1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
সাহিত্যের গবেষক সৈয়দ আবদুল্লাহ আর নেই - বাংলা টাইমস
শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন

সাহিত্যের গবেষক সৈয়দ আবদুল্লাহ আর নেই

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ এপ্রিল, ২০২২
  • ৬৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার উত্তরসুর গ্রামের কৃতি সন্তান সৈয়দ আবদুল্লাহ আর নেই। শুক্রবার (১ এপ্রিল) রাত ৩-৩০ মিনিটে ঢাকাস্থ নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)

 

শনিবার (২ এপ্রিল) বেলা আড়াইটায় হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার উত্তরসুর গ্রামের নিজ বাড়িতে জানাজা নামায অনুষ্ঠিত হবে।

আধুনিক বাংলা ইসলামি সাহিত্যের অন্যতম বাক নির্মাতাদের অন্যতম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। মাসিক মদীনার তিন যুগের জনপ্রিয় লেখক ও গবেষক। বৃহত্তর সিলেটের সমকালীন কৃর্তিমান মনীষীদের মা্ঝে তিনি ছিলেনরঅন্যতম। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান নিয়ে এই বরেণ্য ইতহাস গবেষকের লেখা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তির ইতিহাসবিদ, শেকড় সন্ধানী ইতিহাস গবেষক সৈয়দ আবদুল্লাহ। আধুনিক বাংলা ইসলামি সাহিত্যের অন্যতম বাক নির্মাতাদের অন্যতম তিনি। মাসিক মদীনার তিন যুগের জনপ্রিয় লেখক ও গবেষক। বৃহত্তর সিলেটের সমকালীন কৃর্তিমান মনীষীদের তিনি অন্যতম। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে মুসলমানদের অবদান নিয়ে এই বরেণ্য ইতহাস গবেষকের লেখা জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

উলামায়ে হিন্দ এর জীবন কর্ম নিয়ে বাংলা ভাষায় এতো লেখালেখি দ্বিতীয় আর কেউ করেন নি। দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদরাসার মূখপাত্র মাসিক মঈনুল ইসলামে লাগাতার কয়েক বছর ধারাবাহিক পর্ব লিখেন, ” আযাদী আন্দোলনে আলেম সমাজ” শিরোনামে। আজীবন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নিষ্ঠাবান দায়িত্বশীল ছিলেন। ছিলেন ফেদায়ে মিল্লাত মাওলানা সাইয়্যেদ আসআদ আল মাদানী রহ. এর একনিষ্ঠ শিষ্য।

ঊনসত্তরের গণআন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক হিসাবে কাজ করেন।পাশাপাশি লিখেছেন বঙ্গবন্ধু সহ জাতীয় অনেক বিষয়ের উপর গবেষণাগ্রন্থ।

সিলেট ও তরফ (হবিগঞ্জের প্রাচীন নাম) অঞ্চল নিয়ে ব্যাপক কাজ করেছেন। তরফ সাহিত্য পরিষদের মতো মহীরুহের ন্যায় প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছেন। প্রান্তিক ইতিহাস থেকে শেকড়ের সন্ধানে তার বিচরণ পলাশির পান্তর পর্যন্ত। পলাশি নিয়ে তারঁ লেখা গ্রন্থ উভয় বাংলায় সমাদৃত।

মাসিক মদীনার শুরু থেকে তিন যুগের জনপ্রিয় লেখক ও গবেষক। ৭০/৯০ দশকে লিখতেন সকল জাতীয় দৈনিক ও ইসলামি পত্রিকায়। মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ অন্তরঙ্গ ঘনিষ্ট বন্ধু বান্ধবের তিনি একজন। খান সাহেবের বহু লেখায় তার কথা এসেছে। জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান আজরফ থেকে শুরু করে কবি আল মাহমুদ পর্যন্ত বহু খ্যাতিমান লেখকরা সৈয়দ আব্দুল্লাহর গবেষনাকর্ম ও সাহিত্য সাধনা নিয়ে লেখালেখি করেছেন।

বিএনএস ইংল্যান্ড সাহিত্য স্বর্ণ পদক সহ পেয়েছেন জাতীয় আন্তর্জাতিক অনেক সম্মাননা, পদক ও পুরস্কার। কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন বহু বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা। ২০০৮ সালে সিলেট বিভাগের ২৫ টি শিল্প সাহিত্য ও সাংবাদিক প্রতিষ্ঠান মিলে গ্রামিণফোনের সহযোগীতায় বর্ণিল নাগরিক সংবর্ধনার মাধ্যমে তাকে “তরফরত্ন” উপাধীতে ভুষিত করা হয়।

সীরাত বিষয়ক বহু লেখালেখি তিনি করেছেন। সে সময়কার পত্রিকায় সকল রবিউল আওয়াল সংখ্যায় সৈয়দ আব্দুল্লাহর সীরাত বিষয়ক লেখা পাওয়া যাবে। আহলে বায়াত ও সাহাবাদের উপর তার বহু প্রান্ডুলিপি এখনো অপ্রকাশিত।

লিখেছেন ঐতিহাসিক বহুগ্রন্থ। যা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের অনন্য দলিল। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য নিয়ে তার গবেষনা বুদ্ধা মহলে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ আকর।

আরকানের প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ মুস, কুরাইশ মাগন ঠাকুর, সভাকবি আলাওয়াল ও মহাকবি সৈয়দ সুলতানের উপর তার গবেষনা আন্তর্জাতিকভাবে সমৃদ্ধ। আরকানের মুসলমান সৈয়দ আব্দুল্লাহর লেখা ৯০ দশকের জনপ্রিয় গ্রন্থ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. আহমদ শরীফের থিসিসকে তিনি চ্যালেঞ্জ করেন ১৯৮৮ ইংরেজীতে। এর পেক্ষিতে প্রচুর বির্তক তৈরী হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার থিসিস বাতিল ঘোষনা করে। এটি ইতিহাসের এক বিরল ঘটনা। গ্রামে পড়ে থাকা পশ্চাৎপদ জনপদের এক লেখকের কারণে আহমদ শরীফের মতো বামধারর গুরু ও পন্ডিতের থিসিস বাতিল হওয়া।

আজকের নতুন প্রজন্মের মাঝে ইসলাম ও ইতিহাস নিয়ে বাংলা সাহিত্যে অনেক লেখক তৈরী হলেও আজ থেকে পাঁচ দশক আগে এই শূন্যতা পূরণ হয়েছিল বাংলা সাহিত্যের যে ক’জন মনীষার হাত ধরে তাদের অনেকের সাথে আমাদের প্রজন্ম পরিচিত নন। আজকের বাংলা ইসলামি ধারার পথটি যেসব মনীষাদের সংগ্রামে তৈরী তাদেরকে ইতিহাস নিশ্চয় শ্রদ্ধার সাথে স্মরন করবে বহুকাল।

৭০ দশকের পর এদেশে মুসলিম সাহিত্যধারার একটি শক্তিশালী বলয় তৈরী হয়েছিল, কবি ফররুখ আহমদ, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, আব্দুল মান্নান তালিব, আব্দুল মান্নান সৈয়দ, জুলফিকার আহমদ কিসমতী, ড. কাজি দ্বীন মুহাম্মদ, অধ্যাপক সৈয়দ আলী আশরাফ, কবি সৈয়দ আলী আহসান, শফীউদ্দীন সরদার, ফরাজী জুলফিকার হায়দার, কবি আফজাল চৌধুরী, সৈয়দ মোস্তফা কামাল, দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী প্রমূখ আমাদের ইতিহাসের উজ্জ্বল তারকা। যারা আমাদের জন্য বাংলা সাহিত্যের এক আর্দশিক রাজ পথ নির্মান করেছিলেন। এই বলয়ের শেষ সলতে সৈয়দ আব্দুল্লাহকে বলা চলে। যিনি নিভু নিভু আলো হয়ে এখনো বেঁচে আছেন।

মুজাহিদে মিল্লাত মাওলানা শামসুদ্দিন কাসেমী, মাওলানা মুহিউদ্দীন খান, মাওলানা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী, মাওলানা নুর হেসাইন কাসেমী, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, মাওলানা মুখলেসুর রহমান (রায়ধরের চেয়ারম্যান সাহেব) মাওলানা মশিউর রহমান সাদী, মাওলানা আব্দুর রহমান দিঘলবাগী, মাওলানা কাজি মুতাসিম বিল্লাহ, মাওলানা আতাউর রহমান খান, মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, প্রেন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী, মাওলানা হারুন ইসলামাবাদীসহ দেশের বহু শীর্ষ আলেম উলামার সাথে সাথে তার ছিল গভীর বন্ধুত্ব।

তরফরত্ন সৈয়দ আব্দুল্লাহ পেশায় ছিলেন সরকারী চাকুরীজীবী। পেনশনের সমস্ত টাকা দিয়ে তিন খণ্ডে প্রকাশ করেন আকাবিরে দেওবন্দ এর জীবনী গ্রন্থ “মুসলিম মনীষা”। গড়ে তুলেন গ্রামীণ জনপদে পাঠাগার। অবসরে গড়ে তুলেছেন “জামেয়া মাহমুদীয়া হামিদনগর” ও ‘জামেয়া মোবারকীয়া উত্তরসুর’ এর মতো কওমী মাদরাসা। মফস্বলের সর্ব বৃহৎ গ্রামীণ জনপদের বইমেলা খ্যাত ঐতিহ্যবাহী “বাহুবল একুশে বই মেলা”র তিনি অন্যতম রূপকার ও প্রতিষ্ঠাতা।

আল্লামা আহমদ শফী, শায়খে কাতিয়া, শায়খে ধরন্ডলী, শায়খে গহরপুরী, শায়খে কৌরিয়াসহ সিলেটের সকল খলিফায়ে মাদানীর সাথে ছিল সুগভীর হৃদ্যতা ও সুসম্পর্ক।

 

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট