1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
এনজিও'র লাপাত্তার শঙ্কায় বিক্ষোভ, দুই কর্মকর্তা অবরুদ্ধ - বাংলা টাইমস
শুক্রবার, ২৭ মে ২০২২, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

এনজিও’র লাপাত্তার শঙ্কায় বিক্ষোভ, দুই কর্মকর্তা অবরুদ্ধ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১
  • ১৪৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আবারো একটি এনজিও লাপাত্তা হওয়ার শঙ্কায় ৬ শতাধিক গ্রাহক এনজিওর একটি শাখার সামনে জমায়েত হয়ে বিক্ষোভ করেন। এ সময় ওই এনজিওর দুই কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে।

 

জানা গেছে, যমুনা মানব কল্যান সংস্থা নামক এই এনজিওর অন্তত ৬ শতাধিক গ্রাহক তাদের পাওনা টাকার জন্য বিক্ষোভ করতে থাকে। ঘটনাটি সোমবার (১১ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার চাতরা নতুন বাজার এলাকায় ঘটে।

 

এর আগে একই এলাকার রুপালী, কুসুমকলি ও মার্সাল নামের ভূঁইফোড় ৩টি এনজিও অর্থ আত্মসাৎ করে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

 

স্থানীয়রা জানায়, মাইক্রো ক্রেডিট অথারিটির নিবন্ধন না থাকলেও আইন অমান্য করে স্থানীয়ভাবে সমাজ সেবা, মহিলা সংস্থা ও যুব উন্নয়ন থেকে অনুমোদন প্রাপ্ত হয়ে ১৬টি শাখার মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করছিল যমুনা নামের এ এনজিও। গত ৬ মাসের মধ্যে ধাইনগর, চৌডালা সহ ৪টি শাখা বন্ধ হয়ে গেলে চাতরা নতুন বাজারের শাখায় ভিড় করতে থাকে গ্রাহকরা। রবিবার রাতে কয়েকজন গ্রাহক চাতরা শাখাটিও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে জানতে পেরে এর এরিয়া ম্যানেজার কবির হোসেন ও চাতরা শাখা ব্যবস্থাপক সেলিমকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত (বিকেল ৫টা পর্যন্ত) ওই দুই কর্মকর্তা অবরুদ্ধ এবং এর পরিচালক পলাতক রয়েছে।

 

বিক্ষোভকারী হাসেম মিঞা জানান, তার ভগ্নিপতি মারা যাওয়ার পর বোন হাজেরা বেগম সংসারের খরচ চালাতে এবং নিজের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে জমি বিক্রির ৮ লাখ টাকা যমুনার চাতরা শাখায় রেখে লাভের টাকায় সংসার চালাতেন। কিন্তু ৬ মাস থেকে তিনি লাভ তো দূরের কথা মূল টাকাও পাচ্ছেননা। উল্টো তাদের বিভিন্নভাবে ভয় ভীতি দেখানো হচ্ছে।

 

অপর গ্রাহক আলয়া বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তার, ছেলের ও স্বামীর দিনমজুরির মাধ্যমে আয় করা ৬ লাখ টাকা জমা দেয়ার ১ বছরের মাথায় আর কোন হদিস নাই। তাই তিনিও খবর পেয়ে এখানে জমায়েত হয়েছেন।

 

অন্যদিকে, চৌডালা শাখার ব্যবস্থাপক জানান, যমুনার নামে কোন এম আর এ (মাইক্রো ক্রেডিট অথারিটি) নিবন্ধন না থাকার পরও ১৬টি শাখার মাধ্যমে এনজিও টি আর্থিক লেন-দেন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তার দাবী তার কার্যলয়ের গ্রাহকের ১৬ লাখ টাকা উঠিয়ে নিয়ে মালিক লাপাত্তা হয়েছে।

 

এ ব্যাপারে অবরুদ্ধ এরিয়া ম্যানেজার কবির হোসেন দাবী করেন, তাদের এনজিও পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুজব। তারা টাকার ব্যবস্থা করে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছেন। তাদের পরিচালকের ফোনে যোগাযোগ করতে না পারায় তারা বিব্রত বলেও জানিয়েছেন।

 

এ সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া শাখাগুলোর শাখা ব্যবস্থাপকরাও চাতরার বিক্ষুদ্ধ গ্রাহকদের সাথে বিক্ষোভে যোগ দেন এবং তাদের পাওনা টাকা ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

অপরদিকে, সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মঈন আলীর সাথে তার ২টি সেল নম্বরে একাধিক বার যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

 

শিবগঞ্জ সমাজ সেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস বাংলা টাইমসকে জানান, যমুনার পরিচালক মো. মঈন আলীর মালিকানাধীন আর এস.ডি.এস নামক একটি এন.জি.ও এর নামে এম আর এ লাইসেন্স থাকলেও যমুনার নামে নেই। তবে যমুনার নামে সমাজ সেবা, মহিলা সংস্থা ও যুব উন্নয়ন থেকে নিবন্ধন করা রয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, যমুনার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, একই এলাকার কুসুমকলি, মার্সাল সহ কয়েকটি এনজিও অর্থ আত্মসাত করে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি তিনিও জেনেছেন। তবে তাদের কোন নিবন্ধন তার দপ্তর থেকে নেয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট