1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৪২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
...Welcome To Our Website...

লঞ্চে আগুন, নদীতে ভাসছে পোড়া লাশ!

বিশেষ প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৫১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পুড়ে যাওয়া বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে ১০ মাসের মধ্যে তিনবার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে। ওই ঘটনায় ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দগ্ধরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

এদিকে ঘটনা ৬ দিন পার হয়ে গেলেও নদীতে অজ্ঞাত দুজনের লাশ ভেসে উঠেছে। বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে উপজেলা সদরের কিস্তাকাঠি এলাকার সুগন্ধা নদীর চরে ভাসমান অজ্ঞাতনামা এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়।

এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া এলাকার বিষখালী নদীর চর থেকে অজ্ঞাতনামা আরেক যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া লাশ দুটি সদর থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে লাশ দুটির পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

উদ্ধার হওয়া নারীর বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর এবং পরনে গোলাপি রঙের সালোয়ার-কামিজ আছে। আগুনে ঝলসানো লাশের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিখোঁজ যাত্রীদের একজন। এদিকে উদ্ধার হওয়া ওই যুবকের বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তার পরনে কালো রঙের জিনসের প্যান্ট ও একটি গেঞ্জি ছিল। তার পকেটে থাকা মানিব্যাগে একটি ছবি পাওয়া গেছে। তবে ছবিটি কার, সেটা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি ফায়ার সার্ভিস।

এ নিয়ে গত তিন দিনে সুগন্ধা ও বিষখালী নদী থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হলো। অগ্নিকান্ডের ঘটনায় মৃত ব্যক্তির সংখ্যা বেড়ে ৪৬ হলো।

ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, বিষখালী নদী থেকে উদ্ধার হওয়া দুই লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) চরভাটারকান্দা থেকে উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিচয় মিলেছে। ওই শিশুর নাম মাহির হোসেন (১১)। সে চাঁদপুর জেলা শহরের মো. মাসুদ রানার ছেলে। মাহির ঢাকার মিরপুর-১৪ নম্বর এলাকার একটি মাদ্রাসার ছাত্র।

মাহিরের বাবা মাসুদ রানা বলেন, মাহির অভিযান-১০ লঞ্চে নানির সঙ্গে সদরঘাট থেকে বরগুনার বেতাগীতে খালার বাড়ি বেড়াতে যাচ্ছিল। মধ্যরাতে লঞ্চে অগ্নিকান্ডের প্রাণ বাঁচাতে মাহিরের নানি জরিনা বেগম নাতিকে নিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। কিছু দূর সাঁতরানোর পর জরিনা বেগম নাতিকে হারিয়ে ফেলেন। জরিনা বেগম সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মাহির নিখোঁজ ছিল।

লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বরগুনার আদালতে হামজালাল শেখকে প্রধান আসামি করে ২৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে। মামলাটি করেছেন বরগুনা সদর উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম। তিনি বালিয়াতলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগেরও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৯টি ধারায় বেপরোয়া নৌযান চলাচল, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযান পরিচালনা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নৌ আদালতে করা মামলায় লঞ্চের চার মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নৌপরিবহন আদালতের বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জয়নাব বেগম এ পরোয়ানা জারি করেন।

রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নৌ অধিদফতরের করা মামলার আবেদনের প্রেক্ষিতে নৌ আদালতের বিচারক (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জয়নাব বেগম এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে নৌ অধিদফতরের মুখ্য ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন নৌ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা (প্রসিকিউটর অফিসার) বেল্লাল হোসাইন।

বেল্লাল হোসাইন বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসার পর ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ৭২ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হরা হয়েছে। দগ্ধের আর্তনাদে হাসপাতালের পুরুষ, মহিলা ও শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে। এদিকে, দগ্ধদের চিকিৎসায় হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্স এবং স্টাফদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন বার্ন ইউনিট বন্ধ রয়েছে। সার্জারি ওয়ার্ডে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্স এবং স্টাফদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিলের করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, বেশির ভাগ রোগী ৫০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ ভাগ দগ্ধ তিন শিশুসহ ৫ জনকে ঢাকা বার্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন রোগীর জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। ঢাকায় নেয়ার পথে এক শিশু মারা গেছে।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) ৭২ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটে ৪০ জন, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ২০ জন, শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ৭ জন এবং অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে ৫ জন ভর্তি হয়েছে।

সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফেরদাউস আহম্মেদ বাংলা টাইমসকে বলেন, লঞ্চে অগ্মিকাণ্ডের ঘটনায় অধিকাংশওই ৫০ শতাংশের অধিক দগ্ধ হয়েছে।

শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তৈহিদুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ৭টি শিশু দগ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা খুবই গুরুতর।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, জরুরি বিভাগে সব রোগীকে ফ্রি টিকেটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ, স্যালাইন, অক্সিজেন, বালিশ, বিছানা, কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠি সদরের ধানসিড়ি ইউনিয়নের গাবখান চ্যানেলে এমভি অভিযানের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগে। এরপর দ্রুত পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দেয়। লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনা যাচ্ছিল। লঞ্চে শিশু, বৃদ্ধ, নারীসহ ৫শ’র বেশি যাত্রী ছিলেন।

আহতরা জানান, লঞ্চটি বরগুনা যাচ্ছিল। এ সময় যাত্রীদের বেশিরভাগই ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠি লঞ্চঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে লঞ্চের স্টাফরা ঝালকাঠির যাত্রীদের ঘাটে নামার জন্য ডাকতে থাকেন। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই আগুন দেখতে পেয়ে দিকবিদিক ছুটতে শুরু করে যাত্রীরা। এ সময় কেউ কেউ ঝাপিয়ে নদীতে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামে একটি লঞ্চে আগুন লাগে। এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দগ্ধ ৬৬ জনের মধ্যে ৪৫ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিমে) পাঠানো হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমি দোতলায় ঘুমিয়ে ছিলাম। আগুনের তাপে ঘুম ভেঙ্গে দেখি পুরা লঞ্চটিতে আগুন ধরে গেছে। তখন লাফ দিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেই।

এদিকে, পুড়ে যাওয়া এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের বরগুনাগামী ২৪ যাত্রীর এখনো সন্ধান পাচ্ছেন না স্বজনরা। বরগুনা সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের রিপন বলেন, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার ফুপাতো ভাই খাজুরা এলাকার মইন, ফুপাতো ভাইর ছেলে আবদুল্লাহ এবং তার শালী আছিয়া নিখোঁজ রয়েছে। হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে খোঁজ নিলেও তাদের খোঁজ মেলেনি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, বরগুনার মাইঠা এলাকার ইদ্রিম খান, নলীর আবদুল হাকিম, চাঁদপুরের মনোয়ারা, পাথরঘাটার টেংরার পপি আক্তার, পাথরঘাটা পৌরসভার তালতলার আবদুর রাজ্জাক, পাথরঘাটার কালমেঘার কালিবাড়ির রাকিব মিয়া, বরগুনা সদরের হাফেজ তুহিনের মেয়ে (নাম অজ্ঞাত) সদরের ছোট আমতলীর জয়নব বেগম, মির্জাগঞ্জ উপজেলার রিনা বেগম ও তার মেয়ে রিমা নিখোঁজ রয়েছেন।

বরগুনা সদরের পরীরখালের মা-মেয়ে রাজিয়া ও নুসরাত, বরগুনা ঢলুয়ার মোল্লারহোড়া গ্রামের একই পরিবারের মা তাসলিমা (৩৫) ও তার মেয়ে মিম (১৫) তানিশা (১২) এবং ছেলে জুনায়দেসহ চারজনের সন্ধান মেলেনি।

বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী গ্রামের মৃত কামাল সিকদারের স্ত্রী রেখা বেগম (৪২) ও তার মেয়ের ঘরের নাতি জুনায়েদ (৭) নিখোঁজ রয়েছে । রেখার দেবর জলির সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বরগুনা সদর উপজেলার মানিকখালী গ্রামের আব্দুল হাকিম শরীফ, তার স্ত্রী পাখি বেগম এবং ছেলে ফাইজুল করিমের খোঁজ মেলেনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট