1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
কাঁচপুর চৌরাস্তা ঘিরে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব (পর্ব-১) - বাংলা টাইমস
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১১:১৮ অপরাহ্ন

কাঁচপুর চৌরাস্তা ঘিরে চলছে চাঁদাবাজির মহোৎসব (পর্ব-১)

বিশেষ প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৭ মে, ২০২২
  • ৭৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ফুটপাত থেকে সাধারণ নিরীহ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় করছে সিন্ডিকেটের সদস্যরা। চাঁদাবাজির টাকা ক্ষমতাসীন দলের নেতা, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন পাচ্ছে।

 

স্থানীয়রা জানান, পুলিশ পরিচয় দিয়ে নিয়মিত চাঁদা তোলা হচ্ছে। অবৈধ দখলদারদের কারণে সড়কে পথচারী ও যানচলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হলেও পকেট ভারী হচ্ছে চাঁদাবাজদের। যার কারণে সড়ক দখল করে গড়ে উঠা ফুটপাতের অবৈধ দোকান-পাট স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ হয় না। বরং বছরের পর বছর ধরে ইদুর-বিড়াল খেলা চলে উচ্ছেদের নামে। আর ভোগান্তি ও হয়রানীর শিকার হচ্ছে পথচারীরা। মজার বিষয় হলো চাঁদাবাজরা গ্রেপ্তার বা আটক হলেও মাসোহারা পাওয়া লোকজন তাদের জামিনে অথবা থানা থেকে ছাড়িয়ে আনে।

কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ লোকদেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালালেও তা বেশি দিন স্থায়ী হয়না। কারণ চাঁদাবাজদের শেল্টারদাতা প্রভাবশালী হওয়ায় নানাভাবে দেনদরবার করে পুনরায় সড়ক দখলে উৎসাহ পাচ্ছে অবৈধ দখলদাররা।

জানা গেছে, কাচপুর মোড় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পূর্ব পাশে অবৈধভাবে গড়ে উঠা সকল ফুটপাত দোকান থেকে দৈনিক ১০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশ।আর্থিক ফাঁয়দা লুটতে প্রতি দোকান থেকে ৫ হাজার টাকা করে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা চাঁদা তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা ও হাইওয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে আবার ফুটপাতে দোকান বসিয়েছে।

তথ্যমতে, আড়াইশতাধিক দোকান থেকে দৈনিক ২০০ টাকা করে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিমাসে ১৫ লাখ টাকা চাঁদা উত্তোলন করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ফুটপাতের দোকানদার জানান, সওজ কর্মকর্তা ও হাইওয়ে পুলিশ ম্যানেজ করে ফুটপাতে দোকান বসানো হয়েছে। আর এসব দোকানদার থেকে এককালিন ৫ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়েছে। আগে দৈনিক ১০০ টাকা করে নিলেও এখন নিচ্ছে ২০০ টাকা করে।

জানা গেছে, বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ মেইন একটি টার্নিং পয়েন্ট ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। রাতের আধাঁরে সড়কে ডিউটিরত পুলিশ নিজের বক্ষে নামের ব্যাচ খুলে প্রত্যেকে ডিউটি পরিচালনা করেন। এছাড়া ৪/৫ শ অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চলাচল নিষেধ বলে থানায় আটকিয়ে প্রতিটি গাড়ি থেকে ৫/১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। একের পর এ গাড়ি গুলো ছেড়ে দেয় এবং পরিবহন গ্রেজ মালিদের কাছে মাসিক মাশোহারার চুক্তি করে নিধনে। এধরনের প্রায় হালকা পরিবহন থেকে প্রতিমাসে ২০ লাখ টাকার চাঁদাবাজি হয়। এখন ইজিবাইক ও অটোরিক্সা যাদের থেকে মাসিক চুক্তি রয়েছে তাদের সড়ক পথে উঠার জন্য পার্মিশন টোকেন দিয়েছেন নিরবে। আর যারা টোকেন বিহীন তারা সড়ক পথে উঠলে ইজিবাইক ও অটোরিক্সা এ সকল যানবাহন ডাম্পিং এর ব্যবস্থা করেন।

জানাগেছে, চাঁদাবাজিতে ক্ষুদ্ধ স্থানীয় এলাকার সাধারন জনগণ। দীর্ঘদিনের ব্যাপক পরিবহন খাতের চাঁদাবাজি অভিযুক্ত হলেও আইনগতভাবে আমলে নেওয়া হচ্ছে না।

অনুসন্ধানে জানাগেছে, কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ওসি প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ম শেখ হাসিনার আত্মীয়-স্বজন ও গোপালগঞ্জের পরিচয়ে দিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। হরদমে উৎকোচ লুটিয়ে নিচ্ছে এ সকল পরিবহন থেকে- ইজিবাইক, অটোরিক্সা , ট্রাক, লেগুনা, সিএনজি, বডবডি, টেম্পু, সওজের জায়গায় ফুটপাত, বাস ও রাতের আধাঁরে মুরগির গাড়িসহ আরও বিভিন্ন পরিবহন থেকে মোটা অঙ্কের উৎকোচ লুটান ওসি নবীর হোসেন।

এসব বিষয়ে কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) নবীর হোসেন জানান, শীঘ্রই ফুটপাত উচ্ছেদ করা হবে। চাঁদাবাজির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

(চলবে…)

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট