1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
একজন সফল নারী উদ্যোক্তা শারমিন - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

একজন সফল নারী উদ্যোক্তা শারমিন

মাসুদ রানা, আটঘরিয়া (পাবনা)
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৬ জুলাই, ২০২২
  • ১১০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

পাখি চাষ করে সফল নারী উদ্যোক্তা পাবনার সাঁথিয়ার মুক্তিযোদ্ধা কন্যা শারমিন সুলতানা। তিনি দেখিয়ে দিয়েছেন নারীরা শুধু ঘরবন্দি বা পর নির্ভরশীল নয়; তারাও হতে পারেন একজন সফল উদ্যোক্তা।

 

তাই তিনি নিজ উদ্যোগে দেশী-বিদেশী পাখি ও গরু পালন করে আয় করছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। তিনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা। শারমিন সাঁথিয়া সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা আয়েজ উদ্দিনের মেয়ে ও সাঁথিয়ার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইন্তাজ মল্লিকের পুত্র সোহেলের স্ত্রী।

জানা গেছে, ২০২০ সালে তাঁর বার্ড ফ্যাক্টরিতে দেশী-বিদেশী ২৮ জোড়া পাখি নিয়ে খামারের শুরু করে। এতে খরচ হয় ৮৫ হাজার ২শ’ টাকা। ওই বছরে আয় হয় ২ লাখ ৪০ হাজার। খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয় ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ৩শ’ টাকা। ২০২২ তা এখন ১১০- জোড়া দেশী বিদেশী পাখি আছে। এতে তাঁর নেট লাভ হয় ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার ১শ’ টাকা।

বর্তমানে তাঁর খামারে দেশী, বিদেশী গরু ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির মধ্যে রয়েছে যেমন, ডায়মন্ড ডাব, জাপানিজ বাজিগর, ফিপ্ত, ককটেল, লাভবার্ড ও দেশী বিদেশী কবুতর। মাঝে মধ্যেই পাখি ও গরুর খামার দেখতে আসেন সাঁথিয়া উপজেলা যুবউন্নয়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রশিক্ষকগণ। কোন সমস্যা দেখা দিলে তাকে পরামর্শ দেন সমাধানের।

খামার মালিক শারমিন জানান, ২০১২ প্রাণী বিদ্যা বিভাগ থেকে মাস্টার্স শেষ করে বিয়ে হয় সম্ভ্রান্ত পরিবারে। বাবা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় চাকুরির কোটা থাকা সত্ত্বেও ছোট সন্তানের জন্য সেই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারি নাই। সেই থেকে মনে আমার অদম্য ইচ্ছা ছিল স্বনির্ভর হওয়ার। নারী মানেই ঘর বন্দি পরনির্ভর এটা আািম মানতে পারি নাই কখনো। প্রথমে শুরু করি বাড়ির ছাদে পোলট্রি ফার্ম। সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে প্রতারিত হই। পোলট্রি ফার্মে ভাইরাস আক্রান্ত মুরগির বাচ্চা দেয়ায় ক্ষতি হয়। এতে আমি দমে যাইনি।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তিতে ওই ঘরে ২০২০ সালে অল্প কিছু পাখি নিয়ে ছোট আকারে পালন শুরু করি। এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সাহায্য নেই। বিভিন্ন সভা সেমিনারে উপস্থিত থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। অল্প দিনেই একটা সাফল্য পাওয়ায় বার্ড ফ্যাক্টরির পাশাপাশি গরু মোটা তাজাকরণ প্রশিক্ষণ নিয়ে এসএমএস এগ্রো নামে আরও একটি ফার্ম করে সেখানে গরু, ছাগল পালন করি।

আমার বার্ড ফ্যাক্টরি ও এসএমএস এগ্রো ফার্মে গেল ৩ বছরে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করি। বর্তমানে ৪জন কর্মচারি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছি। আমি চাই আমার মত শিক্ষিত নারীরা ঘরে বসে না থেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আত্মকর্মসংস্থান গড়ে তুললে নিজের যেমন অর্থনীতিতে স্বাবলম্বী হবে সেই সাথে দেশেরও উন্নয়ন হবে।

সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মুক্তা ভদ্রা বাংলা টাইমসকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা কন্যা শারমিন একজন সফল উদ্যোক্তা। তিনি চাকুরির পিছনে না ছুটে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এ ব্যবসা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। শারমিনও তাই করেছে। আমরা তার সফলতা কামনা করি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট