1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:১২ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
...Welcome To Our Website...

‘হুমকিতে দেশের ফসলী মাটির স্বাস্থ্য’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২১
  • ৬৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সারাবিশ্বের মধ্যে মাথাপিছু কৃষি জমির পরিমাণ সবচেয়ে কম বাংলাদেশে। বিশ্বের অনেক দেশে ফসলী জমির পরিমান কম হলেও তারা উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জমি চাষাবাদ করে থাকে। যেসব প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের নেই। অন্যদিকে, প্রত্যেক ৬-৮ বছরে বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়ছে ১ কোটি করে। এতে প্রতিনিয়ত ফসলী জমির পরিমাণ কমছে। ফলে দিনদিন ফসলী জমির পরিমাণ কমে খাদ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়ছে। এদিকে মারাত্বক ক্ষতির মুখে রয়েছে ফসলী মাটির স্বাস্থ্য। এই সমস্যা থেকে উত্তরণ পেতে প্রয়োজন কৃষিতে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার ও জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো। 

 

 

উপজেলা ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা বা ইউনিয়ন সহায়িকা ব্যবহার করে বরেন্দ্র অঞ্চলের অম্লীয় মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের সম্মেলন কক্ষে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের এএসএমএসসিপি শীর্ষক কর্মসূচির অর্থায়নে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট।

তিনদিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের গবেষণা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব কমলারঞ্জন দাশ বলেন, বাংলাদেশের যেকোন মাটিতে শুধুমাত্র বীজ ফেলে দিলেই ফসল হয়। কিন্তু অনেক দেশেই এমন অনুকুল পরিবেশ নেই। তাই তারা নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই জমি চাষাবাদ করে থাকে। অথচ আমরা এমন মাটি পেয়েও এর সঠিক ব্যবহার করি না। যেমন- একটি খেজুর গাছে কেউ কোনদিন সার বা পরিচর্যা করা তো দূরের কথা, পানি পর্যন্ত দেয় না। অথচ প্রত্যেক বছর শীতে বিপুল পরিমাণ খেজুর রস আহরণ করে থাকি। ঠিক তেমনি এমন মাটি পেয়েও আমরা সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারিনা।

তিনি আরও বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলের জমিতে আগে পানির অভাবের কারনে ফসল ফলানো যেত না৷ কিন্তু সরকারের নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহনের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদলেছে। এর প্রভাবে এখন বরেন্দ্র অঞ্চলের জমির দাম বেড়েছে। কারন এখন বরেন্দ্র অঞ্চলের জমিতে বিভিন্ন ফলের চাষাবাদ করা যায়। তবে এসব জমিতে অধিক হারে জৈব সার ব্যবহার করতে হবে। মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধি ছাড়াও শস্য নির্বাচনেও গুরুত্ব দিতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের জমিতে কম পানিতে হয়ে যায় এমন ফসল চাষাবাদ করতে হবে। এক্ষেত্রে তুলা চাষের পরামর্শ দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের ফিল্ড সার্ভিসেস বিভাগের পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, দেশের ফসলী মাটির স্বাস্থ্য মারাত্মক ক্ষতির মুখে রয়েছে। মাটির গুণাগুণ বৃদ্ধি ও ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে মাটিতে অধিক হারে জৈব সারের ব্যবহার করতে হবে। দেশের সব মাটির পিএইচ কম। কিন্তু বরেন্দ্র অঞ্চলের মাটির খারীয়। এই মাটিতে বেশি করে চুনের ব্যবহার করতে হবে। এতে ফসল উৎপাদন বাড়বে। বিজ্ঞানভিক্তিক কৃষি পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে সকল মাটির স্বাস্থ্য নিয়ে সকল হুমকি থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মোখলেসুর রহমান, উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দিন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ মো. রোকন-উজ্জামান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রদান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূরুল ইসলাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা বা ইউনিয়ন সহায়িকা ব্যবহার করে বরেন্দ্র অঞ্চলের অম্লীয় মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রেজেন্টেশন দেন। প্রশিক্ষণে বরেন্দ্র অঞ্চলের ৩০ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষক অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন, পাবনা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ফারুক হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রদান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. নূরুল ইসলাম ও এক্সিম ব্যাংক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানী মো. মেহেদী হাসান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট