1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
করোনা পরবর্তী মহান মে দিবস - বাংলা টাইমস
শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

করোনা পরবর্তী মহান মে দিবস

মো: শাহ্ নেওয়াজ মজুমদার
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২২
  • ৫৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কর্মঘন্টাকে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার সঙ্গে জড়িত আছে মে দিবসের ইতিবৃত্ত। শ্রমজীবি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ১৩৪ বছর ধরে পৃথিবী জুড়ে পালিত হয়ে আসছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী গত কয়েক বছরের তুলনায় একটু ভিন্ন। সমগ্র পৃথিবীর অর্থনীতি প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ক্ষতবিক্ষত।

 

মরার উপরে খাড়ার ঘাঁ হিসেবে দেখা দিয়েছে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ। তাবৎ বড় বড় অর্থনীতির দেশকে নাকানি চুবানি খাওয়াচ্ছে এ যুদ্ধ। পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশের অর্থনীতিই আজ ক্ষতিগ্রস্থ । আজকের এই মন্দা অর্থনীতির ধকলে আমাদের অধিকাংশ শ্রমিক ভাইয়েরা কাজ হারিয়ে অনাহার অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে।

একদিকে করোনা মহামারীর ক্ষত, অন্যদিকে যুদ্ধের ক্ষতিকর অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবে দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির মধ্যে শ্রমজীবি ভাই বোনেরা বেঁচে থাকার সংগ্রামে লিপ্ত। এর মধ্যেই আমরা আজ পালন করতে যাচ্ছি শ্রকিদের অধিকার আদায়ের ঐতিহাসিক দিন ”মহান মে দিবস”। বিশ্ব ব্যাপী শ্রমজীবি মানুষের আন্দোলন সংগ্রামের অনুপ্রেরনার উৎস এই দিবসটি মালিক শ্রমিকদের মধ্যে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার দিন। শ্রমিকদের শোষণ বঞ্চনা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন আজ। বাংলাদেশ সহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে আজ ছুটির দিন। পৃথিবীর আরো অনেক দেশে বেসরকারিভাবে আজ মে দিবস পালন করছে।

১৮৮৬ খ্রিষ্টাব্দে আমেরিকার শিকাগো শহরের হে মার্কেটের ম্যাসাকার শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরন করে পালিত হয়। সে দিন দৈনিক আট ঘন্টার কাজের দাবিতে শ্রমিকরা হে মার্কেটে জমায়েত হয়েছিল। তাদেরকেই ঘিরে থাকা পুলিশের প্রতি এক অজ্ঞাত নামার বোমা নিক্ষেপের পর পুলিশ শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষণ শুরু করে।

ফলে প্রায় ১০-১২ জন শ্রমিক ও পুলিশ নিহত হয়। ১৮৮৯ খ্রিষ্টাব্দ ফরাসি বিপ্লবের শত বার্ষিকীতে প্যারিস দ্বিতীয় আন্তর্জাতিকের প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১৮৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে শিকাগো প্রতিবাদের বার্ষিকী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশে পালনের প্রস্তাব করে রেমন্ড লাভিনে ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে আন্তর্জাতিক দ্বিতীয় কংগ্রেসে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়। এর পরপরই ১৮৯৪ সালে মে দিবসের দাঙ্গার ঘটনা ঘটে।

পরে ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দে আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতান্ত্রিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই উপলক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রস্তাবে দৈনিক আট ঘন্টা কাজের সময় নির্ধারণের দাবি আদায়ের জন্য এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য বিশ্ব জুড়ে ১লা মে তারিখে মিছিল ও শোভাযাত্রা আয়োজন করতে সকল সমাজবাদী গণতান্ত্রিক দল এবং শ্রমিক সংঘের ট্রেড ইউনিয়নের প্রতি আহবান জানানো হয়। সেই সম্মেলনে শ্রমিকদের হতাহতের সম্ভাবনা না থাকলে বিশ্বজুড়ে সফল শ্রমিক সংগঠনের মে মাসের ১ তারিখে বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশই ১লা মে দিবসে সাধারণ ছুটি উপভোগ করে , তবে ভিন্নতাও আছে।

প্রতি বছর আমাদের দেশে নানা অনুষ্ঠনের মধ্য দিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়। প্রতি বছরই এটি পালনে একটি থিম থাকে গত বছর ছিল “শ্রমিক মালিক ঐক্য গড়ি, সোনার বাংলা গড়ে তুলি”। বর্তমানে সারা পৃথিবীব্যাপি সংকোচনমুলক অর্থনীতির কারনে কর্মসংস্থান কমে যাচ্ছে তাই শ্রমিক-মালিক সম্পর্কই পারে উৎপাদনের চাকাকে গতিশীল করে জাতীয় অর্থনীতির চাকাকে গতিময় রাখা। আমরা প্রায়শই দেখি শ্রমিকরা আন্দোলনের নামে কলকারখানা ও জাতীয় সম্পদের হানি করে থাকে, তা কখনই কাম্য নয়। শ্রমিক- মালিক সম্পর্কই পারে এসকল বিরোধ নিষ্পত্তি করে সুন্দর ও গতিশীল অর্থনীতি উপহার দিতে।

আমাদের স্বাধীন বাংলায় ১৯৭২ সালের ১লা মে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। তিনি ১ মে সরকারী ছুটি ঘোষনা করা সহ রাষ্ট্রপতি আদেশ ২৭(ক) ধারা মতে সকল শিল্প, কল- কারখানা, ব্যাংক-বীমা, বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগ রাষ্ট্রায়াত্ত ঘোষণা করেন। শ্রমিক-কর্মচারীদের কারখানার লভ্যাংশ দেওয়া সহ শ্রমিকদের বাসস্থান, চিকিৎসা, সেবা, প্রতিটি কারখানায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ঘোষণা দেন। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে দেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের বঞ্চনা শুরু হতে থাকে।

মানুষের দ্বারা মানুষের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের সংগ্রামী সংহতিকে ক্ষুধা, দারিদ্র ও অপমানের হাত থেকে শ্রমজীবি মানুষের মুক্তির সংগ্রামকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সর্বাত্মক শক্তির সফল প্রতিক হলো এই মে দিবস।

তাই আমরা সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার প্রয়াসে কাজ করার শপথই হবে মে দিবসের অঙ্গীকার। একই সাথে শ্রমজীবি জনগণের ঐক্য, সংহতি, সংগ্রাম ও বিষয়ের প্রতীক হিসেবেই তাৎপর্য ও মহিমাপূর্ণ।

 

লেখক ও কলামিষ্ট
হেড অব অপারেশন ও সহকারী অধ্যাপক
ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটি, চট্রগ্রাম।

(মতামত বিভাগের লেখার আইনগত ও অন্যান্য দায় লেখকের নিজস্ব। এই বিভাগের কোনো লেখার জন্য সম্পাদক দায়ী নয়।)

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট