1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
স্বপ্নের ফেরিওয়ালা শাহরুখ খান - বাংলা টাইমস
মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা শাহরুখ খান

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২ নভেম্বর, ২০২১
  • ৬১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মায়ানগরী মুম্বই, কেউ এখানে আসেন নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে কেউ আবার নিজেই হয়ে ওঠেন একটা আস্ত প্রতিষ্ঠান। একটা সামান্য নামকে নেমপ্লেট করে তোলার এই যুদ্ধ নিতান্তই সহজ নয়, কেউ সফলতা পান কেউ আবার হারিয়ে যান কালের নিয়মে। তাই প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও স্বপ্ন দেখার সাহস পান না অনেকেই। দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা সেইসব যুবদের যিনি এই স্বপ্ন দেখার সাহস যোগান, সেই ফিলগুড স্বপ্নের ফেরিওয়ালার নাম ‘শাহরুখ খান’।

 

আশ্চর্য তাঁর খোয়াবনামা। অধিবাস্তব তাঁর জীবন কাহিনি। শাহরুখ খানের উথ্থানের গল্প হার মানাবে বলিউডি ছবির চিত্রনাট্যকেও। বিশ্বায়নের দুনিয়ায় সারা পৃথিবীতে ভারতীয় সিনেমার, সংস্কৃতির বাহক ছিলেন তিনি। সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ভারতের অন্য নাম হয়ে উঠেছিলেন শাহরুখ খান। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে তাঁর অতি সাধারণ নামকে স্বর্ণাক্ষরে লিখেছেন দিল্লির মধ্যবিত্ত পরিবারের এই ছেলে, যা এখন অস্বীকার করার ক্ষমতা ইতিহাসেরও নেই। তাঁর ছবির বিখ্যাত সংলাপ, ‘রাহুল নাম তো সুনা হি হোগা’, আজ যদি কেউ তাঁকে নিয়ে সংলাপ লিখতে বসত, তাহলে নিশ্চয় লিখতেন- শাহরুখ খান, নাম তো জরুর সুনা হোগা।

নব্বইয়ের নয়া সময়ে দর্শক ভারতীয় পৌরুষের ধারণাকে নতুন ছাঁচে দেখতে চাইছিল। সে ব্যর্থ রোমান্টিক দিলীপ কুমার নয়, আবার অ্যাংরি ইয়ং ম্যান অমিতাভও নয়। তাহলে? ক্রমে নির্মিত হল এক ধারণা, যার নাম শাহরুখ। যার প্রচ্ছদ বিশ্বায়ন নির্ধারিত, সত্তা ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতির। আরিয়ন হয়ে যে চ্যালেঞ্জ জানায় গুরুকুলকে, যে দিওয়ানা বাজিগর আবার একই সঙ্গে গড়ে তোলে তাঁর স্বদেশ। নব্বইয়ের ভারত যে সুখস্বপ্ন দেখতে চেয়েছিল, তারই নাম শাহরুখ।

স্কুল জীবন থেকেই অভিনয়ে হাতেখড়ি কিন্তু তিনি যে অভিনেতা হতে পারেন সে ব্যাপারে তাঁর উপর আস্থা ছিল না কারোরই। শুধুমাত্র তাঁর মা ভরসা রেখেছিলেন তাঁর উপর। গর্ব করে সকলকে বলতেন, ‘ছেলে আমার দিলীপ কুমার হবে।’ মায়ের সেই ভরসায় উড়ান দিয়ে মাত্র ১৫০০ টাকা নিয়ে দিল্লি থেকে মুম্বই পাড়ি দিয়েছিলেন শাহরুখ খান। আজিজ মির্জার অফিসে টেবিলের নিচে রাতে ঘুমাতো যে ছেলেটা আজ তাঁর ঘুম ভাঙে মুম্বইয়ে সমুদ্রের পাড়ে ২০০ কোটি টাকার বাংলোয়। তবে তাঁর জীবনের আফসোস, যে মা তাঁর উপর আস্থা রেখেছিলেন সেই মা তাঁকে একবারের জন্যও দেখতে পাননি পর্দায়। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই মাতৃহারা হয়েছিলেন তিনি।

মুম্বই এসে একের পর এক প্রযোজক তাঁকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন, কারণ তাঁর চেহারা ‘হিরোসুলভ’ ছিল না। ছোটপর্দা দিয়েই কেরিয়ার শুরু করেছিলেন। কিন্তু যিনি রাজা হতে এসেছেন তাঁকে দমিয়ে রাখা কি এতো সহজ! তাই কালের নিয়মেই শুরু হল তাঁর উথ্থান। সেকেন্ড হিরো হিসাবে সিনেমার দুনিয়ায় পা রাখলেও একের পর এক হিট ছবি দর্শকদের উপহার দিয়ে তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন তিনিই বক্সঅফিসের ‘কিং’। তবে শুধুই কি সাফল্য, ব্যর্থতাও এসেছে। কিন্তু সেই ব্যর্থতাকেই পাথেয় করে এগিয়ে চলেছেন শাহরুখ, পর্দার অপ্রতিরোধ্য ‘বাদশা’। আজও তাঁকে ঘিরে উন্মাদনায় এতটুকু ঘাটতি পড়েনি। শুধুমাত্র তাঁদের স্বপ্নের নায়ককে এক ঝলক দেখার জন্য তাঁর ৫৬ তম জন্মদিনেও অনুরাগীদের ঢল নেমেছে তাঁর বাংলো মন্নতের সামনে, কারণ আজও মধ্যবিত্তের স্বপ্ন দেখার সাহসের নাম শাহরুখ খান।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট