1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
বজ্রপাতে মৃত্যুর ৭২ শতাংশই কৃষক - বাংলা টাইমস
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:০৭ পূর্বাহ্ন

বজ্রপাতে মৃত্যুর ৭২ শতাংশই কৃষক

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২
  • ৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, ভৌগোলিক অবস্থান, সচেতনতার অভাব, উঁচু গাছ কাটাসহ নানা কারণে প্রতিবছরই বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বজ্রপাত বেশিরভাগ হয়ে থাকে খোলা মাঠে। কৃষি কিংবা অকৃষি খোলা জমিতে। বজ্রপাত ভূ-পৃষ্ঠের যে স্থানে আঘাত করে সেখান থেকে বিদ্যুৎ ভূমির সব দিকে চলাচল করতে পারে।

 

কক্সবাজার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৬-২০২২ সালের জুন পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় বজ্রপাতে ২৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্য ২০১৮ সালে কেউ মারা যায়নি। ২০১৬ সালে সর্বোচ্চ বজ্রপাতে ১১ জন মারা যান। এটিই জেলার সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। ২০১৭ সালে ২ জন, ২০১৯ সালে ৪ জন, ২০২০ সালে ৪ জন, ২০২১ সালে ২ জন এবং ২০২২ সালে জুন পর্যন্ত ৪ জন বজ্রপাতে মারা যান। তারমধ্য চকরিয়া ৭ জন, মহেশখালী ৮ জন, কুতুবদিয়া ৬ জন, পেকুয়া ৪ জন, টেকনাফ ২ জন ও উখিয়া ১ জন বজ্রপাতে মারা যান। সর্বশেষ গত ১৯ জুন একই দিনে কুতুবদিয়া ২ জন ও পেকুয়া ১ জনসহ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তা মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, বজ্রপাত বেশিরভাগ হয়ে থাকে খোলা মাঠে। বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিলে মৃত্যু অনেকাংশে কম হয়। বজ্রপাত ভূ-পৃষ্ঠের যে স্থানে আঘাত করে সেখান থেকে বিদ্যুৎ ভূমির সব দিকে চলাচল করতে পারে।

তিনি বলেন, প্রবল ঝড় ও বৃষ্টিপাতের সময় অনেকে গবাদিপশু নিয়ে খোলা মাঠে যায়। বজ্রপাত হলেও বাইরে অবস্থান করে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে সচেতনতায় বজ্রপাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তালগাছসহ উঁচু গাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছে। বিশেষ করে বর্ষা ও এ মৌসুমের আগে-পরে খুব বেশি বজ্রপাত হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন ও আবহাওয়ার ধরনের কারণে এ মৌসুমের সময়টা অনেক বেড়ে গেছে। এমন সব সময়ে বজ্রপাত হচ্ছে- যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশারও বাইরে। বজ্রপাতে মৃত্যুর ৭২ শতাংশই কৃষক এবং ৮০ শতাংশের বেশি বজ্রপাত খোলা মাঠে হয়ে থাকে।

সিরাজুল ইসলাম বলেন, ফেব্রুয়ারি থেকে অক্টোবর এই ৯ মাস জুড়েই হয় বজ্রপাত। তবে এপ্রিল ও জুনে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয়ে থাকে।
বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে কাজ করছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। বজ্রপাত হলেও মৃত্যু হবে না এমন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। হাওরাঞ্চলসহ দেশের বজ্রপাতপ্রবণ ২৩ জেলায় বসবে এ প্রযুক্তি।

জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসনের প্রধান সহকারী সিরাজুল বলেন, খোলা মাঠে বজ্রপাত হলে প্রায় তিন কিলোমিটার জুড়ে বিদ্যুতায়িত হতে পারে। কেউ যদি বজ্রপাতের লক্ষ্যের কাছাকাছি থাকে তবে ভূমির বৈদ্যুতিক প্রভাবে তার মৃত্যু হতে পারে। তবে গাছের নিচে থাকলে বজ্রপাত ওই গাছের ওপর দিয়েই চলে যায়। মানুষের প্রাণ বেঁচে যায়। মানুষকে সচেতন করা গেলে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেকাংশে কমে যেত মনে করেন তিনি।

দুর্যোগ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের হিসেবে দেখা যায়, গত ২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত সাড়ে এগার বছরে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৯৫১ জন মানুষের। এ হিসাব অনুযায়ী বছরে গড়ে বজ্রপাতে ২৬৫ দশমিক ৫ জনের মৃত্যু হয় এই বজ্রপাতে।

এদিকে বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে অ্যারেস্টর বা বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ৯শ কোটি টাকা ব্যয়ে নেওয়া পাইলট প্রকল্পটি এখন একনেক বৈঠকে অনুমোদন হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী বলেছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা গেলে বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমে আসবে। এছাড়া বজ্রপাতপ্রবণ ২৩ জেলায় ছাউনি নির্মাণে একটি প্রকল্প হাতে নেয় সরকার। প্রতিটি ছাউনির সম্ভাব্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা। এক কিলোমিটার অন্তর অন্তর নির্মাণ করা হবে একেকটি শেল্টার, যাতে বজ্রপাতের আওয়াজ পেলেই মাঠের কৃষকসহ মানুষ সেখানে আশ্রয় নিতে পারে। দেশের বিভিন্ন জেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট