপি সায়েদুজ্জামান কামালের নেতৃত্বে উপজেলা সদরের মোল্লা বাড়ি থেকে মিছিল একটি মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলা সদরের বাজার, বাঞ্ছারামপুর থানা ও উপজেলা পরিষদ এলাকা ঘুরে পুনরায় মোল্লা বাড়ির মসজিদের সামনে গিয়ে জড়ো হয়।

বিএনপি নেতা সায়েদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘কুমিল্লার বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে প্রচারণা চালানোর সময় বিনা উসকানিতে আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ গুলি ছুড়তে থাকে। এতে ছাত্রদল নেতা নয়ন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।

পরে বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আলমের নেতৃত্বে পুলিশ  মোল্লা বাড়ির মসজিদের সামনে সায়েদুজ্জামান কামালকে আটক করতে যান।। এক পর্যায়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের হাতাহাতি ও পরে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিএনপির নেতা-কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেলও  নিক্ষেপ করতে থাকে। এ সময় রফিকুল ইসলাম নয়ন গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
স্থানীয়রা আহত রফিকুল ইসলাম নয়নকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সেখানকার চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির দুই কর্মী রফিকুল ইসলাম-(৪২) ও সাইদুর রহমানকে-(২৫) গ্রেপ্তার করে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেলের আঘাতে পুলিশের ছয় সদস্য আহত হন।

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন, বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নূরে আলম-(৪১), পরিদর্শক (তদন্ত) তরুণ কান্দি দে-(৩২), উপ-পরিদর্শক আফজাল হোসেন-(৩০) ও বিকিরণ চাকমা-(৩২), কনস্টেবল শফিকুল ইসলাম-(৩৩) ও বিশ্বজিৎ চন্দ্র দাস- (২৬)।

এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)নূরে আলমের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ঘটনার সতত্যা নিশ্চিত করে বাংলা টাইমসকে বলেন, বিকেলে বিএনপির একশ থেকে দেড়শ নেতা-কর্মী আকস্মিক মিছিল নিয়ে থানার সামনে জড়ো হয়ে পুলিশকে উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া শুরু করে। সেখানে থাকা টহল দলের দুই কনস্টেবলের কাছ থেকে তারা অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় কনস্টেবল এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোঁড়ে।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীদের হামলায় আমিসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হই। এ সময় তাদের (বিএনপির) এক কর্মীও আহত হন।

এ ব্যাপারে নবীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিরাজুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছাত্রদলের এক ছেলে মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মোল্লা মোহাম্মদ শাহীনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি রফিকুল ইসলাম নয়নের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা টাইমসকে বলেন,কার গুলিতে নয়ন মারা গেছে  তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে।

এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া বাংলা টাইমসকে জানান, রাত ৮টার দিকে রফিকুল ইসলাম নয়নকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট