1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২১ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
...Welcome To Our Website...

বজ্রপাত থেকে বাঁচতে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প, ৪০ মিনিট আগে জানা যাবে তথ্য

রতন কুমার
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৬২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে থাকছে অ্যালার্মিং সিস্টেম, হাওর ও ফাঁকা স্থানে ছাউনি তৈরি এবং জনসাধারণকে সচেতন করা। বজ্রপাতপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৩টি জেলায় তৈরি করা হবে এক হাজার ছাউনি।

 

জানা যায়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ অ্যালার্মিং সিস্টেম ও বজ্র নিরোধক দণ্ড ব্যবহার করে হতাহতের সংখ্যা কমাতে সক্ষম হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বাংলাদেশেও সেই সিস্টেম চালু হচ্ছে।

 

জানা গেছে, বজ্রপাত থেকে মানুষকে রক্ষায় এরই মধ্যে দেশের গবেষকদের নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান সেমিনারও করেছেন। পরামর্শ ও বিদেশের বজ্রনিরোধক সিস্টেমের খোঁজখবর নিয়ে মন্ত্রণালয়ের ৩০০ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার অনুমোদন সাপেক্ষে প্রজেক্টটি গতি পাবে।

 

জানা গেছে, এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের যখন যে এলাকায় বজ্রপাতের আশঙ্কা দেখা দেবে, তখন ওই এলাকার বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে মেসেজ যাবে। এই ম্যাসেজের মাধ্যমে জানা যাবে কখন, কোন জায়গায় বজ্রপাত হবে। বজ্রপাতের অন্তত ৪০ মিনিট আগেই তথ্য জানানো যাবে। আবহাওয়া বার্তার মতো প্রচারমাধ্যমেও তা প্রচার করা হবে। এর ফলে বজ্রপাতের মেসেজ পাওয়ার সাথে সাথে অত্র এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে চলে যেতে পারবেন।

 

সুনামগঞ্জ, সিলেট, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাজশাহীসহ দেশের ২৩টি জেলাকে বজ্রপাতপ্রবণ জেলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই জেলাগুলোতে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এক হাজারটি ছাউনি তৈরি করা হবে, যার ওপরে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড ব্যবহার করা হবে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বজ্রপাত থেকে মানুষকে বাঁচাতে একটি প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতপ্রবণ জেলাগুলোতে লাইটিং ডিটেক্টর সেন্টার বসাব। ৪০ মিনিট আগে সিগন্যাল দেবে।

 

তিনি বলেন, বজ্রপাতপ্রবন এলাকার ফাঁকা স্থানে এক কিলোমিটর ব্যবধানে আশ্রয়কেন্দ্র করা হবে। যাতে সিগন্যাল পাওয়ার সাথে সাথে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলেই কাজ শুরু হবে।

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, চলতি বছর ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে বজ্রপাতে ২৮২ জন মারা গেছে। এরমধ্যে ঢাকা বিভাগে ৪২, ময়মনসিংহে ৩০, চট্টগ্রামে ২৩, সিলেটে ২৫, রংপুরে ২৭, রাজশাহীতে ১০৪, বরিশালে ১০ ও খুলনায় ২১ জন। মৃত্যুর দিক থেকে বেশি এগিয়ে রাজশাহী।

 

পরিসংখ্যান মতে, ২০১১ সালে মারা যায় ১৭৯ জন। ২০১২ সালে ২০১, ২০১৩ সালে ১৮৫, ২০১৪ সালে ১৭০, ২০১৫ সালে ২২৬, ২০১৬ সালে ৩৯১, ২০১৭ সালে ৩০৭, ২০১৮ সালে ৩৫৯, ২০১৯ সালে ১৯৮ জন ও ২০২০ সালে ২৪৭ জন।

 

ভৌগোলিক অবস্থান বাংলাদেশে বজ্রপাতের মূল কারণ বলে বিশেষজ্ঞদের ধারনা। বড় বড় গাছ কেটে ফেলাও এর অন্যতম কারণ। উঁচু গাছপালা বজ্রনিরোধক হিসেবেও কাজ করে। খোলা স্থানে মানুষের কাজ করা এবং বজ্রপাতের বিষয়ে অসচেতনতাও বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ার জন্য দায়ী। তাপমাত্রা বাড়লেও বজ্রপাতের সম্ভাবনা বাড়ে।

 

সিনিয়র আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ জানান, অ্যালার্ম সিস্টেমে আগে থেকেই মানুষকে সচেতন করা যাবে। গাছ বজ্রপাত নিরোধক হিসেবে কাজ করত। কিন্তু বড় বড় গাছপালা কেটে ফেলা হচ্ছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট