1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
বাবা আমার প্রেরণা - বাংলা টাইমস
মঙ্গলবার, ২৮ জুন ২০২২, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন

বাবা আমার প্রেরণা

সুপন রায়
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১৯ জুন, ২০২২
  • ৬৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
রাজেশ্বর বাবু

১৯ জুন। বাবা দিবস। আমার বাবা শুধু আমার জন্মদাতা নন, আদর্শেরও প্রতীক। তিনি আমার প্রেরণা। আমার বাবা রাজেশ্বর বাবু আমাদের মাঝে নেই।

 

মহান সৃষ্টি কর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে ২০১৪ সালের ১৬ মে তিনি চিরদিনের জন্য ওপারে চলে গেছেন। বাবা যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন তিনি আমাদের চাইতেও মানুষের কাছেই বেশি সময় ছিলেন। মানুষের মাঝে থেকে মানুষের জন্যই আজীবন করে গেছেন তার সামর্থ্য আর সক্ষমতা অনুযায়ী। মানুষকে ভালোবাসা মানুষের সেবা করা এই ব্রত নিয়েই তিনি মানুষের ভালোবাসায় আজীবন বেঁচে ছিলেন। কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি আমাদের জন্য কিছু করে যাননি। তিনি আমাদের জন্যও করে গেছেন তার সাধ্য ও সামর্থ অনুযায়ী।

আমার বাবা ছিলেন নির্লোভ, নির্মোহ, নিরংহকার ও পরোপকারী। জীবনভর দিয়েছেন সবসময় উজাড় করে, নেননি কিছুই। হৃদয় দিয়েই ভালবাসতেন সুহৃদসহ ছোট-বড় সকলকেই। যে ভালবাসা ছিল নিখাদ, নির্ভেজাল, তার মধ্যে কোনদিন রাগ, ক্ষোভ, জেদ, বিরক্তি, অসহিষ্ণুতা, মুখভার- এগুলোর একটিও ছিল না। তার কথায় কেউ আহত হয়েছেন এমন নজির মেলা ভার। যেকোন কাজে তার কাছে সহযোগিতা চেয়ে পাননি এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না। বাবা হলেন আমার আদর্শ মানুষ। আমার কাছে আমার বাবা ভাল বুজুর্গ মানুষ বা তিনি ভাল পীর ছিলেন। তিনি আমার শক্তিরও উৎস।

আমি আমার বাবাকে কাছ থেকে দেখেছি, নিকট থেকে জেনেছি। বাবার মুখে কখনো খারাপ কথা শুনিনি, বাবা কখনো কাউকে গালি দিতেন না। আমার দৃষ্টিতে আমার বাবা হলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। তিনি ছিলেন ভাল অভিভাবক।

ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার বাদলকাঠি গ্রামে সম্ভ্রান্ত সনাতন পরিবারে তিনি জন্মগ্রহন করেন। তিনি সমকালীন বিরল একজন আদর্শবান শিক্ষক হিসেবে ছাত্রদের শুধু স্বপ্নই নয়, স্বপ্ন পূরণের পথ বদলে দিতেন এবং সঠিক রাস্তা দেখাতেন। আমাদের দেশের প্রায় প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আজ সততা নির্বাসিত, শিষ্টাচার দুর্লভ, বেশীর ভাগ শিক্ষার্থীরা আজ পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত। সমাজ ও রাষ্ট্রে নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর অগ্নি-মশাল নিয়ে ব্রতী যে শিক্ষক তিনিই পারেন আলোর পথ দেখাতে। আর সেই আলোর ফেরিওয়ালা প্রয়াত রাজেশ্বর বাবু (বিএসসি স্যার) স্যারের কর্ম ও শিক্ষাজীবন ছিল সাফল্যে পরিপূর্ণ। গণতন্ত্র, সুশাসন, কথা বলার স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং সমাজকর্ম শিক্ষার প্রসারে তিনি অনবদ্য ভূমিকা রেখে গেছেন।

আমার বাবা বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার সারওয়ারজান পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘ ২৮ বছর এই স্কুলেই তিনি শিক্ষাদান করেছেন।

বাবা দিবসে বাবা নেই। মা বেঁচে আছে। মা আজ শিশুর মতো বেঁচে আছেন। মা বেঁচে আছেন বলেই মাকে ঘিরেই আমাদের বন্ধন এখনো অটুট রয়েছে। এক সময় মা শিশু ছিলেন। শিশু থাকা অবস্থায় তিনি কিছুই করতে পারতেন না। তারপর ধীরে ধীরে তিনি বড় হয়েছেন। নিজের হাতেই সবকিছু করতে শিখেছেন। বাবার সাথে তার বিয়ে হয়েছে।

আমাদের পাঁচ ভাইবোনের জন্ম হয়েছে। বাবা ছিলেন মানুষের সাথে মানুষের মাঝে। বাবা আমাদের মানুষের মত মানুষ করবার চেষ্টা করেছেন। আজ আমরা বড় হয়েছি। মা আবারো শিশুতে পরিনত হয়েছেন। বয়সের ভার এখন তার চারিদিকে ছড়িয়ে আছে।

বাবা দিবেস মহান সৃষ্টি কর্তার কাছে শুধু এই প্রার্থনা তিনি মাকে আমাদের সবার মাঝেই বাঁচিয়ে রাখুন এবং মাকে ঘিরেই আমাদের পরিবারের সবার মাঝে মিল ও বন্ধন অটুট থাকুক।

 

লেখক পরিচিতি: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট