1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২২, ০১:২১ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
...Welcome To Our Website...

কাশবনে ছেয়ে গেছে চরাঞ্চল

মমিনুল ইসলাম বাব, কুড়িগ্রাম
  • প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৮০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার কাশবনে ছেয়ে গেছে ব্রক্ষপুত্রের চরাঞ্চলগুলোতে প্রকৃতিতে কাশফুলের রাজত্ব দেখে যে কারোই চোখ-মন জুড়িয়ে যাবে। কাশফুলের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন প্রকৃতি প্রেমীদের পদচারণে মুখরিত বিশেষ করে উপজেলার চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি, করাইবরিশাল এলাকায়।

 

প্রকৃতির এই সৌন্দর্য আরও বাড়িয়েছে চরাঞ্চলের বড় বড় ঝাউ গাছগুলো। কাশফুলের বাতাসে দোল খাওয়ার দৃশ্য যেন মন কাড়বে সবার। প্রতি বছর শরতের এই সময়টাতে চরাঞ্চলে শহরের মানুষের পদাচারণ পড়ে।শরতের শেষ বিকেল। থেমে থেমে বৃষ্টি। কালো মেঘের আবরণ ভেদ করে উঁকি দিচ্ছে মিষ্টি রোদ। সাদা মেঘের মিটিমিটি হাসি যেন শুভ্রতা ছড়াচ্ছে চারদিকে। ফুটেছে রঙিন শিউলি। সাদা কাশফুল শারদ বন্দনার কলরবে মেতে উঠেছে। শরত শোভায় প্রকৃতিতে সাজ-সাজ রব। নীল আকাশে চলছে সাদা-কালো মেঘের লুকোচুরি। কখনো কালো মেঘে আবার কখনো সাদা মেঘের আভরণে লুকিয়ে হাসছে সোনালী সূর্য।

 

পড়ন্ত বিকেলে মুহুর্তের দৃশ্য অন্য রকম। কেউবা স্ব-পরিবারে ঘুরতে আসেন আবার কেউ প্রিয়জনের সঙ্গে এসেছেন সোনালী শরতের মিষ্টি গন্ধের স্বাদ নিতে অনেকেই ছবি তুলে ফেসবুকে পোষ্ট দিচ্ছেন। এভাবেই ঘুরতে আসা দর্শণার্থীরা কাশবনে ব্যস্ত সময় পার করেন। কাশফুল মূলত ছন গোত্রীয় এক ধরনের ঘাস। ঘাস জাতীয় উদ্ভিদটি উচ্চতায় সাধারণত সাত-আট ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। গাছটির চিরল পাতার দুই পাশ বেশ ধারালো। কাশবন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি করে না এর রয়েছে নানা ঔষধি গুণও। নদীর ধার, জলাভূমি, চরাঞ্চল, শুকনো এলাকা, পাহাড় কিংবা গ্রামের উঁচু স্থানে কাশের ঝাঁড় বেড়ে ওঠে। তবে নদীর তীরেই কাশফুল বেশি জন্মাতে দেখা যায়। গ্রাম বাংলার অপরূপ শোভা কাশবন চিরচেনা দৃশ্য হলেও এই কাশবন এখন আগের মতো চোখে পড়ে না।

 

পার্শ্ববর্তী উলিপুর উপজেলা থেকে আসা কলেজ শিক্ষার্থী লাভলী খাতুন বলেন, অনেকের কাছ থেকে শুনেছি চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের করাইবরিশাল এলাকায় কাশফুল বাগান দেখলেই মনটা জুড়ে যায়। তাই আমার পরিবারের ভাই বোনকে এখানে নিয়ে এসেছি। কাশফুল সত্যি প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। শহরের এমন দৃশ্য চোখে পড়ে না। আমাদের গ্রাম বাংলার অনেক ফুল হারিয়ে গেছে। তবে এখন নদী তীরবর্তী চরে কাশবন দেখে আসলেই মনটা ভালো হয়ে যায়।

 

কুড়িগ্রাম সদরের চামড়ার গোলা এলাকার শিক্ষার্থী মাসুদ, জনি বলেন, কাশফুল সত্যি প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। শহরের এমন দৃশ্য চোখে পড়ে না। তবে এখন নদী তীরবর্তী চরে কাশবন দেখে আসলেই মনটা ভালো হয়ে যায়।

 

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, চরের পরিত্যক্ত বালু জমিতে একাই হয় কাশিয়া। এর জন্য কোন টাকা-পয়সা খরচ করে আবাদ করা লাগে না। কাশিয়া সাত-আট ফুট লম্বা হয়। এর ফুল আড়াই থেকে তিন ফুট ফুল হয়। বছরে একবারই কাশিয়া হয়।কার্তিক মাসে এই কাশিয়া কাটা হয়। এক বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ শ থেকে ২ হাজার কাশিয়ার আটি হয়। কাশিয়া কেটে ১৪ ইঞ্চি করে আটি বেঁধে ১০/১৫ টাকা করে বিক্রি হয়। গড়ে প্রতিবিঘা জমির কাশিয়া থেকে ১০/১৫ হাজার টাকা আসে। কার্তিক মাসে চরের অভাব দেখা দেয়। কাশিয়া বিক্রি করে যে টাকা আসে তাতে কার্তিক মাসের অভাব পার হয়ে যায়।

 

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজর উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মির্জা মো. নাসির উদ্দিন বাংলা টাইমসকে বলেন, কাশফুল শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য্য বাড়ায় না ঔষধি গুণও রয়েছে। মানুষের পিত্তথলিতে পাথর এবং শরীরে কোথাও ফোঁড়ার সৃষ্টি হলে সেই ব্যথা উপশমে কাশফুলের মূল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কাশ আমাদের পরিচিত উদ্ভিদ হলেও এর আদিনীবাস রোমানিয়ায়। এর ইংরেজি নাম ক্যাটকিন এবং বৈজ্ঞানিক নাম হলো স্যাকরারাম এসপোটেনিয়াম।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট