1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০২:১৭ পূর্বাহ্ন
নোটিশ ::
...Welcome To Our Website...

করোনা পরীক্ষার আড়াই কোটি টাকা আত্মসাত, লাপাত্তা টেকনোলজিস্ট

খুলনা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ২ অক্টোবর, ২০২১
  • ৫৮ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাস

খুলনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাস বিদেশগামীদের করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার গত ১০ অতিবাহিত হলেও সন্ধান মেলেনি। উক্ত ঘটনায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

 

এছাড়াও খুলনার সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন । তারপরও লাপাত্তা রয়েছেন তিনি।

 

খুলনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, খুলনা জেনারেল হাসপাতালে বিদেশগামীদের জন্য অতিমারি করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাস নমুনা পরীক্ষার ফি গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু তিনি দীর্ঘ ১৩ মাস ধরে প্রতিদিন যে পরিমাণ মানুষের করোনা পরীক্ষা করাতেন তার চেয়ে কমসংখ্যক মানুষের নাম খাতায় লিপিবদ্ধ করে সেই টাকা আত্মসাৎ করতেন। ওই সময় প্রকাশ দাস নমুনা পরীক্ষার ফি গ্রহণের যে তালিকা দিতেন সে অনুযায়ী হিসাবরক্ষক (ক্যাশিয়ার) সেই টাকা বুঝে নিতেন।

 

বিষয়টি সন্দেহ হলে এ ব্যাপারে গত ২২ আগস্ট জেনারেল হাসপাতালের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে তার প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে।

 

এ বিষয়ে গত ২২ সেপ্টেম্বর তার কাছে হিসাব চাওয়া হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তার হিসাব দেওয়ার কথা ছিল। ওই দিন দুপুরে অফিসে বসে হিসাব করার একপর্যায়ে তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে অফিস থেকে চলে যান। এরপর থেকে তিনি আর অফিসে আসেন না। তার বাসায় লোক পাঠিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) প্রকাশ কুমার দাসের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় জিডি করেন।

 

এছাড়া তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ দাস যাতে পালিয়ে যেতে না পারে সে ব্যাপারে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) কমিশনারকে অনুরোধ করেন।

 

সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ জানান, প্রকাশকে হাসপাতালে আসার জন্য তার ঠিকানা বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রকাশের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার সন্ধান মেলেনি। তবে, গত ২৯ সেপ্টেম্বর নগরীর মুজগুন্নির বাসায় তার ঠিকানায় পাঠানো কারণ দর্শানোর নোটিসটি তার স্ত্রী মাধবী রানী দাস গ্রহণ করেছেন। এ সময় মোবাইল ফোনে প্রকাশের স্ত্রী মাধবী রানী দাসের তার স্বামীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিকালে কথা বলবেন বলে জানালেও সেও আর কথা বলেননি।

 

সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ আরো বলেন, টেকনোলজিস্ট প্রকাশ দাসের সন্ধান পাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। এ ব্যাপারে থানায় জিডি, দুদকে অভিযোগ করার পাশাপাশি কেএমপির পুলিশ কমিশনারের কাছেও সহায়তা চাওয়া হয়েছে।

 

এদিকে, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট কর্তৃক করোনা পরীক্ষার ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা লোপাটের ঘটনায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, খুলনা জেলার নেতৃবৃন্দ এক বিবৃতিতে দ্রুত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট ল্যাব টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাসসহ দোষীদের কঠিন শাস্তির দাবি করেছেন।

 

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আল মামুন জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলস্টি প্রকাশ দাসের বিরুদ্ধে খুলনা থানায় জিডি করেছেন খুলনা সিভিল সার্জন ডা. নিয়াজ মোহাম্মদ। সেখানে করোনা টেস্টের ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করায় প্রকাশকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পরের দিন সকালেই জিডির বিষয়টি দুদককে জানানো হয়েছে।

 

দুদক খুলনা উপ-পরিচালক নাজমুল হাসান জানান, খুলনা জেনারেল হাসপাতালের ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি অবহিত হয়েছি। অভিযোগটি ঢাকা অফিসকে জানানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ এলেই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

পলাতক খুলনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলস্টি প্রকাশ কুমার দাস যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার জামদিয়া ইউনিয়নের ঘোড়ানাচ গ্রামের মৃত সুরেন্দ্রনাথ দাসের ছেলে। খুলনায় তার ঠিকানা মুজগুন্নী আবাসিকের ১০ নম্বর সড়কের ১২৮ নম্বর বাড়ি। তার স্ত্রী মাধবী রানী দাস খুলনা শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের একজন ফার্মাসিস্ট।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট