1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চোরাচালান/ মাদকের টাকায় কিনছে স্বর্ণ - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চোরাচালান/ মাদকের টাকায় কিনছে স্বর্ণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
ফাইল ফটো

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সোনার চাহিদা বাড়ছে। ইয়াবা, অস্ত্র ও ক্রিস্টাল মেথ আইস বিক্রির টাকা ব্যাংকে রাখার সুযোগ না থাকায় রোহিঙ্গারা সোনা কিনে রাখায় নিরাপদ বলে মনে করছে। বাংলাদেশের চেয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমারে সোনার দাম ভরিতে পাঁচ-সাত হাজার টাকা কম। সে কারণে লাভের আশায় মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে সোনা আনছে রোহিঙ্গারা। এসব সোনা ছড়িয়ে পড়ছে কক্সবাজারসহ সারাদেশের বিভিন্ন বাজারে।

 

সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের কাস্টমস এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৩ কেজি ৩২২ গ্রাম ওজনের ২০টি সোনার বারসহ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি। গ্রেপ্তার কবির আহমদ (৩০) নামের ওই ব্যক্তির বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু এলাকায়।

রামু ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মেহেদী হোসাইন বলেন, মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আনা সোনার চালানটি উখিয়ার কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে নেয়া হচ্ছিল। উদ্ধার করা সোনার বারগুলো কবির আহমদের কোমরে লুঙ্গির ভাঁজে লুকানো ছিল। এ সোনার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ টাকার মতো।

বিজিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৮ মাসে কেবলমাত্র নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, উখিয়ার রহমতের বিল, পালংখালী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ১৭১ কোটি টাকা মূল্যের ৫৬ লাখ ৮১ হাজার ইয়াবা, ৭০ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের ১৪ কেজি ২০ গ্রাম আইস এবং ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা মূল্যের ৩ কেজি ৩২৩ গ্রাম ওজনের ২৪টি সোনার বার উদ্ধার করেছে বিজিবি। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় ৭৫ জন চোরাকারবারিকে।

টেকনাফ ২ বিজিবি গত এক বছরে উদ্ধার করেছে ৪৬৩ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য। এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় ৩৩৩ জন মাদক কারবারিকে। উদ্ধার করা মাদকের মধ্যে ইয়াবা ৪০ লাখ ৩২ হাজার ও আইস ৫৪ কেজি ৫৭০ গ্রাম। এছাড়াও এ সময়ে সোনা উদ্ধার করা হয়েছে ২১ কেজি ৮০৭ গ্রাম।

এনিয়ে টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, বাংলাদেশের তুলনায় মিয়ানমারের সোনার দাম কিছুটা কম। এ কারণে এখানে সোনার চাহিদা বেশি।

উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাড়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গার বসবাস। এর মধ্যে ১০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা সোনা ও মাদক চোরাচালানে জড়িত দাবি করে কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নেতা জাফর আলম ও আব্দুর শুক্কুর। তারা বলছে, পাঁচ বছর ধরে রোহিঙ্গারা ক্যাম্পে পড়ে আছে। ৬ লাখ তরুণ-যুবক বেকার। প্রত্যাবাসনও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ কারণে হতাশ তরুণ-যুবকেরা মাদক ও সোনা চোরাচালানে জড়াচ্ছে।

তারা আরও বলছে, মাদক বিক্রির লাখ লাখ টাকা ব্যাংক কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠানে জমা রাখার সুযোগ রোহিঙ্গাদের নেই। নগদ টাকা ক্যাম্পের ঝুপড়িঘরে রাখা বিপদ নয়। তাই রোহিঙ্গারা নগদ টাকায় কিনে রাখে সোনা। পরিমাণে অল্প হওয়ায় সোনার বার মাটির নিচে কিংবা ঘরের কোথাও লুকিয়ে রাখা যায়।

এদিকে, গত ১৪ জুন উখিয়ার বালুখালী ক্যাম্প-৮ ইস্ট বি-ব্লকের সিদ্দিক আহমদের বসতঘরে তল্লাশি চালায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। এ সময় ঘরের মেঝেতে লুকিয়ে রাখা ৩ লাখ ২৩ হাজার ইয়াবা এবং ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ২ লাখ ৫৮ হাজার ৫২০ টাকা ও ১ হাজার ২৩৫ মিয়ানমারের মুদ্রা (কিয়াট) উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সিদ্দিক আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে ১৯ জুন ১৪ এপিবিএন কুতুপালং ক্যাম্পের এ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আইয়ুব আলীর ঝুপড়িঘরে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে ৩টি সোনার বারসহ ৭০ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, ২৬ লাখ ৩ হাজার টাকা ও ৩১ লাখ ৭৪ হাজার ৮০০ কিয়াট। এ সময় আইয়ুব আলী (৩৮) ও তাঁর স্ত্রী নুরুনেসাকে (৩২) গ্রেপ্তার করা হয়।

উখিয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, মাদক, আইস ও সোনাসহ মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে আসে, এসবকিছুর টাকা লেনদেন হচ্ছে হুন্ডিতে।

১৪ এপিবিএন সূত্রে জানাগেছে, মাদক বিক্রির টাকায় রোহিঙ্গারা সোনার বার কিংবা স্বর্ণালংকার কিনে রাখছে। শুরুর দিকে ক্যাম্পে স্বর্ণালংকার বেচাবিক্রির বেশ কিছু দোকান ছিল। এপিবিএন দায়িত্ব নেওয়ার পর দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। এখন ক্যাম্পের বাইরে টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কের কাছে বেশ কিছু জুয়েলারি দোকান রয়েছে। এ দোকানগুলো বাংলাদেশিরা পরিচালনা করে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিছু রোহিঙ্গা নেতারা বলছে, মাদকের টাকা ছাড়াও বিদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের কাছে বিপুল টাকা আসে। ক্যাম্পের ভেতরে গড়ে ওঠা ৩৭ হাজারের বেশি দোকানপাটে দৈনিক ৫ থেকে ৭ কোটি টাকা লেনদেন হয়। এই টাকা ও স্থানীয় শ্রমবাজার থেকে আয়ের টাকা জমা রাখার ব্যবস্থা নেই। তাই রোহিঙ্গাদের কাছে মিয়ানমারের সোনার দাম বেশি। রাখাইন রাজ্যে থাকতেও রোহিঙ্গারা টাকার পরিবর্তে সোনার মজুত গড়তো।

কক্সবাজারে এ পর্যন্ত সোনার সবচেয়ে বড় সোনার চালানটি ধরা পড়েছে গত বছরের ৯ আগস্ট। ওই দিন উখিয়ার টিভি টাওয়ারের সামনে থেকে ২ কোটি ৯১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৪৭০ ভরি ওজনের ৩৩টি সোনার বারসহ মো. জয়নুল আবেদিন (৬৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি। তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি শূন্যরেখায় গড়ে ওঠা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। বিজিবি জানায়, মিয়ানমার থেকে সোনার চালান নিয়ে জয়নুল উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যাচ্ছিলো। জয়নুল তখন পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বলেছিলো, সোনা ও মাদক বিক্রির টাকা হুন্ডির মাধ্যমে মিয়ানমারে পৌঁছানো হয়।

গত বছরের ১ নভেম্বর উখিয়ার পালংখালী কুড়ারপাড়া এলাকায় থেকে ৩২টি সোনার বারসহ বিজিবি গ্রেপ্তার করেছিল রোহিঙ্গা তরুণ মো. কলিমকে। তিনি উখিয়া কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা। কলিমও হুন্ডির মাধ্যমে টাকা লেনদেনের কথা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে।

উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, দেশে প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হচ্ছে ৮৪ হাজার টাকার বেশি দামে। কিন্তু মিয়ানমারের সোনা পাঁচ-সাত হাজার টাকা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে অনেকে মিয়ানমারের সোনার দিকে ঝুঁকছে। উখিয়া-টেকনাফের মানুষও মিয়ানমার থেকে আসা সোনা ব্যবহার করে। এ কারণে ক্যাম্পগুলোতে নতুন নতুন কারবারি তৈরি হচ্ছে।

এদিকে, মিয়ানমার কেন্দ্রীক ইয়াবা ও আইস কারবারে নেতৃত্বে দিচ্ছে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন সিন্ডিকেট। ২৬ আগষ্ট তার মাদক সেক্টরের মূলহোতা রাজ্জাক মাঝিসহ পাঁচজনকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৪ লাখ ১০ হাজার ইয়াবা, একটি বিদেশি একে-২২ রাইফেল, একটি বিদেশি পিস্তল, একটি এসবিবিএল ও ১৭ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলো আব্দুল্লাহ রাজ্জাক ওরফে রাজ্জাক মাঝি, ইলিয়াছ, সাহেদ, মো. আয়াছ ওরফে আজিজুল ও সাইফুল ইসলাম। এর মধ্যে রাজ্জাক মাঝি ও আজিজুল হক রোহিঙ্গা। বাকি তিনজন বাংলাদেশের নাগরিক। ইলিয়াছ কক্সবাজারের কলাতলীর কটেজ জোনের হিল পার্ক কটেজের মালিক। র‌্যাব জানায়, নবী হোসেন ও রাজ্জাক এ দুই রোহিঙ্গা উখিয়া ও টেকনাফের অস্ত্র এবং মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে।

এছাড়া সীমান্তে মাদক ও অস্ত্র পাচারসহ নানা চোরাকারবারের অন্যতম হোতা রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী নবী হোসেন। তাকে ধরিয়ে দিতে ১০ লাখ টাকার পুরস্কার ঘোষণা দিয়ে পোস্টারিং করেছে বিজিবি।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট