1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
বুকের দুধ থেকে গয়না বানিয়ে তাক লাগালেন দম্পতি - বাংলা টাইমস
শনিবার, ২৮ মে ২০২২, ০১:১৭ পূর্বাহ্ন

বুকের দুধ থেকে গয়না বানিয়ে তাক লাগালেন দম্পতি

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৬ মার্চ, ২০২২
  • ১১৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সদ্যোজাতের জন্য তার মায়ের বুকের দুধের কোনও বিকল্প নেই। শিশুর বেড়ে ওঠার পিছনে মস্তবড় অবদান ওই স্তনদুগ্ধের। কিন্তু এই বুকের দুধ ঘিরে ট্যাবুরও অভাব নেই সমাজের। লোকসমাজে সন্তানকে দুধ খাওয়াতে গিয়ে কটাক্ষের শিকার হতে হয় অনেক মাকেই।

 

তবে সেসব ট্যাবুকেই ভাঙতে চান তিন সন্তানের মা সাফিয়া। সদ্যোজাত সন্তান বহু ক্ষেত্রেই মায়ের বুকের দুধের সবটা খেয়ে উঠতে পারে না। সেক্ষেত্রে বুকের দুধের বড় একটা অংশই নষ্ট হয়। সেই অপচয় কী করে বন্ধ করা যায়, তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই ভাবনা চিন্তা করছিলেন সাফিয়া রিয়াধ ও তার স্বামী আদম রিয়াধ। তাছাড়া স্তন্যপানের মাধ্যমে মা আর সন্তানের মধ্যে যে সুন্দর একটা সেতু গড়ে ওঠে, সেই মুহূর্তগুলোকে কীভাবে স্মরণীয় করে রাখা যায়, সেটিও ছিল একটা ভাবনা চিন্তার একটা বিষয়।

সেখান থেকেই শুরু। মাতৃদুগ্ধ দিয়ে যে এমন লাভবান অথচ সৃজনশীল ব্যবসা যে করা যায়, তা সত্যিই প্রথমে ভাবেননি এই দম্পতি। প্রাথমিক ভাবে শুরুটা হয়েছিল শখের বশেই। তবে সেখান থেকেই আজ কোটি টাকা আমদানি করছেন সাফিয়া ও আদম।

তাহলে এবার বিষয়টা জানা যাক। গয়নাগাঁটি এমন একটা জিনিস, যা পছন্দ করেন না এমন মহিলা খুঁজে পাওয়া কঠিন। তা এই গয়নাগাটির কিন্তু কম বৈচিত্র্য নেই। দামী গয়নাগাঁটি বলতেই মনে হয় দামী ধাতু, বহুমূল্য হিরে-জহরতের কথা। কমদামী ইমিটেশনেরও বাজারে চাহিদা বিস্তর।

কিন্তু বুকের দুধ থেকে বানানো গয়না! ভেবেছেন কখনও। আর সেই ব্যাপারটা বানিয়েই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন লন্ডনের এই দম্পতি।

লকডাউনের সময় অনেকেই নানা ধরনের সৃষ্টিশীল কাজে হাত পাকিয়েছেন। এই দম্পতি কিন্তু করে ফেলেছেন কোটি টাকার ব্যবসা। তা-ও আবার বুকের দুধ থেকে তৈরি গয়নাগাটি বানিয়ে। ২০১৯ সালে ‘ম্যাজেন্টা ফ্লাওয়ার্স’ নামে একটি সংস্থা খুলে ফেলেছিলেন তারা। ইতিমধ্যেই চার হাজারেরও বেশি অর্ডার তারা ডেলিভারি করে ফেলেছেন।

তাদের বানানো গয়না এতটাই জনপ্রিয় হয়ে গেছে যে, ব্যবসা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সফিয়া আর আদম। ২০২৩ সালের মধ্যেই ব্যবসা থেকে তারা কম করে হলেও ১৫ কোটি টাকার মুনাফা করতে পারবেন বলেই আশা দম্পতির।

বুকের দুধ দিয়ে কীভাবে গয়না বানানো যায়, ভেবে অবাক হচ্ছেন তো! সেই রহস্য ভেঙেছেন সাফিয়া নিজেই। জানিয়েছেন, প্রথমে প্রযুক্তির মাধ্যমে দুধ থেকে অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়া হয়। এরপর তা আঠার সঙ্গে মিশিয়ে এক ধরনের পাথরের রূপ দেওয়া হয়। তবে খেয়াল রাখতে হয়, সেই আঠা যাতে হলদেটে না হয় এবং দুধ থেকে প্রস্তুত ওই শক্ত পদার্থটির ধবধবে সাদা ভাব যাতে নষ্ট না হয়। বহু নতুন মা-ই সাফিয়ার সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। যারা নিজেদের অতিরিক্ত দুধ সরবরাহ করছেন সাফিয়াকে। সাফিয়ার সংস্থা ইতিমধ্যেই সেই দুধ থেকে থেকে নেকলেস, কানের দুল, আংটির মতো নানা গয়নাগাটি বানিয়ে ফেলেছেন। আর সেসবের দামও নেহাত কম নয়।

বহু মা নিজেদের মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে শরনাপন্ন হচ্ছেন সাফিয়ার সংস্থার। বিস্তর বিক্রি হচ্ছে সাফিয়ার বানানো গয়নাগাটি। মাতৃস্তন্যকে নষ্ট না করে এ ভাবেও যে সেটাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায়, সেই ভাবনাকে কুর্নিশ জানিয়েছে নেটদুনিয়া।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট