1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
...Welcome To Our Website...

রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে লঞ্চ চালান হামজালাল শেখ

সুপন রায়
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৬৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে পুড়ে যাওয়া বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে দুর্ঘটনার পর বেড়িয়ে আসছে থলের বিড়াল। লঞ্চের মালিক মালিক হামজালাল শেখের হাফিলতির কারণেই যে দুর্ঘটনা ঘটেছে তা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে হামজালাল শেখকে।

 

পুড়ে যাওয়া বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটিতে ১০ মাসের মধ্যে তিনবার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাতে। ওই ঘটনায় ৪১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দগ্ধরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে অর্ধশতাধিক।

এদিকে, পুরনো ক্ষত না শুকাতেই সুন্দরবনে আরেক কান্ড ঘটালো এমভি অভিযান-৫ লঞ্চ। এ অবস্থার মধ্যে হামজালাল শেখের মালিকানাধীন এমভি অভিযান-৫ লঞ্চের বিরুদ্ধে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সুন্দরবনে পর্যটক বহনের অভিযোগ উঠেছে। লঞ্চটি ৭৫ জন পর্যটকের পাস পারমিট (অনুমতিপত্র) নিয়ে ১৪০ জন পর্যটক নিয়ে ঢুকে পড়ে সুন্দরবনে।

রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সুন্দরবনের প্রবেশের দায়ে শরনখোলা রেঞ্জ অফিসের সামনে থেকে লঞ্চটি আটকে দিয়েছে বনবিভাগ। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করেন।

 

সুন্দরবনের শরনখোলা রেঞ্জের সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) মো. শামসুল আরেফিন জানান, সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য অন্তত এক সপ্তাহে আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে বন বিভাগ থেকে অনুমতিপত্র নিতে হয়। সুন্দরবন ভ্রমণ নীতিমালা অনুযায়ী একটি লঞ্চে ৭৫ জনের বেশি পর্যটক বহনের অনুমতি নেই। সুন্দরবনের অভয়ারণ্যে পর্যটকদের প্রবেশের জন্য জনপ্রতি ১৫০ টাকা রাজস্ব ধার্য রয়েছে। আর অভয়ারণ্যের বাইরে হলে ৭০ টাকা। কিন্তু ঢাকা থেকে পর্যটকবাহী বিলাসবহুল এমভি অভিযান-৫ নামের এই লঞ্চটি ৭৫ জনের জায়গায় ১৪০ জন পর্যটক বহন করে রাজস্ব ফাঁকি দিতে চেয়েছিল। লঞ্চটিতে পর্যটকদের জন্য ট্যুরস গাইড বাধ্যতামূলক হলেও এমভি অভিযান-৫ লঞ্চটি সে নির্দেশনাও মানা হয়নি। তারা নির্দেশনা না মেনে সুন্দরবনে ঢোকার চেষ্টা করলে শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শরনখোলা রেঞ্জ অফিসের সামনে থেকে লঞ্চটি আটকে দেওয়া হয়।

সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ কেরানীগঞ্জে এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নৌ আদালতে করা মামলায় লঞ্চের চার মালিকসহ আটজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নৌপরিবহন আদালতের বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ জয়নাব বেগম এ পরোয়ানা জারি করেন।

রোববার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে নৌ অধিদফতরের করা মামলার আবেদনের প্রেক্ষিতে নৌ আদালতের বিচারক (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জয়নাব বেগম এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এর আগে নৌ অধিদফতরের মুখ্য ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন নৌ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তা (প্রসিকিউটর অফিসার) বেল্লাল হোসাইন।

বেল্লাল হোসাইন বলেন, লঞ্চ দুর্ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আসার পর ইন্সপেক্টর শফিকুর রহমান বাদী হয়ে এই মামলা করেন।

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ ৭২ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হরা হয়েছে। দগ্ধের আর্তনাদে হাসপাতালের পুরুষ, মহিলা ও শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে। এদিকে, দগ্ধদের চিকিৎসায় হাসপাতালের সব চিকিৎসক, নার্স এবং স্টাফদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, চিকিৎসক না থাকায় দীর্ঘদিন বার্ন ইউনিট বন্ধ রয়েছে। সার্জারি ওয়ার্ডে দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, নার্স এবং স্টাফদের সাপ্তাহিক ছুটি বাতিলের করা হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসকরা জানান, বেশির ভাগ রোগী ৫০ ভাগ দগ্ধ হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭০ ভাগ দগ্ধ তিন শিশুসহ ৫ জনকে ঢাকা বার্ন হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। বেশ কয়েকজন রোগীর জরুরি ভিত্তিতে রক্তের প্রয়োজন। ঢাকায় নেয়ার পথে এক শিশু মারা গেছে।

শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) ৭২ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডের ৩ ও ৪ নম্বর ইউনিটে ৪০ জন, মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ২০ জন, শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ৭ জন এবং অর্থোপেডিক্স ওয়ার্ডে ৫ জন ভর্তি হয়েছে।

সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফেরদাউস আহম্মেদ বাংলা টাইমসকে বলেন, লঞ্চে অগ্মিকাণ্ডের ঘটনায় অধিকাংশওই ৫০ শতাংশের অধিক দগ্ধ হয়েছে।

শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তৈহিদুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, শিশু সার্জারি ওয়ার্ডে ৭টি শিশু দগ্ধ হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা খুবই গুরুতর।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচ এম সাইফুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, জরুরি বিভাগে সব রোগীকে ফ্রি টিকেটে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ, স্যালাইন, অক্সিজেন, বালিশ, বিছানা, কম্বল সরবরাহ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠি সদরের ধানসিড়ি ইউনিয়নের গাবখান চ্যানেলে এমভি অভিযানের ইঞ্জিন রুমে আগুন লাগে। এরপর দ্রুত পুরো লঞ্চে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দেয়। লঞ্চটি ঢাকা থেকে বরগুনা যাচ্ছিল। লঞ্চে শিশু, বৃদ্ধ, নারীসহ ৫শ’র বেশি যাত্রী ছিলেন।

আহতরা জানান, লঞ্চটি বরগুনা যাচ্ছিল। এ সময় যাত্রীদের বেশিরভাগই ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠি লঞ্চঘাটের কাছাকাছি পৌঁছালে লঞ্চের স্টাফরা ঝালকাঠির যাত্রীদের ঘাটে নামার জন্য ডাকতে থাকেন। এরই মধ্যে হঠাৎ করেই আগুন দেখতে পেয়ে দিকবিদিক ছুটতে শুরু করে যাত্রীরা। এ সময় কেউ কেউ ঝাপিয়ে নদীতে পড়ে।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাত ৩টার দিকে ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে ঢাকা থেকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ নামে একটি লঞ্চে আগুন লাগে। এখন পর্যন্ত ৪১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দগ্ধ ৬৬ জনের মধ্যে ৪৫ জনের অবস্থা গুরুতর। তাদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিমে) পাঠানো হয়েছে।

ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আব্দুল কাইয়ুম বলেন, আমি দোতলায় ঘুমিয়ে ছিলাম। আগুনের তাপে ঘুম ভেঙ্গে দেখি পুরা লঞ্চটিতে আগুন ধরে গেছে। তখন লাফ দিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেই।

এদিকে, পুড়ে যাওয়া এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের বরগুনাগামী ২৪ যাত্রীর এখনো সন্ধান পাচ্ছেন না স্বজনরা। বরগুনা সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামের রিপন বলেন, লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তার ফুপাতো ভাই খাজুরা এলাকার মইন, ফুপাতো ভাইর ছেলে আবদুল্লাহ এবং তার শালী আছিয়া নিখোঁজ রয়েছে। হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলে খোঁজ নিলেও তাদের খোঁজ মেলেনি।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, বরগুনার মাইঠা এলাকার ইদ্রিম খান, নলীর আবদুল হাকিম, চাঁদপুরের মনোয়ারা, পাথরঘাটার টেংরার পপি আক্তার, পাথরঘাটা পৌরসভার তালতলার আবদুর রাজ্জাক, পাথরঘাটার কালমেঘার কালিবাড়ির রাকিব মিয়া, বরগুনা সদরের হাফেজ তুহিনের মেয়ে (নাম অজ্ঞাত) সদরের ছোট আমতলীর জয়নব বেগম, মির্জাগঞ্জ উপজেলার রিনা বেগম ও তার মেয়ে রিমা নিখোঁজ রয়েছেন।

বরগুনা সদরের পরীরখালের মা-মেয়ে রাজিয়া ও নুসরাত, বরগুনা ঢলুয়ার মোল্লারহোড়া গ্রামের একই পরিবারের মা তাসলিমা (৩৫) ও তার মেয়ে মিম (১৫) তানিশা (১২) এবং ছেলে জুনায়দেসহ চারজনের সন্ধান মেলেনি।

বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগী গ্রামের মৃত কামাল সিকদারের স্ত্রী রেখা বেগম (৪২) ও তার মেয়ের ঘরের নাতি জুনায়েদ (৭) নিখোঁজ রয়েছে । রেখার দেবর জলির সিকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বরগুনা সদর উপজেলার মানিকখালী গ্রামের আব্দুল হাকিম শরীফ, তার স্ত্রী পাখি বেগম এবং ছেলে ফাইজুল করিমের খোঁজ মেলেনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট