1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
ফুলবাড়িয়ার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিজেই রোগী - বাংলা টাইমস
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১১:৩৭ অপরাহ্ন

ফুলবাড়িয়ার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো নিজেই রোগী

মো. হাবিব, ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ)
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ মে, ২০২২
  • ৫৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

দেশের প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করে। ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় বর্তমানে ৫২টির মতো কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা, টিকাদান কর্মসূচি, পুষ্টি, স্বাস্থ্যশিক্ষা, পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা প্রদান করার কথা রয়েছে। অথচ এসব ক্লিনিকের কার্যক্রম যেভাবে চলছে, তা সত্যিই হতাশাজনক।

 

ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মেহেশপুর। সদর থেকে গ্রামটির দূরত্ব প্রায় ১৬ কিলোমিটার দক্ষিণে। ঐ অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দিতে মহেশপুর বাজারে ২০০১ সালে গড়ে তোলা হয় ‘মহেশপুর বাজার কমিউনিটি ক্লিনিক’। গত প্রায় ৫ বছর ধরে কমিউনিটি ক্লিনিকটির অবস্থা একেবারেই বেহালদশা।

গত প্রায় ২ বছর যাবত কমিউনিটি ক্লিনিংকে সামেন টিন দিয়ে একটি খুপড়ি ছাপড়া ঘর উত্তোলন করে নামে মাত্র চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। উপজেলার ৫২ টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে প্রায় বেশির ভাগ কমিউনিটি ক্লিনিকের বেহাল দশা। সেবা নিতে আসা রোগীদের আয়রণ, ক্যালসিয়াম,প্যারাসিটামলসহ ২৭/৩০ প্রকার ঔষুধ সরবরাহ করা হয়ে থাকে থাকলেও ৩/৪ প্রকার ঔষুধ ছাড়া অন্য কোন ঔষুধ সরবারাহ করা হয় না রোগীদের।কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি), স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহাকারী (এফডাব্লিউএ)সহ তিনজন কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। তবে বেশির ভাগ কামউনিটি ক্লিনিকে সিএইচসিপি’রা সপ্তাহে সর্বোচ্চ দুই দিন ক্লিনিকে আসেন বলে অভিযোগ করে ক্লিনিক গুলোর আশপাশের বাড়ির লোকজন।

গত কয়েক দিন দশটা থেকে দুইটা পর্যন্ত সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, নয়ানবাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক, মহেশপুর বাজার কমিউনিটি, রঘুনাথ পুর কমিউনিটি, তেলিগ্রাম কমিউনিটি ক্লিনিক ও বাবুগঞ্জ বাজার কমিউনিটি ক্লিনিক ও ক্লিনিক বন্ধ রয়েছে।বাবুগঞ্জ বাজার কমিউনিটি ক্লিককে সামনে বালি,ইট,ইটের শুরকি দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে সামনের দিক। মহেশ পুর বাজারে কমিউনিটি ক্লিনিকটি অবস্থিত। প্রবেশের রাস্তার মুখে বাজারের ময়লা আবর্জনার দূর্গন্ধময় পানি জমে রয়েছে। চারদিকে ঝুপ ঝাপড়া। কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনের উত্তর পাশের জানালার সংলগ্ন খোলা জায়গায় মলমুত্র দেখা যায়। জানালা দিয়ে ভিতরে তাকালে চোখ কপালে উঠে যায়! ক্লিনিকের ভিতরে ময়লা আর্বজনায় ভরপুর। ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তরা খসে পরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ছাদে ও দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। দরজা, জানালা গুলো ভাঙ্গা, ফ্লোর স্যাত স্যাতে, রয়েছে মশার উপদ্রব। পরিস্কার পরিচ্ছনতার কোন বালাই নেই। মনে হয় কমিউনিটি ক্লিনিকটি নিজেই রোগী।

সিএইচসিপি নাজমুল কবীর বলেন, সংস্কারের অভাবে ক্লিনিকটি ব্যবহারে সম্পূর্ন অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাদের পলেস্তরা খসে পরে একাধিক রোগী আহত হয়েছে। পলেস্তরা যাতে মাথায় না পরে সেজন্য পলিথিন দিয়ে রাখা হয়েছে সাদের নিচে। ঝুঁকি নিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দিতে হচ্ছে, ক্লিনিকটি সংস্কারের জন্য একাধিক ইউএইচও স্যারকে বলেছি। রঘুনাথ পুর কমিউনিটি ক্লিনিক (সিএইচসিপি)নাই এক বছরের বেশি সময় ধরে। সিএইচসির দায়িত্বে যিনি আছেন তাকে এবছর যাবৎ ক্লিনিকে আসে না।

বাবুগঞ্জ বাজার কমিউনিটি ক্লিককে গেলে বিষ্ণুরাম পুর গ্রামের সেবা গ্রহিতা আব্দুল কাদের বলেন, চার/পাঁচ মাস পরে পরে কৃমিনাশক ট্যাবলে নিতে গেলে বলে নাই শেষ হয়ে গেছে। বাবুগঞ্জ বাজার কমিউনিটি ক্লিক ওয়ার্ডে ইউপি সদস্য আঃবারেক বলেন, পদঅধিকার বলে আমি এই সভাপতি কিন্তু আমাকে কখন ডাকা হয় না।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিধান চন্দ্র দেবনাথ বাংলা টাইমসকে বলেন, মহেশপুর বাজার কমিউনিটি ক্লিনিকটিসহ ঝুকিপূর্ণ ১০ থেকে ১২ টি কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে। সিএইচসিপিরা অনেই তাদের দায়িত্ব ঠিক মত পালন করেন না, এটা আমরা শোনেছি প্রমান পেলে ব্যবস্থা নিবো।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট