1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে চীন-ভারতের ভূমিকা কি যথার্থ? - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৮:২৬ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে চীন-ভারতের ভূমিকা কি যথার্থ?

এরশাদুল হক দুলাল
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের রাজনীতি এবং অর্থনীতির ক্ষেত্রে ভারত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতির অনেকটাই ভারত নির্ভরশীল। ভারতের নিজস্ব প্রয়োজনে অর্থাৎ আঞ্চলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বাংলাদেশকে সব সময় পাশে পেতে চায় ভারত। বন্ধু প্রীতম প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসাবে তাই ভারত রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আমাদের সহায়তা দিয়ে আসছে।

 

অপরদিকে চীনও এশিয়ার আঞ্চলিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে ভারতের সাথে প্রতিযোগিতা করে এগিয়ে যাচ্ছে। তথা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক দেশগুলোতে চীনের অর্থনৈতিক ভূমিকা মোটেও কম নয়। বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে অত্যন্ত সজাগ ও সচেতনার সাথে এগিয়ে যাচ্ছে। ভারত ও চীন উভয়ই আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র। কারো সাথে আমাদের কোন বৈরী সম্পর্ক নেই। কিন্তু বৈশ্বিক রাজনীতির ফলে কখনও কখনও আমাদের কেউ ভালো চোখে আবার কেউবা স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটলে একটু বাকা চোখেও তাকায়। এর মধ্যে দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

ভারক ও চীনের অর্থনৈতিক এভং রাজনৈতিক সম্পর্ক মোটেই ভালো নায়। ভারতের সীমান্ত নিয়েও চীনের সাথে রয়েছে বিরোধ। এক্ষেত্রে ভারত যেখানে হস্তক্ষেপ করে চীন সেখানে একটু বাঁকা দৃষ্টিতে তাকাবে এটাই স্বাভাবিক।

অর্থাৎ চীন ভারতের বৈরী সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। অন্যদিকে বর্তমানে বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা হুমকির মুখে যাহা দৃশ্যমান। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে ফলে বৈশি^ক অর্থনীতির মারাত্মক ক্ষতির সম্মূখীন হতে হচ্ছে। আবার চীন-তাইওয়ান নিয়ে চলছে উত্তেজনা। এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ায় রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে।

রোহিঙ্গা সমস্যা বাংলাদেশের জন্য এবটি বড় ধরনের ভবিষ্যত হুমকি। এ বিষয়ে দলমতের উর্ধ্বে আমাদের সকলের কাজ করা উচিত। আমাদের আগামী প্রজন্মের কথা চিন্তা করে বুদ্ধিজীবি ও রাজনীতিবীদদের এ বিষয়ে গভীর মনোযোগ সরকারের সমাধানের লক্ষ্যে সুচিন্তিত মতামত দেয়া উচিত বলে মনে করি।

বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নসহ অনেক ক্ষেত্রে চীনের ভূমিকা অগ্রগামী। এ ক্ষেত্রে আমাদের জন্য চীন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি ভারত আমাদের প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্র তাই এ ক্ষেত্রে আমাদের রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকাও কম নয়।

রোহিঙ্গা সমস্যা আমাদের মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। প্রায় ১২ লক্ষ রোহিঙ্গাদের সমস্যা নিয়ে আমরা সকলের সহযোগীতা চেয়েও কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। কারণ মিয়ানমার নিয়ন্ত্রণ করে চীন। মিয়ানমারের সাথে চীনের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। মিয়ানমারের উন্নয়নে মূখ্য সহযোগী একমাত্র চীন। এজন্য চীন কড়াভাবে মিয়ানমারকে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সম্পর্কে বেশি একটা চাপ প্রয়োগ করতে পারে না। অন্যদিকে চীনের সাথে প্রতিযোগীতায় ভারত মিয়ানমারের অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নে যথেষ্ট সহায়তা করে আসছে। এ ক্ষেত্রে ভারতও চায় মিয়ানমারের সাথে সুম্পর্ক বজায় রাখতে। এ কারণে ভারত আমাদের রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে তেমন গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে চায় না। অন্যদিকে রাশিয়ার সম্পর্কও মিয়ানমারের সাথে ভালো। কারণ মিয়ানমার রাশিয়া থেকে অস্ত্র ক্রয় করে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখছে।

বাংলাদেশের রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে চীন ভারত প্রকৃতপক্ষে কথা বলে না। যা বলে তা কথার কথা। ভারত ও চীন যদি আন্তরিকতার সাথে মিয়ানমারকে বাংলাদেশের রহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চাপ প্রয়োগ করে তাবে অবশ্যই দ্রুত এর সমাধান সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের নিয়ে চলছে রাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাতীসংঘ, ইউরোপীয়ন ইউনিয়ন, বেলারুস, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বহুদেশ রোহিঙ্গাদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ধীরে ধীরে এ সহযোগীতার মাত্র কমিয়ে দিচ্ছে বিশ^দাতা দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো। ফলে আগামী এক বছর পরে হয়তোবা আমাদের নিজস্ব অর্থায়নে রোহিঙ্গাদের ভরণ পোষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে আমরা বিশ্বের কাছে দ্রুত সমাধানের আশা করেছিলাম। ধীরে ধীরে এটা দীর্ঘ্যায়িত হচ্ছে। যতই দীর্ঘায়িত হচ্ছে ততই আমাদের সমস্যা ও সংকট প্রকট হচ্ছে। সবাই নীতিগতভাবে আমাদের পক্ষে কথা বলে কিন্তু কাজে কাজ কিছুই হচ্ছে না। বরং রোহিঙ্গাদের জন্য আমরা আমাদেতর ভূখন্ডে স্থায়ীভাবে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। যার অর্থ দিচ্ছে অন্যান্য দেশ। তাহলে কি এটা আমাদের সার্বভৌমত্বের জন্য ভবিষ্যৎ হুমকি নয়? সজাগ থাকতে হবে আমাদের। বাংলাদেশের রো হিঙ্গা সমস্যা অনেক দেশের তুরকের তাসে পরিণত হচ্ছে।

আগে ঘর সামলাতে হবে। অর্থাৎ নিজ স্বার্থ দেখতে হবে। মিয়ানমার নিয়ে ভারত ও চীন তাদের স্বার্থটাই আগে দেখবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের সমস্যার কথা মনে পড়ে ফজলুর রহমান বাবু’র গানের কলি মনে পরে গেল- “সামনে নদী ডানে বামে দুইপাশে দুইকুল, আমি কোন কুলেতে পাড়ি দেব কোনটি আমার ভূল”। তারপরেও থেমে থাকলে চলবে না। ভারতে হবে গভীরভাবে, এগুতে হবে সতর্কতার সাথে। তবেই আমরা আমাদের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছতে পারবো।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
ই-মেইল:- [email protected]

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট