1. [email protected] : admin :
  2. [email protected] : Editor :
বানভাসিদের ভরসা নৌকা - বাংলা টাইমস
সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ১১:২৪ অপরাহ্ন

বানভাসিদের ভরসা নৌকা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৭২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সিরাজগঞ্জে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে যমুনা, ইছামতি, করতোয়া, ফুলজোড় ও বড়ালসহ সকল নদ-নদীর পানি। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। এছাড়া নিচু এলাকার বাড়িঘরেও পানি প্রবেশ শুরু করেছে। এতে জেলার ৫টি উপজেলার অন্তত ৪০টি ইউনিয়নের এক লাখেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছে।

 

বন্যার পানিতে রাস্তাঘাট ও ব্রীজ ভেঙ্গে যাতায়াতে বেড়েছে দুর্ভোগ। তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চল ও চলাঞ্চলের বিভিন্ন রাস্তাঘাট। ফলে বানভাসি মানুষদের এখন একমাত্র ভরসা নৌকাই।

 

শুক্রবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯ টায় সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি পরিমাপক আব্দুল লতিফ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপদসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে এবং কাজিপুরের মেঘাই ঘাট পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

 

জেলায় যমুনা নদীর সবগুলো পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অভ্যন্তরীণ নদ-নদী চলনবিল, ইছামতি, করতোয়া, ফুলজোড়, বড়াল ও হুড়াসগরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার নদী তীরবর্তী নিমাঞ্চল ও চরাঞ্চলসহ জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে মানবেতন জীবন-যাপন করছে লাখো পরিবার।

 

দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়িতে পানি ওঠায় চরাঞ্চলের পানিবন্দি বন্যার্ত মানুষ নৌকায় এবং উঁচু স্থানে বসবাস করায় জ্বালানির অভাবে রান্না করা খাবার, শিশুখাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের সংকটে পড়েছে।

 

একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকায় নদী ভাঙনের আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে নদীপাড়ের মানুষ। এরই মধ্যে নদী ভাঙনে অনেক পরিবারের ঘর-বাড়ি, বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একটানা বন্যার কারণে অনেক পরিবার ক্ষেতের ফসল ও গবাদি পশুসহ সহায়-সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, বাড়িতে পানি ওঠার খবর আমরা পাইনি। তবে চরাঞ্চলের প্রায় এক লাখেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যাকালীন দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য সাড়ে ৫শ’ টন চাল ও নগদ আড়াই লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। এছাড়াও উপজেলাগুলোতে মোট ১২৫ টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

 

সিরাজগঞ্জ সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ জানান, অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে নিম্নাঞ্চলের ৭ হাজার ৬২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এসব ফসলের মধ্যে রোপা আমন, বোনা আমন, আগাম সবজি, আখ বীজতলা ও বাদাম রয়েছে। তবে পানি নেমে গেলে ফসলের ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যাবে।

 

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী জাকির হোসেন বলেন, যমুনায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীর অভ্যন্তরীণ নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। আরও দু’একদিন পানি বাড়তে পারে বলে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে।

 

জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ জানান, ইতোমধ্যে জেলায় ৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাড়ে ৫শ’ টন চাল ও নগদ আড়াই লাখ টাকা মজুদ রয়েছে। এছাড়াও উপজেলাগুলোতে মোট ১২৫ টন চাল মজুদ রাখা হয়েছে। তবে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকা করে বন্যার্তদের মাঝে তা দ্রুত বণ্টনের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ
© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায় সিসা হোস্ট