1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
ক্ষমতার দাপটে বেপরোয়া যুবলীগ নেতা শাহ জালাল (পর্ব-১) - বাংলা টাইমস
শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২, ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন

ক্ষমতার দাপটে বেপরোয়া যুবলীগ নেতা শাহ জালাল (পর্ব-১)

বিশেষ প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১১ জানুয়ারী, ২০২২
  • ১২১৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

দলীয় শৃঙ্খলা ও সংগঠন বহির্ভূত কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় এবং দলের স্বাভাবিক কর্মকান্ডে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় দলীয় শৃঙ্খলার স্বার্থে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে মো. শাহজালাল মজুমদারকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

 

শনিবার (৮ জানুয়ারি) চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুস সোবহান ভূইয়া হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মো. রহমতউল্লাহ বাবুল স্বাক্ষরিত এক বিঞ্জপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এছাড়া মো. শাহজালাল মজুমদারকে যুবলীগের আহবায়ক পদ থেকে বহিষ্কারের জন্য সুপারিশ করা হবে কেন্দ্রীয় যুবলীগের কাছে।

মো. শাহ জালাল মজুমদার কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক তিনি। দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে সরকারি অর্থ লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে কোটি কোটি টাকা তুলে নিয়েছেন এই যুবলীগ নেতা। দলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থী ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এমনকি বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক সফল রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবকে কটাক্ষ করে বক্তব্য দিয়েছেন মো. শাহজালাল মজুমদার। চৌদ্দগ্রামের মাটি ও মানুষের নেতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ায় প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছেন নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি আওয়ামী লীগের বিরোধীতাকারী শাহজালালকে দল থেকে বহিস্কার করে বিচারের আওতায় আনা।

জানা গেছে, দলের সাইবোর্ড ব্যবহার ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদার বিভিন্নভাবে কোটি টাকা ভূঁয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এলজিএসপির টাকা, টিআর কাবিখা ও অতিদরিদ্রদের ৪০ দিনের কর্মসূচির পুরো টাকাই আত্মসাৎ করেছেন। আর এই দুর্নীতি-স্বেচ্ছাচারিতা-স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদার অবৈধ অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

অনুসন্ধানে ও প্রাপ্ত তথ্যমতে জানা গেছে, যেসব জায়গায় কাবিখা প্রকল্প দিয়ে কাজ করেছেন-আবার সেখানেই এলজিএসপি প্রকল্প দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করে লোপাট করেছেন। হাজী মির আহমেদ সাহেবের বাড়ির সড়ক জেলা পরিষদের দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে চার লাখ টাকা উত্তোলন করা হলেও কোন কাজ হয়নি। এছাড়া মুজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের মাটি ভরাটের জন্য দুই দফায় এলজিএসপির প্রকল্প দেওয়া হয়। যার কাজ না করেই ৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদার। এখানেই শেষ নয়, ভাঙ্গাপুস্করাণী মহিলা মাদ্রাসার প্রবেশ মুখে সড়কের মাটি ভরাটের জন্য দুই দফায় এলজিএসপির প্রকল্প পাস হয়। কিন্তু কোন প্রকার কাজ করেই চার লাখ টাকা হজম করেন চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন পরিষদের মসজিদ ও অবকাঠামো উন্নয়নের নামের লুটপাট করেছেন যুবলীগের সাইনবোর্ডধারী চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদার। গত পাঁচ বছরে অন্ত ২৫টি প্রকল্প দেখিয়ে নামমাত্র কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি । এসব প্রকল্পের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ইউপি সদস্যদের ব্যবহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, বগৈড় তোর পাড়া খালেক বিএসসি সাহেবের বাড়ির পুকুরের গাইড ওয়াল নির্মাণ এলজিএসপির-২ প্রকল্পের ৪ লাখ উত্তোলন করেন কাজ না করেই। বগৈর মধ্যম পাড়া শাহ আলম মেম্বারের বাড়ির সড়ক ওয়ান পার্সেন্ট প্রকল্প দিয়ে নির্মাণের দুই লাখ উত্তোলন করা করা হয়। যার আদৌও কোন কাজ হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্প শেষে নামফলক দেয়ার বিধান থাকলেও অপকর্ম লুকাতে প্রকল্পের নাম ফলকের স্থান করেও বসানো হয়নি প্রকল্প নাম।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা যুবলীগের এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদার ক্ষমতা পেয়ে টাকার পাহাড় গড়তে মরিয়া হয়ে অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি বলেন, টিআর-কাবিখা প্রকল্পের কাজ না করে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ, কর্মসৃজন প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার চেয়ারম্যান পরিবারে বিতরণ ও প্রকল্পের কাজ না করে টাকা উত্তোলনের পর আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা কর্তৃক করা প্রকল্পকে ইউনিয়ন পরিষদের প্রকল্প দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন চেয়ারম্যান। সরকারী ঠিকাদারি কাজে অনিয়মের কথা বলায় ওই যুবলীগ নেতা শাহ জালাল মজুমদার একজন শিক্ষককে ‘চাঁদাবাজ, তুই বেয়াদব ও গু-া….’ বলে আখ্যা দেন ও অকথ্য ভাষায় হুমকি দেন। এছাড়াও ওই শিক্ষককে তিনি মামলার ভয় দেখান। তার এই অডিওটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। যার অডিও ক্লিপ রিপোর্টারে হাতে রয়েছে। এক সময় তার কিছু না থাকলেও চেয়ারম্যান হওয়ার পর মো. শাহ জালাল মজুমদার এখন কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। রয়েছে আলিশান ফ্ল্যাট, প্রাইভেট কার, হোটেল -রেস্তোরা, বিভিন্ন জায়গায় নামে-বেনামে রয়েছে অনেক সম্পতি। আরও রয়েছে ঠিকাদারী ব্যবসা। যা একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সম্পূর্ণ নিয়ম বর্হিভূত।

এসব অভিযোগ বিষয়ে চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদার বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ মিথ্যা।

জানা গেছে, যুবলীগ নামধারী চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদারের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবজি ও লাগামহীন দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। এমনকি দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। প্রথমবার চিয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই কপাল খুলে যায় ৪নং শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদার। এরপর দলীয় মনোনয়নে চেয়ারম্যান হয়েই শুরু হয় ক্ষমতার অপব্যবহার। এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড! সবকিছুই করতেন তিনি সিদ্ধহস্তে। চাঁদাবাজি করতে ভুলেননি এই চেয়ারম্যান।

বিগত ইউপি নির্বাচনে কৌশল অবলম্বন করে বিনা ভোটে তৃতিয় দফায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো. শাহ জালাল মজুমদার। ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত ২নং উজিরপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ঘোড়া প্রতীকে প্রার্থী ছিলেন শাহ জালাল মজুমদারের শ্বশুর চাঁন্দশ্রী গ্রামের আলী আশ্বাব এবং নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নাঈমুর রহমান মজুমদার মাসুম। দলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, যুবলীগ নেতা ও বিনা ভোটে নির্বাচিত চেয়ারম্যান শাহ জালাল মজুমদার উজিরপুর ইউনিয়নে দলের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুমের পক্ষে কাজ না করে তার শ্বশুরের ঘোড়া প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেন এবং গোপনে ও প্রকাশ্যে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান। তবে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী নাঈমুর রহমান মজুমদার মাসুম বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন এবং শাহ জালালের শ্বশুর আলী আশ্বাব পরাজিত হন। এরপর থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় নেতাকর্মীরা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় শাহ জালালের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

স্থানীয় লোকজন বলেন, মো. শাহ জালাল মজুমদার চেয়ারম্যান প্রথমবার নির্বাচনে অংশ গ্রহন করে মানুষকে ভয়ভীতি ও তার সন্ত্রাস বাহীনি দিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। আর এরপর থেকেই তার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিরিহ মানুষের উপর জুলুম অত্যাচার শুরু করে। ওই সব এলাকার নিরিহ মানুষদের মিথ্যা মামলা দিয়ে দখল, লুটপাট ও সরকারী টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল মজুমদার। চেয়ারম্যান হিসেবে তার ইউনিয়নে অসহায় দুঃস্ত গরিব মানুষদের যেখানে সহায়তা দেয়ার কথা, সেখানে তিনিতো তা করেননি উল্টো সরকারের দেয়া সহায়তাও তিনি আত্মসাত করেছেন।

তারা বলেন, মো. শাহ জালাল মজুমদার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তার হাতে এলাকায় বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট