1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
টিপুর 'সাম্রাজ্য' দখলে নিতে প্রতিযোগিতা - বাংলা টাইমস
শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

টিপুর ‘সাম্রাজ্য’ দখলে নিতে প্রতিযোগিতা

বিশেষ প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২২
  • ৫৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

রাজধানীর শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু হত্যাকান্ডে মূল কারণ হলো সাম্রাজ্যের লড়াই। প্রকাশ্যে টিপু থাকলেও তাকে চালাত আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজন। সেই মাফিয়ারা এখন নতুন টিপু তৈরি করতে নানা পক্ষ সক্রিয়ও হয়েছে।

 

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, টিপুসহ দু’জনকে হত্যার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে পরলেও রাজনীতিকে ঢাল বানিয়ে অঢেল টাকা কামানো পক্ষগুলো আতঙ্কে নেই। বরং টিপুর ‘সাম্রাজ্য’ দখলে নিতে শুরু হয়েছে প্রতিযোগিতা। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের পদধারী দুই নেতাকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে দখল-পাল্টা দখলের গোপন মহড়া। ওই দুই নেতার আড়ালে সবকিছুর লাগাম কয়েকজন পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসীর হাতে। তারা যাদের চাইবে, তারাই হবে মতিঝিলের নিয়ন্ত্রক।

বৃহত্তর মতিঝিল এলাকা এখন মতিঝিল, পল্টন ও শাহজাহানপুর- এই তিন থানায় বিভক্ত। আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণের হিসাব মতিঝিলে ঘিরেই।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় সূত্রতে, মতিঝিল এলাকার নিয়ন্ত্রণ হয় বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদ মন্টি, জাফর আহমেদ মানিক ওরফে ফ্রিডম মানিক, নাছির এবং সুমন সিকদার ওরফে মুসাকে ঘিরে। মুসা এতদিন দেশে থাকলেও টিপু হত্যাকাণ্ডের আগে ১২ মার্চ দুবাই চলে যান। হত্যাকাণ্ডে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানিয়েছিল, এই মুসাই দুবাই বসে পুরো হত্যা মিশন সমন্বয় করেন।

একসময় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক খান মিল্ক্কী পুরো মতিঝিল এলাকার নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছিলেন। ২০১৩ সালের ২৯ জুলাই তাকে হত্যার পর নিয়ন্ত্রণ চলে যায় অন্য পক্ষের হাতে। দক্ষিণ যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ও জি কে শামীমের হাতে চলে যায় ওই এলাকার প্রকাশ্য নিয়ন্ত্রণ। ক্যাসিনোবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে ওই তিন নেতা গ্রেপ্তার হলে পলাতক সন্ত্রাসীদের সহায়তায় আবির্ভাব ঘটেছিল জাহিদুল ইসলাম টিপুর। কিন্তু ঠিকঠাক ভাগবাটোয়ারা না দেওয়া এবং ‘সমীহ’ না পাওয়ায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে সন্ত্রাসীরা।

আওয়ামী লীগের সূত্র বলছে, টিপু হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকায় নড়েচড়ে বসেছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আশরাফ তালুকদারের অনুসারীরা। আশরাফ একসময় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়াও সক্রিয় হয়েছেন একই ইউনিটের উপদেষ্টাম লীর সদস্য ইসমত জামিল আখন্দ ওরফে লাভলুর অনুসারীরা।

টিপুর ‘সাম্রাজ্যে’ সক্রিয় যারা :দায়িত্বশীল বিভিন্ন সূত্রের তথ্যানুযায়ী, গোলাম আশরাফ তালুকদার প্রকাশ্যে না থাকলেও তার হয়ে পল্টন থানা আওয়ামী লীগের পদধারী এক নেতা পল্টন এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখছেন। ওই নেতা টিপু মার্ডারের কয়েকদিন আগে বিদেশ যান। ওই নেতার হয়ে এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে পল্টন থানা ছাত্রলীগ থেকে একসময়ে বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক জয় এবং শরীফ নামের একজন। গোটা পল্টন এলাকার অবৈধ মাদক রাজ্য চালান এই দু’জন।

১৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক পদধারী নেতার হয়ে শান্তিনগর বাজারের নিয়ন্ত্রণ করেন আদম আলী নামের এক ব্যক্তি। তিনি বাজারে জুয়ার বোর্ডও চালান নিয়মিত। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ওই নেতার হয়ে পল্টন, বায়তুল মোকাররম, স্টেডিয়াম এলাকার ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ করে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। শান্তিবাগ, মালিবাগ ও শহীদবাগ এলাকায় গোলাম আশরাফ তালুকদারের লোক হিসেবে পরিচিত মাজহারুল ইসলাম তুহিন। এই তুহিন আবার খালেদের বন্ধু। রেললাইনের মাদক রাজ্য তুহিনের লোকজনের নিয়ন্ত্রণে।

মতিঝিল থানার ৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা আরামবাগ, মতিঝিল, ফকিরাপুল ও বঙ্গভবন এলাকাতেও নিয়ন্ত্রণ গোলাম আশরাফ তালুকদারের লোকজনের হাতে। ১১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত শাহজাহানপুর এলাকায় তার হয়ে কাজ করছেন কামরুজ্জামান বাবুল। তাকে সবাই চেনে ফ্রিডম মানিকের লোক হিসেবে। সেই পরিচয়ে তার নামেই চলে ওই এলাকা।

এ বিষয়ে গোলাম আশরাফ তালুকদার বলেন, একসময় মতিঝিলের রাজনীতি করলেও দল থেকে আমাকে ঢাকা-৭ আসনের দেখভালের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাই এখন আর ওই এলাকার রাজনীতির খোঁজ রাখি না।

পলাতক ফ্রিডম মানিক ও কারাবন্দি খালিদের সঙ্গে ইসমত জামিল আখন্দ লাভলুর সখ্যের বিষয়টি মতিঝিল এলাকার সবার জানা। এ নেতার নাম করে কারাবন্দি খালেদের লোকজনও সক্রিয় হয়েছে। খালেদের লোক হিসেবে চিহ্নিত অঙ্কুর ও রাজু এখন শাহজাহানপুর এলাকার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া। অঙ্কুর শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসম্পাদক, রাজুও মহানগর যুবলীগে সক্রিয়।

মতিঝিলের ৮নং ওয়ার্ড এলাকা কমলাপুরে সেলিম, সাবেক জাসদ ছাত্রলীগের নেতা আহকাম উল্লাহর নিয়ন্ত্রণে কমলাপুর আইসিডির নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও কমলাপুর কাঁচাবাজার ও ওই এলাকায় সরকারি জায়গা দখলে তারা যুক্ত। আহকাম উল্লাহ ফ্রিডম মানিকের আপন খালাতো ভাই বলে ওই এলাকার লোকজন জানিয়েছেন। তাদের হয়ে মাঠ দাপিয়ে বেড়ায় সাকি ও ইসমাইল নামে আপন দুই ভাই। তারা ওই এলাকার ট্রাকস্ট্যান্ড ও বাসস্ট্যান্ডও নিয়ন্ত্রণ করে।

টিপুর হয়ে মতিঝিল এলাকার ক্রীড়া পরিষদ ভবনসহ বিভিন্ন ভবনের নিয়ন্ত্রণ করতেন ১০ নম্বর ওয়ার্ডের হিরক, আমিনুল ও মিরাজ। টিপু হত্যাকাণ্ডের সময়ে মিরাজ একই মাইক্রোবাসে ছিলেন। তিনি শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানের মামাশ্বশুর এবং একসময়ের শীর্ষ সন্ত্রাসী লিটনের (নিহত) আপন বড় ভাই। তা ছাড়া টিপুর হয়ে আইডিয়াল স্কুলসহ ওই এলাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, কেনাকাটা ও ভর্তি বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করতেন সোহেল সিদ্দিকী নামের এক ব্যক্তি। তবে টিপু মার্ডারের পর তারা কোণঠাসা। তাদের অনেকেই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে নতুন মেরূকরণে যুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন।

দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, খালেদ কারাগার থেকেই মতিঝিলের একটা অংশ নিজের বলয়ে রাখলেও সম্রাটের লোকজন একেবারেই কোণঠাসা ছিল। সম্প্রতি সম্রাট আদালত থেকে একটি ছাড়া সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার অনুসারীরাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। অনুসারীদের ধারণা, আর একটি মামলায় জামিন হলেই কারামুক্ত হবেন সম্রাট।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আব্দুল আহাদ বলেন, নতুন করে যাতে গ্রুপ সৃষ্টি করতে না পারে, আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে যাতে হানাহানি না হয় সে বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন জাহিদুল ইসলাম টিপু (৫৪)। এ ঘটনায় নিহত হন যানজটে সড়কে আটকে রিকশায় বসে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফরিন প্রীতি (২৪)। গুলিতে টিপুর গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্নাও আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

শাহজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঠাকুর দাশ বলেন, এক থেকে দেড় মিনিটের একটি কিলিং মিশন ছিল এটি। মুহূর্তের মধ্যে এলোপাতাড়ি গুলি চালানো হয়। এতে টিপুর শরীরে অন্তত ১২টি গুলি লেগেছে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের কথাও বলেন পুলিশের এ কর্মকর্তা।

এদিকে, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুর হত্যাকান্ডের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ মার্চ) সকালে নিহতের স্ত্রী ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১১, ১২, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি বাদি হয়ে শাহজাহানপুর থানায় এই মামলা করেন। তবে এ মামলায় কারও নাম উল্লেখ করেননি।

শাহজাহানপুর থানার ওসি মনির হোসেন মোল্লা মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাংলা টাইমসকে জানান, নিহত জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলা নম্বর-১৮। অভিযোগে তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি বলেও জানান তিনি।

মামলার এজাহারে টিপুর স্ত্রী অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার (২৪ মার্চ) রাত সোয়া ১০টার দিকে শাহজাহানপুর থানার ২০২ উত্তর শাহজাহানপুর মানামা ভবনে বাটার দোকানের সামনে পৌঁছা মাত্র অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার স্বামীকে লক্ষ্য করে হামলা করে। তারা আমার স্বামী জাহিদুল ইসলাম টিপুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে গুলি চালায়।

এদিকে, ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। এছাড়া ইতিমধ্যে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছেন। এঘটনায় এখনও পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে জাহিদুল ইসলাম টিপু এবং রিকসা আরোহী সামিয়া আফনান প্রীতি (২২) নামে এক কলেজ ছাত্রী নিহত এবং গুলিতে আহত হন টিপুর গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্না (৩২)। তাকে উদ্ধার করে রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ তিনজনকে স্থানীয় লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হলে রাত পৌনে ১১ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক আওয়ামীলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু ও কলেজ ছাত্রী সামিয়া আফনান প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় এলাকাবাসি, পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, নিহত জাহিদুল ইসলাম মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও ছিলেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ডলি তার স্ত্রী। এছাড়া নিহত রিকশা আরোহী সামিয়া আফনান প্রীতি বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের অনার্সের ছাত্রী বলে জানা গেছে।

জাহিদুল ইসলাম টিপুর গাড়িচালক মনির হোসেন মুন্না জানান, বৃহস্পতিবার রাতে মতিঝিল এজিবি কলোনি থেকে গাড়িতে করে বাগিচার বাসায় যাচ্ছিলেন। পথে শাজাহানপুর আমতলা মসজিদ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এই গুলিতে গাড়ির ভেতর থাকা তারা দু’ জন (টিপু ও মুন্না) ও রিকসা আরোহী ছাত্রী প্রীতি গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয়রা তাদের তিন জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ইসলাম টিপু ও সামিয়া আফনান প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন। গুলিতে আহত মুন্নাকে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, নিহত কলেজ ছাত্রী প্রীতির বান্ধবী সুমাইয়া জানান, প্রীতির বাসা শান্তিবাগ মগা হাজীর গলিতে। সুমাইয়ার বাসা তিলপাপাড়া। রাতে তারা দু’জন মিলে বাহিরে ঘুরতে বের হয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে সুমাইয়া তাকে শাহজাহানপুরের রেলগেট থেকে রিসিভ করে তিলপাড়ায় তার বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। রিকশা যোগে যাওয়ার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শুনতে পান। কে বা কারা গুলি করেছে তা বলতে পারেননি তিনি।

শাহজানপুর থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে আওয়ামীলীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু মাইক্রোবাসে করে শাহজাহানপুর আমতলা কাঁচাবাজার হয়ে বাসায় ফিরছিলেন। তার বহনকারী গাড়িটি শাহজাহানপুর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনে পৌঁছালে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এতে জাহিদুল ও তার গাড়িচালক মুন্না গুলিবিদ্ধ হন। এ সময় জাহিদুলের গাড়ির পাশ দিয়ে রিকশাযোগে যাচ্ছিলেন কলেজ শিক্ষার্থী প্রীতি। তিনিও দুর্বৃত্তদের ছোড়া গুলিতে আহত হন। এঘটনায় তিনজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্বার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদুল ও প্রীতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

নিহত শিক্ষার্থী প্রীতির বাবা জামাল উদ্দিন জানান, ‘আমার মেয়ে শাহজাহানপুর এলাকায় রিকশায় ছিল। হঠাৎ একটি গুলি এসে তার শরীরে লাগে। সে রিকশায়ই লুটিয়ে পড়ে। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তাদের বাসা শাহজাহানপুরের শান্তিবাগ এলাকায় বলে জানান তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট