1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
...Welcome To Our Website...

‘বস এটাকেও তিন তালা থেকে ফেলে দিয়ে চিকিৎসা করাবো’

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২
  • ৩২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সালিহুর বলেছেন, স্ত্রীর চিকিৎসার লিখিত চাওয়ায় আরডিআরএস এর কর্মী মনির হোসেন প্রতিক তিনতলা থেকে ফেলে দিয়ে চিকিৎসা করাবে বলে হুমকি দিয়েছেন।

 

এ ব্যাপারে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক ও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন প্রতিবন্ধী সালিহুর।

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী রত্না ইসলাম লালমনিরহাট সদর উপজেলার হাড়িভাঙ্গা এলাকার আরডিআরএস-এ কাগজের ঠোঙ্গা বানানোর প্রশিক্ষণ নিতে এসে চার তলা থেকে পড়ে মারাত্বক আহত হয়। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী আহত রত্না ইসলাম রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর ফয়েজপাড়ার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সালিহুরের স্ত্রী।

অভিযোগ সূত্রে যানা জায়, প্রতিবন্ধী রত্না ইসলাম লালমনিরহাট আরডিআরএস দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রে কাগজের ঠোঙ্গা বানানোর প্রশিক্ষণ চলাকালীন একমাস পর ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১ সালে সকালে আরডিআরএস এর দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রের ৪ তালা ভবন থেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়। আর এ কথাটি আরডিআরএস এর দ্বায়িত্বরত লতিফা বেগম রত্না ইসলামের স্বামী সালিহুর রহমানকে ফোন করে বলেন রত্না ইসলাম খুবই অসুস্থ। তাকে লালমনিরহাট থেকে রংপুর মেডিকেলে নিয়ে আসা হচ্ছে। পরে রত্না ইসলামের স্বামী সালিহুর রহমান রংপুর মেডিকেলে গিয়ে স্ত্রী রত্ন ইসলামকে আহত অবস্থায় দেখতে পায়। তার মুখের বাম পার্শ্বের ভিতরের অংশ ভেঙ্গে যায়। বাম হাতের কব্জি ও বাম পায়ের মাজার হাড় ভেঙ্গে যায়। মুখের নিচে একটি লম্বা কাটা দাগ পাওয়া যায় এবং গলায় ফাসের চিহ্ন পাওয়া যায়। বিষয়টি দেখার পর সালিহুর রহমান আরডিআরএস কর্তৃপক্ষের নিকট জানতে চাইলে তারা জানায় রত্না ইসলাম ৪তালা ভবন থেকে পরে আহত হয়েছে।

একই দিন বিকেলে আরডিআরএস রংপুর বিভাগীয় অফিসের কর্মকর্তাগন মেডিকেলে এসে রোগীকে দেখার পর আশ্বাস দেয় আমরা রোগীকে পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসা করবো। এমতাবস্থায় ৪ অক্টোবর আরডিআরএস রংপুর বিভাগীয় অফিসের কর্মকর্তাগন বিষয়টি তদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেলে আসে। অসহায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সালিহুর তাদের কাছে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবী করলে তারা সুষ্ঠ তদন্তের আশ্বাস দিয়ে চলে যায়। পরে আর কোন তদন্ত হয়নি। ৯ অক্টোবর রত্না ইসলামের মুখ অপারেশন করে মুখে একটি স্টিলের প্লেট লাগানো হয়। রত্নার মা ও স্বামী সালিহুর রহমান রোগী দেখাশোনা করতো। আরডিআরএস কর্তৃপক্ষের নিকট খাবার দাবী করলে তারা দুজনের তিন বেলা খাবারের জন্য ১১০ টাকা দিতো এবং বলতো আরো কম খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

৩ নভেম্বর রত্নাকে অর্থ ও সার্জারী বিভাগ থেকে ১৫ দিনের জন্য সাময়িক রিলিজ দেয়। ঐ দিন রিলিজের পুর্ব মুহুর্তে স্বামী সালিহুর পরর্বতী চিকিৎসার জন্য বিষয়টি লালমনিরহাট আরডিআরএস দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন খন্দকার প্রতিক ও লতিফাকে অবগত করে। তারা মৌখিক আশ্বাস দেয় পরবর্তী চিকিৎসা করা হবে। চিকিৎসার বিষয়টি লিখিত চাইলে মনির হোসেন প্রতিক সালিহুরকে বিভিন্ন ভাবে হুমকি দেয়। প্রতিক আরো বলে তোমরা যদি আমার কথায় ভরশা না পাও রংপুর বিভাগীয় অফিস পরিচালক সামাদ স্যারের কাছে যাও। তার কথা অনুযায়ী সামাদ স্যারের অফিসে দেখা করতে গেলে প্রতিক তার সহকর্মী লিমনকে পাঠিয়ে দিয়ে সালিহুরকে অফিস গেটে আটক করে এবং জোর করে আবারো মেডেকেলে নিয়ে আসে।

সালিহুর রোগী নিয়ে যেতে না চাইলে প্রতিক আরিফিন স্যারকে ফোন দিয়ে বলে বস আপনি আমাকে অনুমতি দেন যেহেতু একটার চিকিৎসা করতেছি এটাকেও ৩তালা থেকে ফেলে দিয়ে চিকিৎসা করাবো। ভয়ে সালিহুর রুগী নিয়ে তার বাড়ী যায়।

২৪ নভেম্বর ২০২১ রত্নার পায়ের অপারেশন সম্পুর্ণ হয়৷ অপারেশনের আগের রাতে লালমনিরহাট আরডিআরএস দৃষ্টি প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রের কর্মকর্তা প্রতিক ও লতিফা সালিহুরকে বিভিন্ন হুমকি দেয়। প্রতিক বলে যানো প্রতিক কে? প্রতিক কি করতে পারে? যদি এখন ফোন করি আমার লোক জন এসে তোর অস্তিত্ব রাখবে না। যদি তুমি ভালো চাও আগামিতে আর রোগী নিয়ে আসবে না। তোমার যা খুশি করো। পরবর্তী রত্নার চিকিৎসার বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় অফিসারের সাথে দেখা করতে গেলে দারোয়ান সালিহুরকে দেখা করতে দেয়নি।

রত্না ইসলামের স্বামী সালিহুর রহমান আরো বলেন, ঘটনাটির সুষ্ঠ তদন্ত করা হোক। কারন আমার স্ত্রীকে তারা নিজেরা অত্যাচার করে আহত করেছে। একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ নিতে এসে কিভাবে ৪ তালা থেকে পরে যায়? যেখানে প্রতিবন্ধী নিরাপদ নয় সেখানে কিসের প্রশিক্ষণ বলেও তিনি আক্ষেপ করেন।

অভিযুক্ত প্রতিক বলেন, আমি রংপুরে যাইনি হুমকি কখন দিলাম।

লতিফা বেগমের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তা সম্ভব হয়নি।

লালমনিরহাট আরডিআরএস দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শাখার সুপার সুপারভাইজার খন্দকার আরেফিন বলেন, আমরা এখনো রত্না ইসলামের চিকিৎসা বহন করছি। তার স্বামীর অভিযোগ মিথ্যা

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর ও সদর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহা আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট