1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
স্বামী-সন্তান নেই তবুও শিক্ষা ভাতা তুলছেন শিক্ষিকা - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:১৭ অপরাহ্ন

স্বামী-সন্তান নেই তবুও শিক্ষা ভাতা তুলছেন শিক্ষিকা

মমিনুলা ইসলাম বাবু, কুড়িগ্রাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামে এবার স্কুল শিক্ষিকার অভিনব প্রতারণার কান্ড ফাঁস। বয়স হয়নি চাকুরি করছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শুধু তাই নয় স্বামী-সন্তান নেই তবুও সন্তানের পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ভাতা তুলেছেন এক শিক্ষিকা। আর এমন অভিনব প্রতারণা বিষয়টি উঠে আসে শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক ফাউন্ডস ট্রান্সফার(ইএফটি) তথ্য পূরণ করতে গিয়ে ধরা পড়ে শিক্ষিকার কান্ড!

 

ঘটনাটি ঘটেছে,কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের আরাজি পিপুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল শিক্ষিকা রুনা খাতুন। তিনি ২০১০সালে রেজিষ্ট্রার্ড বেসরকারি স্কুল থাকার সময় ৪জন শিক্ষক এক সঙ্গে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তি সরকার সারাদেশে ২০১৩সালে দেশের প্রায় ৩০হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সমূহকে জাতীয়করণ করেন। আর এই সুযোগে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষকও সরকারি হয়ে যায়।

সরেজমিনে যাত্রাপুর ঘাট থেকে প্রায় ২০-২৫মিনিট নৌকা যোগে যেতে হয় আরাজি পিপুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টি শিশু শ্রেণী হতে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষাথর্ী রয়েছে প্রায় ২২৪জন। বিদ্যালয়ে ৫টি পদের মধ্যে আছেন ৪জন শিক্ষক। এরমধ্যে সহকারি শিক্ষক রুনা খাতুন। তথ্যানুসন্ধানে দেখাযায় তিনি সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চাকলি গ্রামের বখত জামান ও রেনু বেগম দম্পতির মেয়ে রুনা খাতুন। তিনি ২০১০সালে সিরাজগঞ্জের আরিয়া মহন স্কুল থেকে মানবিক বিভাগ হতে জিপিএ-৩.৬৯ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। এসএসসি সনদ অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ হলো ১৩আগষ্ট ১৯৯৫। অথচ তিনি চাকুরিতে প্রবেশের সময় ১৩আগষ্ট ১৯৯০ জন্মসাল ব্যবহার করে নিয়োগ নেন। এছাড়াও তিনি অবিবাহিত হয়েও নিজেকে বিবাহিত পরিচয় দিয়ে থাকেন। এবং ২০১৭সাল থেকে সন্তান না থেকেও সন্তানের নাম ব্যবহার করে ৫শ টাকা হারে শিক্ষা ভাতা তুলেছেন। কিন্তু চলতি বছর শিক্ষকদের ইলেকট্রনিক ফাউন্ডস ট্রান্সফার(ইএফটি) মাধ্যমে বেতন ভাতা প্রদান করার জন্য তথ্য আপলোড করতে গিয়ে ধরা পড়ে শিক্ষকের এমন প্রতারণা।

গত ৪জুলাই কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার ভুয়া জন্মসাল এবং মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিক্ষাভাতা গ্রহণের বিষয়ে কারণ দশার্নোর চিঠি প্রদান করে। এই পত্রে জানানো হয় পরিবারের প্ররোচনায় চাকুরিতে প্রবেশের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা “খ” ছকে লিপিবদ্ধ এবং অবিবাহিত হয়েও স্বামী-সন্তান না থেকেও ইএফটিতে সেই তথ্য গোপন করেছেন। এবং শিক্ষাভাতা উত্তোলন করার অভিযোগে স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে কারণ দশার্নোর জবাব দিতে নির্দেশ প্রদান করে শিক্ষা বিভাগ।


অভিভাবক জহুরুল ইসলাম বলেন,নদী ভাঙ্গনের কারণে এখানে কোন স্কুল ছিল না। কোন শিক্ষিত মানুষও ছিল না সেসময়। পরে আমরা এখানে স্থানীয় একটা স্কুল করি। এই ৪জন শিক্ষককে নিয়ে। রুনা আপা এখানকার বাসিন্দার আত্নীয়তার সূত্রে চাকুরি করেন। কিন্তু তার বয়স হয়েছিল কিনা সেটা তো আমরা জানবো না? এটা সরকারের বিষয় সরকার দেখবে।

অভিভাবক বালা বেগম বলেন,প্রায় এক যুগ ধরে এই চরের স্কুলে রুনা আপা চাকুরি করছেন। তিনি বিয়ে করেনি এবং তার কোন বাচ্চা নেই। কিন্তু অফিসে তথ্য কি দিয়েছে সেটাতো বাপু হামরা কমু ক্যামনে?

অভিযুক্ত শিক্ষিকা রুনা খাতুন ভুয়া জন্মসাল এবং অবিবাহিত থাকার কথা স্বীকার করে বলেন,বয়স ঠিকঠাক করে শোকজের জবাব দিয়েছি। তিনি আরও স্বীকার করেন সন্তান না থেকেও ২০১৭সাল থেকে তিনি সন্তানের নামে ৫শ টাকা হারে শিক্ষা ভাতা তুলেছেন।

প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন,স্কুলটি যখন বেসরকারি ছিল তখনই এক সাথে আমরা ৪জন শিক্ষক ২০১০সালে ২৫অক্টোবর এখানে নিয়োগ নেই। পরবর্তি ২০১৩সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হয়। কিন্তু সহকারি শিক্ষকের জন্ম সাল ভুয়া ছিল তা আমরা কাগজপত্র দেখে টের পাইনি। ইএফটি পূরণ সময় বিষয়টি সবার নজরে আসে। বর্তমানে এই বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত করছেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার লুৎপর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাংলা টাইমসকে বলেন, তদন্ত শেষ হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দিয়েছি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট