1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
শিশুদের ক্লাস হয় মুরগীর ফার্ম ও গোয়াল ঘরের বারান্দায় - বাংলা টাইমস
শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন

শিশুদের ক্লাস হয় মুরগীর ফার্ম ও গোয়াল ঘরের বারান্দায়

বাগেরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৭ মে, ২০২২
  • ৪০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় বাস্তবায়নাধীন “চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি” (পিইডিপি-৪) এর সাব-কম্পোনেন্ট ২.৫ “আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচি” উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মাধ্যমে সারা দেশে চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাগেরহাট জেলার আটটি উপজেলার ঝড়ে পড়া শিশুদের জন্য চালু করা হয় অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম। “সুখী মানুষ” নামক বেসরকারী সংস্থা বাগেরহাট জেলায় এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য লিড এনজিও হিসেবে নির্বাচিত হয়। “সুখী মানুষ” লিড এনজিও এর দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই নানা ধরনের অনিয়মের মধ্যে দিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

 

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় ৩৬ কোটি টাকার কর্মসূচীতে জেলার ৮ টি উপজেলায় মোট ৫৫৫ টি কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কথা রয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ২৫ জন শিক্ষার্থী থাকবে। অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী এখানে ভর্তি করা যাবে না। উপজেলায় ১জন উপজেলা কর্মকর্তা ও প্রতিটি কেন্দ্রে ৫হাজার টাকা বেতনে একজন শিক্ষক নিয়োগ থাকবে। ছাত্র-ছাত্রীদের সুন্দর ও পরিস্কার পরিবেশে পাঠদানের জন্য প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে জন্য ১৫ শত টাকা ভাড়া, শিক্ষা কেন্দ্র ডেকোরেশন খরচ ৫শত, ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক ভাতা জনপ্রতি ১২০ টাকা করে ৩৬ মাস, ফ্লোর খরচ ৫ হাজার, ৩ হাজার বাজেটের ফ্যান, লিউব লাইন পানির জার ,স্টিলের ট্রাঙ্ক ,জাতীয় পতাকা ,সাইনবোর্ড ,হাতল আলা চেয়ার ,টুল ,স্কুল ব্যাগ, স্কুল ড্রেস ,শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড ,টিচিং এইডস এবং গেমস উপকরন দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে হবে।

কিন্তু সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় একবারেই ভিন্ন চিত্র। শিক্ষাথীদের বিভিন্ন মানুষের বারান্দায়, গোয়াল ঘরে,রান্না ঘর ও মুরগীর ফার্মে চলছে ক্লাস। কোন প্রতিষ্ঠানেই সঠিক কোন নিয়ম কানুনের কোন বালাই নাই। একনো কোন ছাত্র ছাত্রীকে একটি ভাতার টাকাও দেয়া হয়নি। প্রতিষ্ঠানের বেতন, শিক্ষকদের বেতন, শিক্ষার্থী জরিপের জন্য প্রত্যেক কেন্ত্রে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ থাকলেও কোন জরিপকারীকে তা পরিশোধ করে নাই। জেলার ৮টি উপজেলা কর্মকর্তা প্রত্যেকের নিকট থেকে জামানতের নামে অর্থ গ্রহণ করে তা আত্মসাৎ সহ কেন্ত্রের শিক্ষকদের কাজ থেকে পিকনিকের কথা বলে বে-আইনী ভাবে টাকা নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। সদর উপজেলায় প্রায় ২ হাজার ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর তালিকা করার কথা হলেও বাস্তবের চিত্র ভিন্ন। তালিকার অধিকাংশ শিক্ষার্থী আছেন যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রী। যা সম্পূর্ন বে-আইনী। তেমনি তালিকাতে যে সকল শিক্ষার্থীদের নাম আছে তার অধিকাংশ শিক্ষার্থীদেরই বাস্তবে কোন অস্তিত্ব নেই।

সুখী মানুষের জরীপ অনুযায়ী ছাত্র ছাত্রীর তালিকা উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রদান করেছেন তার মধ্যদিয়ে কথা হয় বাগেরহাট সদর উপজেলার রনবিজয়পুর এলাকার মাফুজ চাকলাদার পিতা আকবর চাকলাদার সে রনবিজয়পুর সঃ প্রাঃ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেনীতে পড়ে। সানজিদা খাতুন সে রনবিজয়পুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে তার রোল ২৭। এরকম অধিকাংশ শিক্ষাথীর নাম দেওয়া আছে অথচ তারা নিয়মিত পড়াশুনা করছে।

এ বিষয়ে সুখী মানুষ এনজিওর নিয়োগ প্রাপ্ত একাধিক শিক্ষিকা জানান, ঝড়েপড়া শিক্ষার্থী ২/৪ জন পাওয়া যায় এখন এসব এলাকায় ঝরেপড়া শিশু পাওয়া যায় না। তারপরও আমরা চেষ্ঠা করছি ঐ সকল শিশু শিখন কেন্দ্রে আনার। তারা জানান খাতা কলমে ২৭ থেকে ৩০ জনার নাম থাকলেও প্রতিদিন হাজির হয় ১০/১২ জন। তাদের মধ্যে ২/৪ জন ঝড়ে পড়া শিশু রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে ডেমা ইউনিয়নের কাশেমপুর শিখন কেন্দ্রে নাই কোন সাইনবোড,একটি মুরগীর ফার্মে ক্লাস হচ্ছে ৭ জন শিশু তাদের মধ্যে একজন ও ঝড়ে পড়া শিশু না। তারা প্রত্যেকেই কোন না কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। এরকম চিত্র সারা জেলাতেই। উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিষ্ঠানের (সুখী মানুষের) কাছে একাধিকবার কেন্দ্র সমূহের তালিকা চাইলে ও নানান বাহানায় তালিকা দিতে ব্যর্থ হন। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে এনজিও “সুখী মানুষ” এর বিরুদ্ধে।

সদর উপজেলার অন্য প্রতিষ্ঠানের একাধিক ছাত্রের অবিভাবক জানান, আমাদের সন্তানদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশুনার কথা জানালেও তারা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার কথা বলে ছেলে মেয়ের তালিকা নিয়ে গেছে। আমরা বিভিন্ন ভাবে খোঁজ খবর নিয়ে আর আমাদের সন্তানদেরকে তাদের প্রতিষ্ঠানে পড়াতে আগ্রহী নই।

সদর উপজেলার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষিকা জানান, ২ বছর ধরে প্রজেক্টের সাথে যুক্ত আছি। প্রতিষ্ঠানে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে দেওয়ার কথা রয়েছে। প্রায় তিন মাস ধরে শিক্ষকতা করছি এখনো কোন বেতন পাইনি। তারা আরো বলেন,মাঠ জরিপ, ফটোকপি, যাতায়ত সকল খরচ নিজে করলেও একটি টাকাও প্রতিষ্ঠান থেকে এখনো পাইনি। পিকনিকের কথা বলে তারা প্রত্যেক শিক্ষকের কাছ থেকে ১ হাজার টাকা নিয়েছে।
“সুখী মানুষ” এনজিওর বাগেরহাটে জরীপ করা ঝরেপড়া শিশুদের ও শিখন কেন্দ্রের তালিকা চাইলে জেলা ব্যবস্থাপক মশিউর রহমান রবিন বলেন, আমার কাছে কোন তথ্য নাই। যে তথ্য আছে তা এটিএন বাংলার বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক বাবু ভাইকে দেওয়া হয়েছে তার কাছথেকে নিতে পারেন। আর হেড অফিসের অনুমতি ছাড়া আমি কোন তথ্য প্রদান করতে পারব না। তিনি আরো বলেন, “সুখী মানুষ” এর নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ বর্ন মাসের ১৫ দিন বাগেরহাট অফিস করেন। কোন কোন মাসের পূরা সময় অফিস করেন । অথচ গত ১৬ মার্চ ২০২২ তারিখ বেলা সাড়ে এগারোটায় শুভ বনিক সহকারী পরিচালক (অতিঃ দাঃ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পিইডিপি-৪ এর আউট-অব-স্কুল চিলড্রেন কর্মসূচি বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভার রেজুলেশনে বলা হয়েছে সভায় প্রোগ্রাম হেড অনুপস্থিত তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন।

এবিষয়ে “সুখী মানুষ” এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক নাফিজা আফরোজ বর্নোর সাথে একাধিকবার ০১৭১২৫৫৫৭৮৮ এই নম্বরে যোগাযোগ করা হলেও তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেন নাই।

বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুছাব্বেরুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর, ঝড়েপড়া শিক্ষার্থীদের এই প্রকল্প সম্পর্কে আমাদের কাছে বেশ কিছু অভিযোগ আসছে। এখানে যে সকল কেন্দ্র গুলোতে শিক্ষক তাদের শিক্ষা কার্যক্রম চালায় সেখানে ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থী থাকতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রধান শিক্ষকের মতামত ও কাউন্টার সাইন করে নিতে হবে যাতে প্রমান হয় এরা আসলে ঝরে পড়া শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আমরা “সুখী মানুষ” এর ঝরে পড়া শিক্ষার্থী ও শিক্ষা কেন্দ্রের তালিকা একাধিকবার চাইলেও তারা দিতে ব্যর্থ হন। বিষয়টি বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ে জানানো হবে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট