1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
ডেঙ্গুর সাথে নীরবেই বাড়ছে টাইফয়েড রোগী - বাংলা টাইমস
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন

ডেঙ্গুর সাথে নীরবেই বাড়ছে টাইফয়েড রোগী

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ৪৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর সঙ্গে এবার দেখা দিয়েছে টাইফয়েডের প্রাদুর্ভাব। আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রায় একই হওয়ায় ডেঙ্গুর সঙ্গে নীরবেই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। মূলত জ্বরের শুরুতে ডাক্তাররা ডেঙ্গুর পরীক্ষা দিচ্ছেন, পরে ডেঙ্গু শনাক্ত না হলে করানো হচ্ছে টাইফয়েড পরীক্ষা। এতে শনাক্তে দেরী হওয়ার কারণে রোগীর দু’বেলা অ্যান্টিবায়োটিকের ধকল সহ্য করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিনই ভিড় করছেন টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগী। ডেঙ্গুর লক্ষণের সঙ্গে মিল থাকায় গুলিয়ে যাচ্ছে এই রোগ।

 

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, সাধারণত রোগ-জীবাণু শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিন পর টাইফয়েডের লক্ষণ দেখা দেয়। জ্বর এই রোগের প্রধান লক্ষণ, যা প্রথম চার-পাঁচদিন কখনও বাড়ে আবার কখনও কমে। তবে কোনো সময় সম্পূর্ণ ছেড়ে যায় না। এর মধ্যে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত টানা জ্বর হওয়া, সঙ্গে মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা ও শারীরিক দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা হওয়াসহ কারও কারও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে ডায়রিয়া ও বমি, গা ম্যাজ ম্যাজ করাসহ কফ বা কাশি হতে পারে।

জানা গেছে, টাইফয়েড জ্বর ‘স্যালমোনেলা টাইফি’ নামের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এই জীবাণু ছড়ায়। তখন জ্বরসহ নানান ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্তস্রোত ও অন্ত্রনালীতে এই ব্যাকটেরিয়া অবস্থান করে এবং দূষিত খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে দেহে প্রবেশ করা জীবাণুগুলো গুণিতক আকারে বেড়ে গিয়ে রক্তস্রোতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে জ্বরসহ নানান ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়।

জানা গেছে, টাইফয়েড দু’ধরনের জীবাণুর সংক্রমণে হয়ে থাকে—‘সালমোনেলা টাইফি’ ও ‘সালমোনেলা প্যারাটাইফি’। সালমোনেলা টাইফির সংক্রমণে যে জ্বর হয় তাকে টাইফয়েড জ্বর বা ‘এন্টারিক ফিভার’ বলে। আর যদি জ্বর সালমোনেলা প্যারাটাইফি জীবাণুর কারণে হয় তখন তাকে ‘প্যারা টাইফয়েড’ জ্বর বলে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, টাইফয়েড দ্রুত শনাক্তের জন্য ‘ব্লাড কালচার’ পরীক্ষা করতে হয়। যদি নমুনায় ‘স্যালমোনেলা’ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি পাওয়া যায় তাহলে প্রকারভেদে টাইফয়েড ও প্যারা টাইফয়েড পার্থক্য করা হয়। এছাড়া জ্বর হওয়ার দ্বিতীয় সপ্তাহে ‘উইডাল টেস্ট’ নামের এক ধরনের ননস্পেসিফিক ব্লাড টেস্ট করতে হয়, যেটিতে টাইটার দেখে টাইফয়েড নির্ধারণ করা হয়। তবে টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা না নিলে জ্বর সপ্তাহ বা মাসব্যাপী থাকতে পারে। ডেঙ্গু আর টাইফয়েডের চিকিৎসা ভিন্ন, টাইফয়েডে দু’বেলা অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হয়।

তেমনই এক রোগী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. রায়হান। সকালে তিনি ওঠে দেখেন তার গা গরম। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার জ্বর বাড়তে থাকে। ডাক্তারের পরামর্শে আট ঘণ্টা পর পর নাপা খেলেও জ্বর কমে না। এরপর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে দেখালে ডাক্তার তাকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে দেন। ডেঙ্গুর রিপোর্ট নেগেটিভ যখন হাতে আসে তখন তার জ্বর চারদিনে গড়িয়েছে। এরমধ্যে শুরু হয় বমি ও প্রচণ্ড মাথা ব্যথা। এরপর বাসায় কেটে যায় আরও দু’দিন।

অসুস্থতা তীব্র হলে চট্টগ্রাম মেডিকেলের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে আনার পর রাখা হয় অবজারভেশনে। সেখানে আরও দু’দিন রাখার পর তাকে ভর্তি করা হয় ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে। পরে ডাক্তার টাইফয়েড শনাক্তের জন্য ব্লাড কালচার পরীক্ষা করতে দেন। এরপর শুরু হয় রায়হানের টাইফয়েডের চিকিৎসা। চলে দু’বেলা করে অ্যান্টিবায়েটিক ইনজেকশন। কিন্তু এ ধকলে রায়হানের শরীর এখন প্রচণ্ড দুর্বল। শুধুমাত্র দেরীতে টাইফয়েডের চিকিৎসা শুরু হওয়ায় ধকল সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে তার।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের বহির্বিভাগের রেসিডেন্ট ফিজিশিয়ান ডা. মো. শাহেদ উদ্দিন বলেন, ‘প্রতিদিন বহির্বিভাগে সাত থেকে আটজন টাইফয়েড রোগী আসছে। তবে যারা আসছে, তারা আসছে অনেক দেরীতে। এমনও টাইফয়েডের রোগী পাচ্ছি, তারা অ্যান্টিবায়োটিকের ডোজ কমপ্লিট করে এসেছে। অবশ্য এ রোগীরা ডেঙ্গু পরীক্ষা করে নেগেটিভ পেলেও টাইফয়েড টেস্ট করার প্রয়োজনীতা মনে করেনি।’

চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ফাহিম রেজা বলেন, ‘যেকোনো বয়সেই টাইফয়েড হতে পারে, তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শরীরে জীবাণু প্রবেশ করলেই টাইফয়েড হবে—এমন কোনো কথা নেই। কারণ দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো থাকলে অনেক সময় জীবাণু সংক্রমণ করতে পারে না। কিন্তু শিশুদের শরীর টাইফয়েডের জীবাণু প্রতিরোধ করতে পারে না। তাই মা ও শিশু হাসপাতালে প্রতিদিন আট থেকে ১০ জন টাইফয়েডের শিশু রোগী পাওয়া যাচ্ছে।’

চট্টগ্রাম মেডিকেলের ১৬ নম্বর মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অনিরুদ্ধ ঘোষ জয় বলেন, ‘ডেঙ্গুর মতোই টাইফয়েড রোগীকে চিকিৎসার পাশাপাশি অধিক পরিমাণে তরল খাবার দিতে হবে। কারণ দীর্ঘস্থায়ী জ্বর এবং ডায়রিয়ার কারণে রোগীর শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দেয়। টাইফয়েডের রোগীকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। জ্বর বেশি থাকলে পুরো শরীর ভেজা গামছা বা তোয়ালে দিয়ে মুছে দিতে হবে। উচ্চ ক্যালরি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। প্রতিবার বাথরুম ব্যবহারের পর হাত পানি ও সাবান দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যতদিন পর্যন্ত চিকিৎসক অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণের পরামর্শ দেবেন, ততদিন পর্যন্ত তা গ্রহণ করতে হবে। পানি ফুটিয়ে খেতে হবে এবং স্ট্রিট ফুড খাওয়া যাবে না।’

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট