1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
ঈদ সকলের জন্য আনন্দময় হোক - বাংলা টাইমস
শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

ঈদ সকলের জন্য আনন্দময় হোক

কাজী আবু মোহাম্মদ খালেদ নিজাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ মে, ২০২২
  • ১২৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পবিত্র মাহে রমজানের সিয়াম সাধনা শেষে আমাদের দ্বারে এসেছে ‘পবিত্র ঈদুল ফিতর’। ঈদ’ শব্দটি আরবি, যার অর্থ আনন্দ। ‘ফিতর’ শব্দটিও আরবি, যার অর্থ রোজা ভাঙা। ঈদুল ফিতরের অর্থ রোজা শেষ হওয়ার আনন্দ, আল্লাহর নিয়ামত লাভ করার আনন্দ। হিজরি সনের দশম মাস তথা শাওয়াল মাসের ১ তারিখ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।

 

ইসলামে ঈদের প্রবর্তন হয়েছে দ্বিতীয় হিজরির মাঝামাঝি সময়ে। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) যখন মদিনায় আসেন, তখন দেখেন যে সেখানকার লোকেরা বছরে দুই দিন (নাইরোজ ও মিহরজান) আনন্দ করে, খেলাধুলা করে। তিনি বললেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের এই দুই দিনের পরিবর্তে আরো অধিক উত্তম ও কল্যাণকর দুটি দিন দিয়েছেন। ১. ঈদুল আজহা। ২. ঈদুল ফিতর। (আবু দাউদ : ১/১৬১)।

গত দুই বছর মহামারী করোনার কারণে মানুষ ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হলেও ভাইরাসটির প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আসায় এবার আগের মতোই খুশির আমেজ নিয়েই পালিত হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ছেলেবুড়ো সকলে মেতে উঠবে মহাআনন্দে। বিশেষ করে ছোটদের আনন্দ হবে দেখার মতো। এখানে পবিত্র ঈদুল ফিতর সবচেয়ে বড় উৎসব। এই উৎসব গোটা দেশেই বিরাট প্রভাব ফেলে। যা অন্য কোন সময় দেখা যায়না। সরকারি, বেসরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাংগন, কলকারখানাসহ দেশের সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে কয়েকদিন। শহরের মানুষ ঈদ করতে গ্রামে ফেরে নাড়ির টানে। লাখো মানুষের ঈদযাত্রার কোলাহলে মুখরিত থাকে দেশের সব বাস, ট্রেন, লঞ্চ স্টেশন। শহরগুলো হয়ে পড়ে জনশূন্য। পথঘাট ফাঁকা পেয়ে মুক্ত হাওয়ায় ঘুরে বেড়ান ভ্রমণপ্রিয় মানুষ। উধাও হয়ে যায় চিরচেনা যানজট। চেনাশহর অচেনা মনে হয়!

বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে উপচেপড়া ভিড় পরিলক্ষিত হয়। গ্রামে ফিরে শহরের মানুষ নিজের আত্মীয়-স্বজনের সাথে ঈদ করতে পেরে আত্মতৃপ্তি লাভ করে।

প্রত্যেকের ঘরে ঈদ খুশির বার্তা নিয়ে আসে প্রতিবছর। বিশ্বব্যাপী নানা সংকট, ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যেও ঈদ বয়ে নিয়ে আসে খুশি আর আনন্দ। এদিন মানুষ বিগত দিনের সকল দুঃখ, কষ্টকে ভুলে থাকতে চায়। চায় পারস্পরিক সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে। সমস্যাগ্রস্ত থাকার পরও মানুষ ঈদ উৎসবকে উদযাপন করতে সচেষ্ট থাকে। ব্যতিক্রম কেবল গরিব ও অসহায় মানুষদের ক্ষেত্রে। তাদের মাঝে ঈদের খুশি তেমন প্রভাব ফেলে না। ঈদের এদিনও তাদের অনেককে হয়তো কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে পরিবারের সকলের মুখে একটু আহার তুলে দিতে। পথশিশু কিংবা অভাবী পরিবারের সদস্যদের ঈদের নতুন জামা কেনার সাধ্যটুকুও থাকে না। তাছাড়া আর্থিক সংগতিটুকুই বা কই!

আমাদের মাঝে যারা বিত্তবান ও আর্থিকভাবে সচ্ছল তাদের উচিত গরিব, অসহায় মানুষের দুঃখ কষ্টগুলো ভাগাভাগি করা,সাহায্য সহযোগিতা করা। অনেকেই তো আছেন যারা
নানাভাবে অর্থ ও খাদ্যের অপচয় করেন।

অথচ অপচয় না করে সেসব অর্থ বা খাদ্য গরিব মানুষগুলোর মাঝে যদি এই ঈদের সময় বিলিয়ে দেই তাহলে তারাও সুন্দরভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবে। সঠিক নিয়মে যদি গরিব ও অসহায় মানুষের প্রাপ্য হক ‘যাকাত’ আদায় করা যেতো তাহলেও সংকটের অনেকটা সমাধান হয়ে যেতো। সমন্বয়হীনতার কারণে পর্যাপ্ত ও সঠিকভাবে প্রাপ্য হকদারদের মাঝে বণ্টন না হওয়ায় যাকাত প্রদানের উদ্দেশ্যটাই ফলপ্রসূ হয় না। সরকার চাইলে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যাকাত আদায় করে তা অসচ্ছল ও অসহায়দের মাঝে পৌঁছে দিতে পারেন। যাকাতের এই অর্থ পেয়ে তারাও ঈদের আনন্দ পেতে পারে। আমরা চাই ঈদের দিনে সব মানুষ আনন্দ ভাগাভাগি করুক। এ ব্যাপারে আমাদের সকলের সচেতন হওয়া উচিত। এমনিতে পবিত্র রামাদানের দিনগুলোতে যত সাহায্য-সহযোগিতা, আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যাবে ততই কল্যাণ।কয়েকগুণ সওয়াব আমল-নামায় যোগ হবে। সওয়াবও হবে অপরদিকে অভুক্ত ও কষ্টে পতিত মানুষগুলো একটু সুখের পরশ পাবে।তাদের আনন্দ দেখলে মনটাই ভরে যাবে।ঈদ আমাদেরকে এ শিক্ষাটাই দিয়ে থাকে। ‘একজন মানুষ ও ঈদের এই আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে না’-এমন পরিবেশ আমাদের গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি এসব মানুষের দারিদ্র্যতা নিরসন এবং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করি। দারিদ্র্যতার হার যতই কমবে ঈদের আনন্দে শামিল হওয়া মানুষের সংখ্যাও তত বাড়বে। প্রতি ঈদে আমাদের উদারতা ও সেবার মানসিকতা বাড়ানো উচিত বলে মনে করি।

‘আমাদের দ্বারে সমাগত ঈদ সকলের জন্য  হয়ে উঠুক সুখ ও আনন্দময়’।

★লেখক : শিক্ষক ও কলামিস্ট

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট