1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৫৩ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
...Welcome To Our Website...

রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ হত্যায় আরও দুইজন গ্রেপ্তার

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহকে হত্যায় ঘটনায় আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে আটক করেছে আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জিয়াউর রহমান ও আব্দুস সালাম।

 

শনিবার (২ অক্টোবর) সকালে উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

১৪ এপিবিএনের পুলিশ সুপার নাঈমুল হক বলেন, গ্রেপ্তারকৃতদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

এর আগে রোহিঙ্গা নেতা মো. মুহিবুল্লাহকে হত্যার ঘটনায় উখিয়া থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে উখিয়া থানায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই হাবিবুল্লাহ।

 

উখিয়া-টেকনাফ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাকিল আহমেদ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

বুধবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত নয়টার দিকে অজ্ঞাতনামাদের গুলিতে নিহত হন তিনি।অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হন রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ (৫০)। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (৮ এপিবিএন) পুলিশ সুপার (এসপি) শিহাব কা য়সার খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত বুধবার রাতে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হয় ।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) পোস্টমর্টেম শেষ করে কুতুপালং লম্বাশিয়া কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে কয়েক বছর আগে আরেক রোহিঙ্গা নেতা আরিফকেও হত্যা করা হয়।

 

এদিকে মাষ্টার মুহিবুল্লাহর মৃত্যুর খবরে বৃহত্তর রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় থমথমে বিরাজ করছে।

 

এশার নামাজের পর নিজ অফিসে অবস্থান করছিলেন মুহিবুল্লাহ। এসময় অজ্ঞাতনামা বন্ধুকধারীদের হামলায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি। দুর্বৃত্তরা বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করলে তিন রাউন্ড গুলিই তার বুকে লাগে বলে জানা গেছে।

 

রোহিঙ্গা নেতা হুহিবুল্লাহর ভাই হাবিব উল্লাহ জানান, আমার ভাইকে আরসা নামের একটি উগ্রপন্থি রোহিঙ্গা সংগঠনের সদস্যরা গুলি করে হত্যা করেছে।

 

সাধারণ মানুষ মনে করছে , রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য এই রোহিঙ্গা নেতা কাজ করেছে। এবং সম্প্রতি প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। এই প্রত্যাবাসন রুখতে মুহিবুল্লাহকে মেরে ফেলা হয়েছে। এতে মাদক কারবারিরাও জড়িত থাকতে পাওে বলে মনে করছে তারা ।

 

তারা বলেন, বাংলাদেশে থেকে এখন অনেক রোহিঙ্গা মাদকের ব্যবসা কওে কোটি টাকার মালিক বনে গেছে তারা চান না তাদের এই আস্তানা নষ্ট হয়ে যাক । অনেক রোহিঙ্গা এখন ক্যাম্প ছেড়ে জেলাসহ দেশের বিভিন্নপ্রান্তে ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে।

 

জানা গেছে, মুহিবুল্লাহ সবসময় বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক প্রত্যাবাসন দাবি করে এসেছেন। এ কারণে মিয়ানমার সরকারেরও কালো তালিকায় ছিলেন তিনি। তবে স্থানীয়ভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাসরত এখন অনেক রোহিঙ্গা আর মায়ামাএর ফেরত যেতে রাজি না থাকায় রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ তাদের জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ববাসীর নজরে এসেছিলেন তিনি। সে সময় গণহত্যা বিরোধী একটি সমাবেশে নাগরিত্ব প্রদান, নিরাপত্তা, রাখাইনে ফেলে আসা জন্মভিটা ফেরতসহ কয়েকটি দাবি পূরণ না হওয়ায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন এই রোহিঙ্গা নেতা।

 

জানা যায়, মুহিবুল্লাহ মিয়ানমারের আরকান মংডু এলাকার মৌলভী ফজল আহম্মদের ছেলে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ‘মাস্টার মুহিবুল্লাহ’ নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি। মিয়ানমার ছেড়ে আসার আগে সেখানকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন বলেই এমন নাম তার। ২০১৮ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ববাসীর নজরে এসেছিলেন তিনি। সে সময় গণহত্যা বিরোধী একটি সমাবেশে নাগরিত্ব প্রদান, নিরাপত্তা, রাখাইনে ফেলে আসা জন্মভিটা ফেরতসহ কয়েকটি দাবি পূরণ না হওয়ায় রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুহিবুল্লাহ।

 

মুহিবুল্লাহ ‘আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ)’ নামের একটি সংগঠন তৈরি করেছিলেন। যার চেয়ারম্যানও করা হয় তাকে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের চেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন তিনি। আর এই কারণেই খুন করা হয়েছে তাকে, এমনটাই দাবি স্বজনদের।

 

এ ব্যাপারে মুহিবুল্লাহর মেঝভাই হাবিবুল্লাহ জানান, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনা বাহিনীর নির্যাতনের কারণে প্রাণ বাঁচাতে মুহিবুল্লাহসহ তারা ৩ ভাই পরিবার নিযে পালিযে উখিয়ায় চলে আসেন। তাদের পরিবারে রয়েছে স্ত্রী ও ৯ সন্তান। যার মধ্যে মেয়ে রয়েছে ৫ জন ও ছেলে ৪ জন।

 

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ দিন ধরে একটি গ্রুপ আমার ভাইকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সে গ্রুপ হচ্ছে প্রত্যাবাসন বিরোধী।২০/২১ জন লোক আমার ভাইয়ের অফিসে আসে। তারা আমেরিকা বাংলাদেশ-মিয়ানমার এই তিন দেশ এর বিষয় ও প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা করে। এসময় মহিবুল্লাহ তাদের বলছিলেন, আমেরিকাসহ বিশ্ব সম্প্রদায় এখন একমত হয়েছে আমাদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরাও প্রস্তুত রয়েছি স্বদেশে ফিরে যাওয়ার জন্য। এ কথা বলার পর বন্দুকধারীরা আমার ভাইকে গুলি করে হত্যা করে। প্রত্যাবাসনের কারণে দীর্ঘদিন থেকে তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল।’

 

মুহিবুল্লাহর মূল উত্থান শুরু হয় যখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্ত হয় জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)। রোহিঙ্গাদের বক্তব্য জানতে মুহিবুল্লাহর সংগঠন ‘এআরএসপিএইচ’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করে ‘ইউএনএইচসিআর’। ইংরেজি ভাষা এবং রোহিঙ্গাদের ব্যবহৃত ভাষা জানায় দুই পক্ষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠেন তিনি। ধীরে ধীরে প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠেন বিদেশিদের।

 

২০১৮ সালের পর জাতিসংঘ মহাসচিবসহ যত বিদেশি প্রতিনিধি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গেছেন তাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই রোহিঙ্গা প্রতিনিধি হিসেবে মুহিবুল্লাহ ও তার সঙ্গীদের দেখা করানো হয়েছে। এই মুহিবুল্লাহই মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিবকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে মুহিবুল্লাহকে একাধিকবার আটক করে র‌্যাব। কিন্তু আবার প্রশাসনের নির্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয় তাকে।

 

জানা যায়, চলতি বছরের আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে খবর পাওয়া যায় যে ২২ আগস্ট প্রত্যাবাসনের দিন ঠিক করেছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এ খবর পাওয়ার পরই মুহিবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে এনজিওগুলো। ধীরে ধীরে মুহিবুল্লাহ রোহিঙ্গাদের প্রধান পাঁচ নেতার একজন হয়ে ওঠেন।

 

রোহিঙ্গাদের একটি সূত্রের দাবি, ক্যাম্পগুলোতে মুহিবুল্লাহ বিরোধী অন্য একটি সশস্ত্র গ্রুপও সক্রিয় রয়েছে। কিন্তু মুহিবুল্লাহর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সুসম্পর্ক থাকায় আলোচনায় ছিল তার সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস। আর এ কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারাও মুহিবুল্লাহর ভক্ত ছিলেন।

 

কক্সবাজার পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলাম প্রশাসন জানান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যেন অপ্রীতিকর কোন ঘঠনা না ঘটে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট