1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
নোটিশ ::
...Welcome To Our Website...

একজন অনুকরনীয় পুরুষ আহমেদ আকবর সোবহান

সুপন রায়
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৫২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সমাজে যখন মুর্খ আর স্বার্থপর মানুষদের রাজত্ব চলছে তখন মাথা উঁচু করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। মানুষের কাজই তার মানদন্ড তৈরী করে দেয়। আমাদের সমাজে নীতিবাচক মানুষের সংখ্যা অনেক। ইতিবাচক চরিত্র বা পজেটিভ চরিত্রের মানুষ খুঁজে পাওয়াই দায়। এই অল্পকিছু মানুষের মধ্যে দেশ ও মানুষের কল্যাণে যিনি সর্বদা কাজ করে যাচ্ছেন এমনই একজন- আহমেদ আকবর সোবহান।

 

দেশে অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান রয়েছে কিন্তু বিপদগ্রস্ত মানুষকে নিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের ভাবার সময় ও মানসিকতা তৈরী হয়নি। তেমনি দেশে কোটিপতির সংখ্যাও একেবারে কম নয়, কিন্তু ক’জন গরীব, দুঃখী, বিপদগ্রস্ত অসহায় মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসে? এমনই প্রতিকূল সময়ে যে মানুষটি দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সেই দানশীল আলোকিত মানুষটি আহমেদ আকবর সোবহান।

 

আমাদের দেশে সাংবাদিকদের মূল্যায়ন সাধারণত হয় না। তারা আগেও অত্যন্ত কম আয় করেও সমাজের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করতো, এখনো করে আসছে। তারা প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন স্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুরুতর জখম বা অসুস্থ হলে সাধারণত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করার মতো কেউ থাকে না। বেশিরভাগ সময় নিজ প্রতিষ্ঠানও এগিয়ে আসে না। তখন নিজেকে কতটা অসহায় মনে হয় তা ভুক্তভোগীরা ভালভাবেই জানেন। এখানে তিনি অন্যদের চেয়ে নিজেকে অনন্যকরে তুলেছেন।

 

সত্তরের দশকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে প্রতিশ্রুত দিয়ে এ দেশে রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে পথচলা শুরু হয় বসুন্ধরা গ্রুপের। আহমেদ আকবর সোবহান এ দেশে সুদ এবং সার্ভিস চার্জবিহীন ঋণের প্রবক্তা। এতদিন যারা মানবেতর জীবনযাপন করতেন, এখন তারাই ক্ষুদ্র ব্যবসা ও পশুপালনের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করছেন। দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্প প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান ২০০৫ সালে বসুন্ধরা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন। ফাউন্ডেশন পশু পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ ৩৩ খাতে হতদরিদ্র পরিবারকে সুদমুক্ত ঋণ প্রদান করে আসছে কোনো রকম জামানত ছাড়াই।

 

এছাড়া বন্যা, সাইক্লোন, টর্ণেডো, ঘূর্ণিঝড়, রানা প্লাজা ট্রাজেডীসহ যে কোন দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। ৮৮ বন্যা থেকে শুরু করে সর্বশেষ সাভার রানা প্লাজা ট্রাজেডী। কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারের মেয়েকে সৎপাত্রের হাতে তুলে দেয়া, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ সহ নানা প্রতিষ্ঠানে অকাতরে দান করে বসুন্ধরা গ্রুপ। মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার খরচ এবং বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। শুধু তাই নয় মানিকগঞ্জ ও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় ফ্রি ফাইডে ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছে।

 

খাবার পানি সংকট নিরসনে দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে গভীর ও অগভীর নলকূপ বসিয়েছেন। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, কালভার্ট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তৈরি বা সংস্কারে তিনি দু’হাতে দান করেছেন।

 

এই মানবতাবাদী ও সমাজসেবকের আরো একটি বড় কাজ হলো সমাজের সুবিধা বঞ্চিত মা ও শিশুদের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা দেওয়ার জন্য বসুন্ধরা-আদ্ দ্বীন হাসাপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। এখানে কম খরচে আধুনিক চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। গরীবদের দেয়া হয় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা।

 

অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী আহমেদ আকবর সোবহান উদার মনোভাবের পাশাপাশি সহজ-সরল জীবনযাপন এবং সদাহাস্যমুখ, সুন্দর আচার-ব্যবহারের কারণে মানুষকে খুব সহজেই আপন করতে পারেন।

 

তিনি সব সময় বলেন, আমি একা-ই ভালো থাকব, তা কখনো কাম্য নয়। বরং দেশের মানুষ সবাই ভালো থাকুক, ভাল থাকার অবলম্বন খুঁজে পাক, এটাই আমার কাম্য। বিপদাপন্ন কোন সাংবাদিককে টাকার জন্য অন্য কোথাও যেতে না হয়।

 

জন্ম ও শিক্ষাজীবন : আহমেদ আকবর সোবহানের জন্ম ১৯৫২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার ইসলামপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে। তার বাবা আলহাজ্ব আবদুস সোবহান ছিলেন ঢাকা উচ্চ আদালতের আইনজীবী এবং মা উম্মে কুলসুম ছিলেন গৃহিনী। দুই ভাই ও চার বোনের মধ্যে আকবর সোবহান সবার ছোট। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অধ্যয়ন বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে আহমেদ আকবর সোবহান ছিলেন সুস্বাস্থ্যের অধিকারী একজন ক্রীড়াবিদ এবং সহপাঠীদের মধ্যে সবচেয়ে চৌকষ।

 

কর্মজীবন : ১৯৮৭ সালে আহমেদ আকবর সোবহান অভ্যন্তরীণ সেবা খাতে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যবাসয়িক যাত্রা শুরু করেন। বসুন্ধরা গ্রুপের পথচলা শুরু ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট (প্রাঃ) লিমিটেড প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে। যা পরবর্তীকালে বসুন্ধরা হাউজিং হিসেবে খ্যাতি লাভ করে। গুণগত মান এবং সর্বোচ্চ সেবার নিশ্চয়তা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি হয়ে উঠেছে ভোক্তাদের আস্থার অন্য নাম।

 

সততা, নিষ্ঠা, ধৈর্য্য এবং নিরলস প্রচেষ্টায় নিজ হাতে তিনি বসুন্ধরা গ্রুপকে নিয়ে এসেছেন আজকের এই বিশাল ব্যাপ্তি এবং বিরাট অবস্থানে। ইস্পাত ও প্রকৌশল, কাগজ, টিস্যু, সিমেন্ট, এলপি গ্যাস, স্যানিটারি ন্যাপকিন, কাগজজাত পণ্য, ড্রেজিং, জাহাজ শিল্প, খাদ্য ও পানীয়, লোহার নল উৎপাদনসহ অন্তত তিন ডজনেরও বেশি নানা মাত্রার বৃহৎ শিল্পখাতে নিজেদের ব্যবসায়ের ব্যাপ্তি বিস্তার করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা গ্রুপের শিল্পোদ্যোগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নানা পণ্যে আমদানিনির্ভরতা কমেছে। বসুন্ধরা গ্রুপ কেবল ব্যবসায়িক খাতই নয়, তৈরি করেছে বিরাট কর্মক্ষেত্রও।

 

এই গ্রুপের নানা প্রতিষ্ঠানে সরাসরি কর্মরত আছেন প্রায় ৫০ হাজার কর্মী। এছাড়াও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বসুন্ধরা গ্রুপে কাজ করছেন প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ। রাজস্বখাতে বিরাট অবদানের মাধ্যমে দেশীয় আর্থসামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখছে বসুন্ধরা।

 

পুরস্কার ও সম্মাননা : সামাজিক খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ১৯৯২ কাজী নজরুল ইসলাম পদক বাংলাদেশ সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ, ১৯৯৩ মাওলানা ভাসানী জাতীয় পদক মাওলানা ভাসানী জাতীয় স্মৃতি পরিষদ, জাতীয় আবাসন খাতে বিশেষ অবদানের জন্য। প্রেসিডে›ন্ট গোল্ড মেডেল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, ১৯৯৪ রিয়েল স্টেট খাতে বিশেষ অবদানের জন্য। ২০০১ অর্থকণ্ঠ বাণিজ্য পদক দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতি বিষয়ক সাপ্তাহিক অর্থকণ্ঠ, বাণিজ্য খাতে বিশেষ অবদানের জন্য ২০০২ জনতা ব্যাংক প্রাইম কাস্টমার অ্যাওয়ার্ড জনতা ব্যাংক লিমিটেড, ২০০২ ইউএসএ সামিট ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ২০০৭ বিজনেস লিডারশীপ অ্যাওয়ার্ড, ২০০৯ বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সংগঠন পদক বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সংগঠন ২০১০ অগ্রণী ব্যাংক বেস্ট ক্লায়েন্ট অ্যাওয়ার্ড অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড। ২০১১ বিবেকানন্দ অ্যাওয়ার্ড ভারত। তিনি বাংলাদেশের রিয়েল এষ্টেট খাতকে শিল্পে রূপান্তর করার নিপুণ কারিগর।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট