1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
ড্রইংরুমে চা-কেক খেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় খুন! - বাংলা টাইমস
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:২১ অপরাহ্ন

ড্রইংরুমে চা-কেক খেয়ে ঠাণ্ডা মাথায় খুন!

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৮৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

আশঙ্কাই সত্যি হল, বেহালার পর্ণশ্রী খুনে গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেফতার হল পরিবারেরই দুই সদস্য। সুস্মিতা মণ্ডল ও তার ছেলেকে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে সু্স্মিতার মাসতুতো দুই ভাই সঞ্জয় দাস ও সন্দীপ দাসকে। তাদের স্বীকারোক্তিতে জানা গেছে লুঠের উদ্দেশ্যেই খুন করা হয়েছে।

 

জানা গেছে, মাস কয়েক আগে সঞ্জয়ের স্ত্রীর প্রথম পক্ষের ছেলের বিয়ে হয়। সেই সময় প্রচুর টাকা ধার হয়। একমাস আগে বোন সুস্মিতাকে ফোন করে পাঁচ হাজার টাকা ধার চেয়েছিলেন সঞ্জয়। কিন্তু সুস্মিতা দিতে পারেননি। তবে সঞ্জয় জানতেন সুস্মিতার গয়না কেনার ঝোক আছে। তিনি ভাবেন সুস্মিতার বাড়িতে গয়না থাকতে পারে। সেই গয়না লুঠের উদ্দ্যেশে পরিকল্পনা করে সঞ্জয়।

 

ঘটনার দিন সকালে বজবজ এলাকার নিজের বাড়ি থেকে বাইকে প্রথমে তারাতলা আসেন সঞ্জয়। সেখানে ভাই সন্দীপকে সঙ্গে নেয়। এরপর পর্ণশ্রীর সুস্মিতার ফ্ল্যাট যান দুজন।মাস্ক পরেছিলেন দুজনে। তাই প্রথমে দরজা খোলেননি সুস্মিতা। পরে দু’জনে মাস্ক খুলতেই দরজা খুলে দেন সুস্মিতা। এরপর দু’জনে ভিতরে ঢুকে পড়েন।

 

ড্রইংরুমে বসে চা ও কেক খান। এরপর কথা বলতে বলতেই সঞ্জয় হঠাৎ উঠে ধারাল ছুরি দিয়ে সুস্মিতা গলায় প্রথম আঘাত করে। সুস্মিতা দৌড়ে বেডরুমে পালায়। পিছনে ছুটে যায় সঞ্জয়। সেখানে গিয়ে এলোপাথারি ভাবে ছুরি চালাতে থাকে সুস্মিতার ওপর।

 

তবে প্রথম ছুরি চালানোর আগে সঞ্জয়কে তার ছোট ভাই সন্দীপ চোখের ইশারা করে নিষেধ করেছিলেন বলে জেরাতে বলেন সন্দীপ।সুস্মিতাকে যখন তার ভাই মারছে তখন পাশের ঘর থেকে সুস্মিতার ছেলে চলে আসে। সঞ্জয় সন্দীপকে দেখে ফেলে। সেই জায়গা থেকে ভাগ্নেকেও খুন করে সঞ্জয়।

 

খুনের পর বেসিন ও সিঙ্কে হাত ধুয়ে দুজনে প্রায় ৪৫ মিনিট ছিল ফ্ল্যাটে। এমনকি রাতে যখন অন্যান্য আত্মীয়রা সুস্মিতার মৃত্যুর খবর পেয়ে আসেন, এই দুই ভাইও এসেছিলেন। খুনের আগে সঞ্জয় এলাকায় এসে দুতিন দিন ধরে রেইকি করেছিল আশেপাশে কোনও সিসিটিভি ফুটেজ আছে কিনা। এমনকি সে নিজে যেহেতু সিসিটিভির কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি জানতেন সুস্মিতাদের ফ্ল্যাটের সিসিটিভিগুলি কাজ করছে না। সেই বিষয়টিকেও কাজে লাগায় সঞ্জয়।

 

খুনের পর সুস্মিতা ও তপন বাবুর আত্মীয় ও ঘনিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা। একের পর এক আত্নীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গিয়ে পুলিস জানতে পারে তারা সকলেই সুস্মিতার বাড়ির কাছেই থাকে। এমনকি প্রত্যেকের সঙ্গেই খুব নিবিড় সম্পর্ক। ফোন করা, বাড়িতে যাতায়াত লেগেই থাকত। এরই মাঝে পুলিশ এটাও জানতে পারে সুস্মিতা এক মাসি তার ছেলেরা বজবজে থাকে। এদের সাথে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব রয়েছে।

 

সঞ্জয় শেষ এসেছিলেন একমাস আগে। সেই সময় বোনের কাছে টাকা ধার চেয়েছিলেন। এই বিষয়টি যেমন জানতে পারেন গোয়েন্দারা, তেমন এটাও জানতে পারেন ঋণের বোঝায় জর্জরিত সঞ্জয়। এরপর তাকে জেরা করা শুরু করেন তদন্তকারীরা। গতকাল বিকেলে লালবাজারে তুলে আনা হয়। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ জারি রাখা হয়।

 

উল্লেখ্য, এ পর্বে পুলিশ সঞ্জয়ের শরীরে বেশ কয়েকটি আঘাতের দাগও দেখতে পায়। সেগুলি সন্দেহ আরও বাড়ায়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর খুনের কথা স্বীকার করে নেয় সঞ্জয়। ভাই সন্দীপকেও এদিন বিকেলে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেও পুলিসের সামনে কেঁদে ফেলে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট